কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / অষ্টম সংখ্যা / ১৪৭

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / অষ্টম সংখ্যা / ১৪৭

বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

গোলাম কিবরিয়া পিনু

 

কবিতার কালিমাটি ১৬২

 

 

মৃত তারাদের আলো

যে আলো তোমার কাছে পৌঁছাচ্ছে

             সেই আলো মৃত তারাদের!

সেই তারাগুলো কবে মরে গেছে!

 

মরে যাওয়া তারাগুলোর আলো

        এখন পৌঁছাচ্ছে!

আর তুমি বেঁচে থাকার পরও

কোনো আলো উৎপাদন করতে পারছো না?

কোথাও তোমার আলো পৌঁছাচ্ছে না!

 

আন্ধিয়ারি অবস্থায় ঢেকে যাচ্ছে

     জায়ফলের বন,

         ধান ও গমের ক্ষেত!

গাছের শেকড় ও শাখা-প্রশাখায় আলো

              চিকমিক করে উঠছে না!

দীপ্তি সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে!

 

তুমি যদি বেঁচে থাকা তারা হও

উত্তরীয় পরে উত্তর দাও

তোমার মৃত্যুর পর কি তোমার আলো পৌঁছাবে

             আমাদের কাছে?

 

হৃদয়গ্রন্থি

নদীকে বলেছি--‘নদী বড় হও’।

      নদী বলে--‘আমি জল ছাড়া বড় হই না

                    যত জল তত বড়’।

মানুষ কি একা বড় হয়?

 

প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে--নদী আরও বলে

জলছাড়া আমি অবলুপ্ত হই

                   বাতিলও হই

                         বিনাশও হই

                             কুলরক্ষা হয় না।

কালগ্রাসে পড়ে কালসমুদ্রে হারিয়ে যায় কত নদী!

 

তালপুকুর ও খালবিলও জল দিয়েছে--

                            আমি প্রফুল্ল হয়েছি,

ঝরনার জল পেয়ে ঝরঝরে

আকাশভাঙা বৃষ্টির জলে চনমনে

প্লাবনের জলে তাজা

              ভূগর্ভস্থ জলে টলটলে।

জলই উচ্চতা বাড়ায়--জলই গভীরতা বাড়ায়!

 

একটা পোড়োবাড়ি থেকে জলগ্রন্থি খুলে

যেন প্রসারিত হয়েছিলাম-

              তারপর মরুপথে

                        গিরিপথে

                          বনের ভেতর দিয়ে

জলের সাহচর্যে কুণ্ঠাহীনভাবে আমি প্রবহমান।

জলের কপটতা নেই-জলের কুম্ভীরাশ্রু নেই!

 

আমি শুধু এইটুকু জানি--

জলের উদারতায় উদারপ্রকৃতি হয়ে উঠি

                      ঊর্মিমুখর হয়ে উঠি

                          কল্লোলিত হয়ে উঠি

হৃদয়গ্রন্থি খুলে ধরেছি আমিও!

 

প্রকৃতি

এত সহজেই খুলে ফেলেছো নিজেকে

           আত্মসমর্পণ করো কার কাছে?

কোনো বাছবিচার নেই!

 

তোমার নিজের পাখা খুলে রেখে

                    হেঁটে হেঁটে কই যাও?

কার কাছে গিয়ে ধরা দাও!

 

তোমার কি কোনো পছন্দ নেই?

তোমার কি কোনো ভালোলাগা নেই?

তোমার কি কোনো অভিরুচি নেই?

তোমার কি কোনো মুগ্ধতা নেই?

তোমার কি কোনো মোহঘোর নেই?

তোমার কি কোনো অপছন্দ নেই?

তোমার কি কোনো প্রত্যাখ্যান নেই?

 

আধবোজা নিমীলিত চোখ

কুলুপ লাগানো মুখ

              নিভৃত ঘরের  মধ্যে একা

ছাইমাখা অবস্থায় দীর্ঘশ্বাস

               বিলাপধ্বনির ভেতর অশ্রুলোচন  

শোকচ্ছবি ও মড়াকান্না নিয়ে শোকসংগীত!

এরপরও কার জন্য পরিপাট্য হও?

এরপরও কার জন্য মোহনী ও লাস্যময়ী হও?

 

নিজের ইচ্ছেয় চটি ও চপল পরো?

কিংবা উত্তরীয়?

একবার মসলিন পরো

একবার পরো মিহিকাপড়

                     কখনো বেনারসি

                             কখনো ভেলভেট

কখনো তাঁতবস্ত্র অস্ত্র হাতে থাকে কতটুকু?

 

তোমারও মস্তিষ্কে আছে বহু শিরা-উপশিরা

বহুবর্ণিল উদ্ভাস!

           তোমারও আছে সংবেদন

আদ্যজ্ঞান অনুভূতি চেতনসত্তা

তুমিও তুলতে পারো সপ্তসুর

নিজেরই কাছ থেকে নিজে কেন চলে যাও বহুদূর!

 

তুমি এত সহনশীল কেন?

               তুমি এত কষ্টসহিষ্ণু কেন?

                    তুমি এত নিয়ন্ত্রিত কেন?

তুমি এত ভাবলেশহীন কেন?

 

কার অভিলাষে বারবার বন্দি হও!

কার লালসায় বারবার গুপ্ত হও!

কার ইচ্ছে-পূরণে বারবার বলি হও!

 

ভয়বিহ্বলতার পেঁজামেঘে আটকে গিয়ে

                          কোন্ ঋতুচক্রে

কোন্ খাপে কোন্ মাপে থেকে যাও!

তোমার প্রকৃতি কোন্ প্রকৃতিতে ধুলিধূসরিত হয়ে যায়

শেষ রাতেও তোমার পর্ণমোচন হবে না?

 

 

 

0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন