![]() |
| কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৪৫ |
হোলি
-এই। আমাকে রঙ দিবি না একদম। আমার একটাই ইউনিফর্ম...
বর্ণিতা বললেও তার কোনও প্রভাব
পড়ল না শান্তার উপর। বর্ণিতা মুখ জুড়ে লাল নীলরঙ আর আবীর তখন। বর্ণিতাই বা ছাড়বে কেন!
স্কুল চলাকালীন এই শেষ হোলি। সামনের বছর কে কোথায় থাকে, কোন কলেজে চলে যায়, কে জানে!
-চল। পুকুরপাড়ে গিয়ে বসি।
দুজনে তালপুকুরের ঘাটে গিয়ে বসল।
সূর্য ডুবন্ত। এখান থেকে সাইকেলে করে যে যার গ্রামে ফিরতে হবে। বর্ণিতার কোলে মাথা
রেখে শুয়ে পড়ল শান্তা। বর্ণিতা ওর মাথায় বিলি কাটতে কাটতে বলল, "হ্যাঁ রে শান্তা,
সোনালী বলছিল ওর বয়ফ্রেণ্ড আসবে কাল।"
-হ্যাঁ। তো?
-তোর দুঃখ হয় না? কোনও ছেলে আমাদের
রঙ দিল না?
-না। তোর হয় বুঝি?
-ঠিক তা না...
বর্ণিতা উদাস হয়ে চেয়ে রইল দিগন্তর
দিকে। শান্তা উঠে ওর মুখোমুখি বসে বলল, "হয়েছে কী তোর?"
-কিছু না। এমনিই।
শান্তা এবার বর্ণিতার কাঁধে মাথা
রেখে বলল, "আমি তোর সঙ্গে থাকলে তোর অস্বস্তি হয়?"
-তা কেন?
-তাহলে কি?
-ভাবি। এই যে হোলি খেলা। এতো রাধাকৃষ্ণর
মিলন। পুরুষ আর নারীর লীলা। অথচ এই গার্লস স্কুলে কোনও ছেলে আমার দিকে তাকায় না।
-তোর এতে কষ্ট হয়?
-ঠিক কষ্ট নয়, কৌতূহল হয়। আমার
ভিতর কী কোনও ঘাটতি আছে...
কথা শেষ করতে পারল না বর্ণিতা।
তার ঠোঁটের উপর তখন ঠোঁট রেখে থামিয়ে দিয়েছে শান্তা। সেই চুম্বন সঘন হয়ে উঠল ক্রমশ
গোধূলির মতো। দুজনেই হাঁপাচ্ছে। শান্তা ক্রমশ নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, "কেমন লাগল?"
-খুব ভালো।
-মনে হল, কোনও ঘাটতি আছে তোর?
-না।
শান্তা এবার সালোয়ার আর আঁচল ঠিক
করে নিয়ে বলল, "তখন আমার আটবছর বয়স। বাবা রোজ মাতাল হয়ে এসে মাকে পেটাত। মাথা
ফেটে গেছে কতোবার। ওই অবস্থাতেই মেলামেশা করত। মার কষ্ট হত। বুঝতে পারতাম। বলতে পারতাম
না কিছু। সেদিন থেকেই এই পুরুষজাতটাকে আমি ঘেন্না করি।"
-আমিও তোর সঙ্গে থাকলে সেফ ফিল
করি। চারপাশে যা ঘটে, ওদের বিশ্বাস করতে ভয় হয়। ওদের কথা ভাবলে সত্যিই ভয় হয় মনের ভিতর।
-আর আমি থাকলে?
-আনন্দ হয়। শান্তি লাগে।
দুজন আবার চুম্বনে ডুবে গেল।
-তাহলে? শুধু ছেলে আর মেয়ের ভিতরেই
প্রেম হতে হবে বুঝি?
রক্তিম আকাশে কে যেন আবীর গুলে
লাগিয়ে দিল দুজনের গালে!

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন