| কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৫২ |
ছুরি বিদ্যার শব্দ
বসে থাকতে থাকতে ক্লান্ত। শূন্যকাব্যেরও গল্প একটা আছে। ধীর স্থির অথবা খুব মাংসের দখলে থাকা বাজিকরের মতো। সুইসাইডের দারুণ টেকনিক।
অন্য মানুষের মতো ফোকাসড। আইডিয়াটা নিদারুণ ছকে সাজানো। অথবা একটা সময় অমরত্বের খোঁজে সব এলোমেলো করে বেরিয়ে আসা। হাতে বারো ঘন্টা সময়। টিমটিম কুপিবাতির সলতে। ম্যানিয়া, অ্যানজাইটি বসন্ত বিলাপের বিন্যাস। শেষ বিদায়ের রাতে নেমে কিছুটা নার্ভাস। সাকসেস লিমিট। পুতুল নাচের সংলাপ। ফ্রেশ বাতাস, চারিদিকে নিস্তব্ধতা। শীতলতা অসহনীয়।
এই রাতটা খুব অপছন্দের। আজ এই রাত অপছন্দের। কোন রঙয়ের কথা ভাবছো? ব্রাউন নাকি রেড নাকি বুকে সাঁটা ডিপ নেভী ব্লু। মাথা পিছনের দিকে হেলিয়ে সমস্ত মোমেন্টকে আতশি কাঁচের নিচে আনা। শেষ পর্যন্ত চোখ বন্ধ। ভ্যান গঁগ, ফাল্গুনী রায় আর লোরকা প্রিয়। প্রিয় মানে কলিজার টান। বয়স ছত্রিশ। সম্পূর্ণ অবয়ব কাটা ছেঁড়া। আলো নেই। হোর্ডিংয়ের সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার নেই। এই সিস্টেম মানি না। তালে তালে অন্ধকারের উৎসব। মেঘময় বিছানা ছিল নষ্ট আত্মার দর্শন।
:হো হো হাসিতে একজন নাম জিজ্ঞেস করছে, কী নাম তোমার?
:কোন উত্তর নেই।
:নাম কী?
নিজের নাম তো মনে নেই। মৃত মানুষের নাম মনে রাখতে নেই। ফিসফিস করছে কেউ কেউ, বয়স হবে হয়তো ছত্রিশ, সাইত্রিশ নাকি আটত্রিশ!
ফটোগ্রাফির আলগা পিরিতের দৃশ্য।
:সিওর না
:কোন উত্তর নেই
মানুষটা একসময় ভালোবাসতো ভ্যান গঁগ, ফাল্গুনী রায় আর লোরকাকে। আমি যে রাস্তায় থাকি তার এক প্রান্তে প্রসূতিসদন অন্য প্রান্তে শ্মশানঘাট। বিশ্বাস না হয় দেখে যেতে পারেন বাসরুট ৪, ৩২, ৩৪, ৪৩।
গলায় রক্তের দাগ আর হাতের মুঠোয় ছুরি বিদ্যার শব্দ। গভীরভাবে বুকের ভেতরকার মানুষের নাম কখনও বলা হয়নি। লালরক্তে হাতের তালুতে লেখা সেই নাম শূন্য...
0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন