![]() |
| কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৪৫ |
অদূরবর্তী
পাশাপাশি শুয়ে, মাঝে অদৃশ্য দেওয়াল। আজ তৃতীয় দিন এভাবেই। সারাদিনের অভাব-অভিযোগ, মান- অভিমান রাতের বালিশে মাথা ছোঁওয়াতেই ম্যাজিক হয়ে উবে যায়, একটা বালিশ চাপমুক্ত হয়ে বিশ্রামে থাকে আর দুজনে একটাতেই জড়িয়ে পেঁচিয়ে শুয়ে থাকে সারারাত। ভুলে যায় সন্ধ্যায় একজন বলেছিল, "কোনদিনও কথা বলব না আর" অথবা অন্যজন "এক ছাদের তলায় আর নয়" বলে সোফার কুশন ছুঁড়ে ফেলেছিল মেঝেতে। মোটকথা মিটে যাবেই রাতের বিছানায়, অভিজ্ঞতা সতেরো বছরের। এমন সরে থাকা বেমানান। গত দু’রাত চোখের পাতা এক করতে পারেনি রিমা, কতবার মনে হয়েছে সব ভুলে পাশ ফিরে হাত-পা তুলে দেয় বিভাসের গায়ে। পরক্ষণেই মনে হয়েছে, অকারণ ঝামেলা করা সহ্য করা যায় না। পাশের জনও যে ঠিকমতো ঘুমোচ্ছে না টের পাচ্ছে, তা হোক। আর সহ্য করা ঠিক না, কাল থেকে আর এই বিছানায় শোবে না, মেয়ের ঘরে থাকবে। দেওয়া কথা তো কতই রাখা হয়নি, বিছানা আলাদা না হওয়ার দেওয়া কথাও ভুলে যাবে। ফোনে দেখল দুটো আট, চোখ বুজে উল্টো গোনা যেতে পারে। বিভাস কেমন একটা আওয়াজ করছে, গোঙানির মতো, শরীর খারাপ? শব্দটার জোর যেন বাড়লো, লাফ দিয়ে উঠে বসে রিমা।
- "কী হয়েছে? জল দেব?"
কপালে হাত দিয়ে - "খুব ব্যথা",
বলে বিভাস।
রিমা জানে ব্যথা কীভাবে কমে। বিভাসের
কপালে হাত রাখে।

সম্পাদককে অনেক ধন্যবাদ
উত্তরমুছুন