কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / অষ্টম সংখ্যা / ১৪৭

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / অষ্টম সংখ্যা / ১৪৭

বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

দীপক সেনগুপ্ত

 

সমকালীন ছোটগল্প

 

আন্ডার প্রেসার রং নাম্বারের গল্প

বিজুর টাইটেল পট্টানায়েক নয়। হলে ভালো হতো। বিখ্যাত মানুষদের নানা ব্যাপারে নানান সুবিধে হয়। বিজুর সেরকম সুবিধে পাওয়ার সুবিধে হয় না কখনো। বরং অন্যেরাই তার থেকে নানা রকম সুবিধে আদায় করে নেয়। রুক্মিনী দেবীও সেটাই করলেন। একদিন ডাক্তারের চেম্বারের বাইরে তিনি সরসরি বিজুর হাতে  মৃদু টোকা দিয়ে বললেন-

- এসকিউজ মি। আর ইউ এ প্রেসার পেশেন্ট?

- ইয়েস। আই এম আন্ডার প্রেসার। মিন হ্যাভিং ফ্লাকচুয়েটিং ব্লাড প্রেসার।

- আই সি। দ্যাটস হোয়াই ডক্টর আস্কড ইউ টু মেজার এন্ড নোট ইওর ব্লাড প্রেসার সেভেরাল টাইম ইন এ ডে।

- ইয়েস ম্যাম।

- দ্যাট মিনস ইউ আর হাভিং প্রেসার মেসিন ইন ইওর হাউস।

- ইয়েস ম্যাম।

- ডু ইউ মাইন্ড ইফ আই বরো দ্য মেসিন। আই এম অলসো আন্ডার প্রেসার। এন্ড মোরওভার উই আর অলসো লিভ ইন দ্য সেম এপার্টমেন্ট।

বিজু এই প্রস্তাবে একটু ঘাবড়ে গেল। কারণ ওকে তো দিনে বেশ কয়েকবার প্রেশার মাপতে হয়। মেশিনটা  হাতছাড়া করলে তো ওর সমস্যা হবে। ভদ্রমহিলা মনে হয় থট রিডিং করতে জানেন। বিজুর মুখ দেখে উনি ওর মনোভাবটা বুঝে নিলেন।

- আই আন্ডারস্ট্যান্ড দ্য প্রবলেম। ইফ ইউ এ্যলাউ আই মে কাম ইওর হাউস।

- দ্যাট উইল বি বেটার।

- ইন দ্যাট কেস ইউ মাস্ট আস্ক ইওর ওয়াইফ ফর পার্মিশন।

বিজু হেসে জবাব দিয়েছিল-

- নো নিড। আই ডোন্ট হ্যাভ এনি ওয়াইফ।

- আর ইউ এ ব্যাচেলার?

- নট একচ্যুআলি। আই এম ডিভোর্সি।

- ওহ্। নাইস।

বলে কী! বিজু চমকে উঠে বললো-

- পার্ডন।

- নো নো ভেরি সরি। আই শ্যুড নট আটার দ্যাট। একচ্যুআলি আই মাইসেল্ফ ইজ আ ডিভোর্সি। দ্যাটস হোয়াই। ইট কেম আউট অফ মাই মাউথ।

এই হলো বিজু আর রুক্মিণী দেবীর প্রথম আলাপের ঘটনা। খুব আকর্ষণীয় কিন্তু আলাদা ধরনের।

নিজের নামটা জানিয়ে রুক্মিণী দেবী জানতে চেয়েছিলেনন-

- বিজু ইস ইওর ফুল নেম, লাইক বিজু পট্টানায়েক?

- ওহ নো নো। মাই নেম ইজ বিজেন্দর প্রসাদ। বিজু ইস মাই শর্ট নেম।

- আই এম ফ্রম ওড়িশা। নেম রুক্মিণী দাসঅ। বাট আই প্রনাউন্স রুকমিনি।

পরদিন ঘরে বেল বাজিয়ে রুকমিনি এসে গেলেন। তখন সকাল আটটা। এবং আরো মজার কথা মেশিনটা নিয়ে তখনই বিজু প্রেসার মাপার জন্য তৈরি হচ্ছিল। সুতরাং এ একরকম ভালই হলো। একসঙ্গে দুজনের প্রেসার মাপা হয়ে যাবে।

- ডোন্ট হেজিটেড। গেট ইওর শার্ট রিমুভড। প্রেসার শ্যুড বি মেজরড ইন নেকেড হ্যান্ড।

উনি এগিয়ে এলেন আর্ম ব্যান্ডটা হাতে জড়িয়ে দিতে। এ হাত ও হাত পাল্টে উনিই প্রেশার মেপে নিলেন।  এবং বিজুর নোট প্যাডে লিখে দিলেন।

- নাউ ইউ শ্যুড ডু দ্য সেম ফর মি।

বিজু সসঙ্কোচে তাই করলো। চমৎকার নিটোল হাত এবং আরো অনেক কিছু। চমৎকার। এবং দেখা গেলো আরো একটি চমৎকার। দুজনের প্রেসার রিডিংই কাছাকাছি। চোখ কপালে তুলে রুকমিনি বললেন-

- জয় জগন্নাথঅ। ই কাঁই হলা। স্ট্রেঞ্জ। লর্ড জগন্নাথ মাস্ট হ্যাভ সাম প্ল্যান।

ভগবান তিনি যেই হন, জগন্নাথ কিম্বা মহাদেব, তিনি যে নানারকম প্ল্যান করে থাকেন তাতে সন্দেহ নেই।  সেগুলো সবকটাই "ভগবান যা করেন তা মঙ্গলের জন্য করেন" এই গ্রুপের নয়। এটা তো নয়ই।

বিজুর বয়েস পঁচিশ। এই বয়সে প্রেসারের রোগ হওয়া স্বাভাবিক নয়। কিন্তু হয়েছে। নির্ঘাৎ ভগবানের ইচ্ছেতেই হয়েছে। সেক্ষেত্রে ভগবানের প্লানটা কি, ভগবানই জানেন। যদিও ডাক্তারবাবুর মত-

- ডিউ টু স্ট্রেস এন্ড টেনশন অফ জব এন্ড পার্সোনাল লাইফ। দিস হ্যাপেনস।

দুই ডিভোর্সির পার্সোনাল লাইফের ট্রেস একই রকম হতেই পারে। সেটা অস্বাভাবিক নয়। তবে কার্যক্ষেত্রের ট্রেসটা কার কি রকম সেটা দেখতে হবে। বিজুর নিজের ততটা নেই। রুকমিনির কতোটা আছে ও জানে না। সেটা জানা দরকার। সেটা ওনাকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিতে হবে।

এক সন্ধ্যায় রুকমিনি ফোন করলো বিজুকে।

- প্লিজ। টু ডে আই এম নট ইন এ পজিশন টু গো ইওর হাউস। প্লিজ কাম মাই হাউস উইথ ইওর মেশিন।

বিজু তাই করলো। ভেতর থেকেই নেশাগ্রস্ত গলায় রুকমিনি বললেন-

- প্লিজ কাম ইন। দ্যা ডোর ইস নট ক্লোজড জাস্ট এজার।

ঘরে ঢুকে বিজু দেখলো। রুকমিনি সোফাতে গা এলিয়ে শুয়ে আছেন। উঠতে গিয়ে প্রায় পড়েই যাচ্ছিলেন। বিজুই তাকে ধরে বসিয়ে দিল। দেখা গেলো রুকমিনি মদ্যপান করে টালমাটাল অবস্থায় আছেন।

- আই থিঙ্ক প্রেসার শ্যুড নট বি মেজরড ইন দিস কন্ডিশন।

- হোয়াই। ওয়াইন ক্যা খুন মে ঘুস যাতা হ্যায়?

মন দৃঢ় করে বিজু বলতে পারলো-

- হোয়াই নট ইউ পারচেস ওয়ান মেশিন ফর ইওর ইউস। ইটস নট দ্যাট কস্টলি।

রুকমিনি হেসে ফেললেন। মাতালের হাসি, তাই নকল হাসি নয়। স্পষ্ট বোঝা গেলো সেটা হাসি কম আর কান্না বেশি।

- দে পে ফর দ্য কস্টলি ড্রিঙ্কস। দে ইনসট্রাক্ট টু মেজার প্রেসার। বাট দে উইল নট পে ফর দ্যা প্রেসার মেশিন।

এ আবার কী কথা? ঐ দেবার কথা বলতে কাদের কথা বলছেন উনি? তারা তাকে মদের দামই বা দিচ্ছেন কেন? কিসের বিনিময়ে?  এটাই কি তবে রুকমিনির জবের ট্রেস ফ্যাক্টর? বিজুর মনে হলো, এরকম অবস্থায় একা ঘরে ওর থাকাটা ঠিক হবে না। ও রুকমিনিকে ধরে ধরে সাবধানে বিছানায় শুইয়ে দিল।

তারপর বলল-

- আই এম গোয়িং নাউ।

- ও ক্কে বাইইইই।

এরপর বেশ কদিন বিজু আর যোগাযোগ করেনি। রুকমিনিও না। তবে দুজনেই যে ডাক্তার বাবুর চেম্বারে নিয়মিত যাচ্ছে সেটা দুজনেই জানতে পারছিল।

একদিন হঠাৎ বিজুর মোবাইলে টুং করে আওয়াজ হলো। মোবাইল খুলে বিজু দেখলো। একটা মেসেজ এসেছে। সেটা তার প্রাক্তন স্ত্রীর কাছ থেকে।

- মুঝে আপসে বাত করনি হ্যায়।

এটুকুই লেখা।

বিজু যারপরনাই অবাক হয়ে ভাবতে বসলো। এতোদিন পরে? কি ব্যাপার?

তারপর এতোদিন পরেটা কতোদিন সেটা গুনতে বসলো। সেটা গুনতে গুনতে মনে পড়তে লাগলো সব পুরনো কথাগুলো। কি কারণে যেন ডিভোর্স হয়েছিল ওদের? খুব কঠিন কঠোর কোনো বিষয় ছিল কি সেটা? যা মিটিয়ে নেওয়া অসম্ভব ছিল? কোনো তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতি? তার জীবনে? নাকি কল্যাণীর জীবনে?

এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে বিজু ঘুমিয়ে পড়লো কে জানে।

ফোন বাজতেই ও ফোন তুলে বললো-

- হু স্পিকিং?

ওপাশ থেকে পাল্টা প্রশ্ন ধেয়ে এলো।

- হু ইজ রুকমিনি?

- রং নাম্বার। ইউ এন্ড রুকমিনি বোথ রং নাম্বার।

ফোন কেটে দিল বিজু। হ্যাঁ নেশা করেছিল তখন ও। যে অবস্থায় পড়ে মানুষ নেশা করে সেই অবস্থায় পড়ে গেছিল যে। না করে করবেটা কি?

বিজুর ডাক্তার যে কল্যাণীর ব্যাচমেট ছিল সেটা বিজু জানতো না। সেই ডাক্তারবাবুকে রুকমিনি বলেছিলেন বিজুর কথা। আরো কি কি বলেছিলেন কে জানে। কি শুনে কি বুঝে ডাক্তারবাবু মনে করে ছিলেন খবরগুলো কল্যাণীকে জানানো দরকার। রুকমিনির পরিচয় হয়তো ডাক্তারবাবু আরো ভালো ভাবে জানতেন। এ সমস্তই ভগবানের প্ল্যান। এবং এ প্ল্যান্টটা বোধহয় সবার মঙ্গলের জন্য। তাই কল্যাণী তার দাদাকে সঙ্গে নিয়ে এসে বিজুকে উদ্ধার করলো। সিক লিভ নিতে বাধ্য করে এক মাসের জন্য তাকে নিয়ে চললো তাদের বাড়িতে।

ডাক্তারবাবু কল্যাণীকে জানিয়ে দিলেন।

- উনকা ব্লাড প্রেসার ফ্ল্যাকচুয়েশন কা বিমারি হ্যায়। রেগুলার চেক করনা হ্যায়।

- ইয়েস ইয়েস আই হ্যাভ দ্য মেশিন ফর দ্যাট। বাট রুকমিনি কা পাশ নেহি হ্যায়।

জোর করে বিজুকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হলো।

কিছুদিন পর রুকমিনি একটা অনলাইন অর্ডারের ডেলিভারি পেলেন। কেউ তাকে একটা ব্লাড প্রেসার মাপার যন্ত্র পাঠিয়েছে। যার গিফ্ট মেসেজে লেখা।

"ফ্রম ওয়ান রং নাম্বার টু এনাদার রং নাম্বার।

আন্ডার প্রেসার"।

 

0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন