কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / অষ্টম সংখ্যা / ১৪৭

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / অষ্টম সংখ্যা / ১৪৭

বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

শ্রাবণী দাশগুপ্ত

 

ধারাবাহিক উপন্যাস

ছেঁড়া শেকড়ের অন্তরাখ্যান

 


(১৯)

এক অশান্তির ছেঁড়া-ছেঁড়া আঁচ সর্বত্র—দেশ জুড়ে, প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। নেতারা ক্রমশঃ ভয়ানক ক্ষমতালোভী হয়ে উঠছে—আগ্রাসন, তুলনায় দুর্বলদের পিষে ফেলে নিজেদের আয়ত্বে নিয়ে আসার নিষ্ঠুর পরিকল্পনা। দেশ মানে আর সাধারণ মানুষকে বোঝায় না, খেত-খামার, জলজঙ্গলের অধিকার নয়—ক্ষমতালোভী মাথাদের আগ্রাসী লম্ফঝম্ফ। ঔপনিবেশিকতার শুধু নামেই অবসান ঘটেছে। অন্যরূপে, অন্য নামে নোংরা দখলের জন্য প্রসারিত তাদের হাত। এই পরিবর্তন মোটেও নিঃশব্দ নয়, বেতার এবং সংবাদপত্রে প্রায়শঃ এসব খবর থাকে। কালীকিঙ্করের বাড়িতে সদ্য রেডিও এসেছে—কিনে এনেছে দিবাকর। কালীকিঙ্কর নিয়ম করে সকাল সাড়ে-সাতটার খবর শোনেন—পরপর জাতীয় সংবাদ, স্থানীয় সংবাদ। শোনেন বটে, তারপর অনেকক্ষণ নীরবে বসে বা শুয়ে থাকেন। মনের মধ্যে নিজের মাটিতে ফিরে যাওয়ার ক্ষীণ আশা ক্রমশঃ মিলিয়ে যেতে থাকে। কনকপ্রভা তখন রান্নাঘরের কাজে ব্যস্ত, অমলা তাঁকে সাহায্য করে। কিছুদিন পরে তাকেও বি-টি কলেজে অ্যাডমিশন নিতে হবে। তখন কনকপ্রভার আবার সব একা সামলাতে হবে। জলখাবারের পাট মিটলে খানিক বেলায় ফাঁক পেলে অমলা ঘোমটাটি বড়ো করে টেনে শ্বশুর-শাশুড়ির ঘরের দরজায় গিয়ে দাঁড়ায়। নরম গলায় ডাকে, “বাবা! আপনারে চা দেব আর একবার?”

কালীকিঙ্কর উঠে বসে হাসিমুখে, “না আর চা দেওন লাগব না। এইবার চা-র বায়না অইলে তুমার শাশুড়িঠাইরেন—!” বাক্য অসমাপ্ত রেখে তিনি অমলার দিকে তাকান, সে আঁচল দিয়ে মুখ ঢেকে হাসে। এই মধুর ষড়যন্ত্রটুকু উপভোগ করেন কালীকিঙ্কর। অমলাকে নিজের মেয়েদের চেয়েও আপন মনে হয়। মজার সুরে বলেন, “তয় মুরিগুলা আজ য্যান পোতাইয়া গ্যাছিল, দুধ জুড়াইয়া জল—। তমাগ কৌটায় বাতাসা ফুরাইছে নি’? তাইলে কাইল বাজার যাওনের আগে আমারে লিখ্যা দিবা। আর কাইল হইতে আরও দুইডা বেশী দিবা।”

অমলা প্রথমে অস্বস্তিতে সঙ্কুচিত হয়ে যায়, তারপর ধীরে ধীরে হেসেই বলে, “আচ্ছা বাবা আমার ভুল হয়ে গেছে। বাবা, বড়দিদির খবর পেয়েছেন? ভাল আছেন ত সকলে?”

কালীকিঙ্কর ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলেন, “হ, হেরা ত ভালাই আছে অহনও—লেখছে। তয় হেই দ্যাশের থে’ না জানি আরও কত মাইনষে সমানে পলাইয়া আইতাছে—। গরমেন্ট কী কইরা সামাল দিব কেডা জানে?”

হতাশাগ্রস্ততা এড়াতে কালীকিঙ্কর জানালার দিকে চোখ ফেরান। বাতাসে কলাপাতা সবুজরঙের পর্দা দোলে। পর্দার কোণায় সুন্দর এমব্রয়ডারি করেছে অমলা। কেসমেণ্ট কাপড়ের সাধারণ পর্দাগুলো খুব নতুন নয়। দিবাকরের বিয়ের আগে বড়বাজার থেকে গজ মেপে কাপড় আনিয়েছিলেন কনকপ্রভা। নিজেই মাপমতো কেটে, সেলাই মেশিনে টান দিয়ে টাঙিয়ে দিয়েছিলেন সব ঘরের জানালা-দরজায়। অমলা খুলে, কেচে, ইস্ত্রি করে গুজরাটি-স্টিচ সেলাই করেছে। কনকপ্রভা খুশী হয়েছেন, “ভালা করছ বৌমা। আগে আমি কত সিলাই করছি, আইজকাল শরীরেও পারি না, ইচ্ছাও নাই।”

সপ্তাহে চারদিন সন্ধের সময় অভ্যাসের মতো কালীকিঙ্কর ডিসপেনসারিতে গিয়ে বসেন। রোগীর সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়—কখনো বাড়ে, কখনো কমে। কয়েকজন ক্রনিক রোগী আছে, যাদের তাঁর ওষুধে মোটামুটি ফল হয়েছে। তারা ভরসা করে নিয়মিত আসে। তাঁকে ক্লান্ত হয়ে ফিরতে দেখে অমলা বারকয়েক যেতে বারণ করেছে। কনকপ্রভা অবশ্য অন্য কথা বলেন, “না না যাউক। বাইরাইলে দুই-চারিজনের মুখ দ্যাহে, আলাপ করে। নাইলে ঘরের মইধ্যে মুখখান ব্যাজার কইরা বইয়া থাকব। বেডামাইনষে বাসায় বইয়া কী কাম?” কালীকিঙ্করের মস্তিষ্কে অন্য এক সমান্তরাল চিন্তা ঘোরে। তাঁর খামখেয়ালি পুত্র গোপনে আবার রাজনীতিতে ঢুকছে কিনা, মনে মনে আশঙ্কা হয়। হঠাৎ মাথার পোকা নড়ে উঠলে চাকরি ছেড়ে দেবে কিনা তিনি জানেন না। একদিন ঘুরিয়ে অমলাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “বৌমা, দিবু হের ইতিহাস তুমারে কইছে?”

অমলা নীরবে মাথা নেড়ে সম্মতি জানিয়েছিল। কালীকিঙ্কর কিছুটা নিশ্চিন্ত হয়ে জানতে চেয়েছিলেন, “হেয় জেল খাটছিল, হেই কথা কয় নাই?”

“বলেছে, বাবা।”

“তাইলে ত জানছই। নিজেরে তৈয়ার কর মা—দুঃসময়ে য্যান নিজের উপরে ভরসা রাখতে পার। বোঝলা নি ক্যান কই?”

অমলা মাথা নীচু করে বসেছিল, ভয়-ভয় করছিল তার। দিবাকর নিজের কারাবাসের বর্ণনা যেদিন দিয়েছিল, সেরাতে সে ঘুমোতে পারেনি। রাজনীতিক বন্দী যারা, সরকারের নজর ছিল তাদের ওপরে। যথেচ্ছ শারীরিক পরিশ্রম করিয়েছে, প্রতিবাদ করলে চাবুকের বাড়ি। দেহের জায়গায় জায়গায় কেটে যেত—মলম লাগাতে হত। কথা আদায় করার জন্য আঙুলের মধ্যে গুণছুঁচ ফুটিয়ে দেওয়া হত। কালীকিঙ্কর এতসব জানতেন না। তিনি উদাসস্বরে বলেছিলেন, “বেয়াইমশয়রে দিবু কইছিল বিয়ার আগে। তাইন কইছিলেন, তুমার মেজদাদাও নাকি রাজনীতির মইধ্যে জড়াইয়া গেছিল! হেরা সব জুয়েল পোলাপান—দ্যাশের সম্পদ। খালি মায়-বাপের দুঃখু হেরা বুঝে না।”

মেজদাদা মনোরঞ্জনের স্মৃতি অমলার তেমন করে আর মনে পড়েনা। বরং সামগ্রিকভাবে দেশের বাড়ির কথা মনে পড়ে। ছোটো বলে দুই দাদাই খুব স্নেহ করত তাকে আর নিরঞ্জনকে। অমলা ভাবে, তবু তো ধীরেন্দ্রনাথের দুটি পুত্র জীবিত! দিবাকর হারিয়ে গেলে কালীকিঙ্কর ও কনকপ্রভা কি জীবিত থাকবেন? অমলা কেমন যেন মনে অস্পষ্ট বল পায়—দিবাকরকে সে বেপথু হওয়া থেকে আটকাবেই। আর যদি না পারে তাহলে যত পরিশ্রম হোক, একটি চাকরির ব্যবস্থা তাকে করতেই হবে।

 

ক-দিন ধরে কালীকিঙ্করের মন একেবারে ভালো নেই। বয়স্যদের আড্ডায় খুব যে ভালো লাগে তা নয়। তবু নানান আলোচনা, খবরের আদানপ্রদান হয়, হাসি, খোশগল্পও। পুরোনোরা আছেন, দু-তিনজন নতুন যুক্ত হয়েছেন। তখন মনে হয় পৃথিবীটা চলমান। তার মধ্যে তাঁর মতো আরো বহু মানুষ বেঁচে-বর্তে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। এই ক-বছরে কুমুদরঞ্জনের সঙ্গে বিশেষ হৃদ্যতা হয়েছিল। দিনদশেক আগে কুমুদরঞ্জন হঠাৎ মারা গেলেন। কোমরব্যথার জন্য দু-দিন ডিসপেন্সারিতে যেতে পারেন নি কালীকিঙ্কর, আড্ডাতেও যাওয়া হয়নি। খোলামেলা উদার মানুষ কুমুদরঞ্জন—কোনো বিষয়ে অভিযোগ, অনুযোগ বিশেষ করতেন না। বরং বলতেন, “সবই মেনে নেওয়া লাগে বোঝলেন? এইযে যশোর-খুলনা ওইপারে চলে গেছে, আমার মনে কি দুক্ষু নাই? হেই জেলা এইপারে আসব—তেমনটাই শুনছিলাম। হইল না। জানেন, মইধ্যে-মইধ্যে শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে বসিরহাট যাই—। আমি ভবঘুরা মানুষ, চেকার টিকিট চায় না। যেয়ে ইছামতীর পারে বসে থাকি। আগে-আগে হাসনাবাদ যাইতাম। যখন লাইন বন্ধ করে দিছিল—ছয়-সাত মাইল হাইট্যা যেতাম। অখন আবার লাইন চালু হইছে—আবার যাব। টান, মনের টান—বোঝলেন?”

বাকিরা শুনতে শুনতে হয়ত প্রশ্ন করে বপ্সতেন, “আত্মীয়-কুডুম কেও নাই ত গিয়া কী করেন?”

“নাঃ কেউ নাই। আগে আমার পিতৃদেবের বিঘাদুই চাষজমি আছিল আর কয়ঘর বন্ধু ফেমিলি। তাদের পোলাপানরা আছিল আমার দোস্ত—বসির, ইসলাম, রফিক, আফজল। রফিকের ছুটো বইন ফাতিমা—, ফুলের মতো একটা মাইয়া।”

কুমুদরঞ্জনের চোখের তারায় চিকচিক করত রঙিন আলো। সরলভাবে অকপটে বলতেন, “আমার চাইতে বয়সে অনেক ছুটো। তারে আমি ভালোবাসছিলাম। কিন্তু ধর্মের বাধায় বিয়া ত হবে না, মেনে নিছিলাম। ভালা বিয়া হল তার—সজ্জন সদুপায়ী পুরুষ। বিয়া হল বাগেরহাটে—গেল গিয়া। এখন কেও নাই তারা। কাটাকাটির সময় দ্যাশ ছেড়ে গ্যাছে গিয়া। কিন্তু আমার টানটা মরে নাই।”

কালীকিঙ্কর বিস্মিতভাবে বলেছিলেন, “এইপারে জমি আছে আপনের? তাইলে ত উদ্বাস্তু না?”

কুমুদরঞ্জন অদ্ভুত হেসেছিলেন, “জমি ত আছিল, দেখা লাগে না? করে কে কন? দ্যাশভাগের কালে জ্ঞাতিগুষ্টি আইসা বলল, দাদা রিকুজি হয়ে আসছি। থাকার ব্যবস্তা দেন। দিয়া দিলাম। ভাইরা বড়ই আপত্তি করছিল। বলছি, তরা কাম পাইছস, মাথাগোজার আস্তানা পাইছস—তাদের ত কিছুই নাই, সব হারাইয়া আসছে।”

এই বিষয় নিয়ে ভাইদের সঙ্গে তাঁর মতান্তরের আভাস দিতেন কুমুদরঞ্জন। কথার ছলে বলতেন, “কে কারে দেখবে বলেন? আমার বৌ-বাচ্চা নাই, লাইবিলিটি নাই, চালচুলা নাই —কথায় কয় ল্যাংটার নাই বাটপাড়ে ভয়। ভাইরা ভাইবৌরা দুইবেলার ভাতটা দেয়। না দিলে কাম খুজে নেব—এফ-এ পাশ দিয়ে ওকালতি পড়তে নিছিলাম। শেষ করি নাই।”

কুমুদরঞ্জনের বলা কথাগুলো কানে বাজছিল কালীকিঙ্করের। মৃত্যুর ঘটনাটা বাকিদের কাছে শুনলেন। ট্রেনে যেতে যেতে পেটের যন্ত্রণায় কাতর কুমুদরঞ্জন অজ্ঞান পড়েছিলেন। ট্রেন তখন বারাসাত ছাড়িয়ে দু-তিন স্টেশন এগিয়েছে। ক-জন যাত্রী তাঁকে নামিয়ে স্টেশনের বেঞ্চে শুইয়ে দেয়। তারপর সহৃদয় ক-জন মিলে ধরাধরি করে ভ্যানরিকশায় তুলে বারাসাত সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। অল্পক্ষণ পরে সেখানে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ওই লাইনে যাতায়াত করার দরুণ তাঁর দু-একজন সামান্য মুখচেনা মানুষ ছিল। কিন্তু তারা আর কিছু জানত না। তাঁর সঙ্গের ঝোলাব্যাগ, জামার পকেটের কাগজ খুঁজে পুলিশ ঠিকানার সন্ধান পেয়ে বাড়িতে এসে ভাইদের জানায়। তলব করেছিল সনাক্ত করার জন্য। দু-দিন দেহটা অযত্নে বারাসাত হাসপাতালের মর্গে পড়েছিল।

ঘটনা শুনে একেবারে নিশ্চুপ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন কুমুদরঞ্জন। কনকপ্রভা প্রথমে তাঁর থমথমে মুখ দেখে বিরক্ত হয়ে রাগ করেছিলেন। পরে বুঝলেন এমন কিছু ঘটেছে যা তাঁর স্বামী সহ্য করতে পারছেন না। খানিক ধাতস্থ হয়ে কালীকিঙ্কর কনকপ্রভার কাছে খুলে বললেন।

“তাইনের তিনকুলে কেও আছিল না এমনডা ত না, সবই ভাইগ্য—। নাইলে এই বয়সে এমন ভিক্ষুকের লাখান মৃত্যু হয়? আমারে তাইন মইধ্যে-মইধ্যে কইত, কালীবাবু ভাল একখান দাওয়াই দিবেন ত। প্যাটে অ্যামন ব্যাদনা হয় পাটার মত ছটপটাই। কলিক পেন সম্ভব, শূলব্যাদনা—।”

খবর জেনে কনকপ্রভারও মন খারাপ হল। দিবাকরের প্রীতিভোজের নিমন্ত্রণে মানুষটি এসেছিলেন। নিজে থেকে এগিয়ে এসে কত কাজে হাত লাগিয়েছিলেন। কীভাবে পৃথিবী থেকে মানুষ ফুরিয়ে যায়! কনকপ্রভার বুকের মধ্যে হঠাৎ কেমন যেন করে ওঠে, চোখে জল এসে পড়ে। ফেলে-আসা দেশের বাড়ি, স্বচ্ছল অবস্থা, মনের মতো করে বিছিয়ে-রাখা পরিপাটি সংসারের কর্তৃত্ব ছেড়ে প্রায় এক কাপড়ে চলে এসেছিলেন। কীসের ভরসায়, কার ভরসায় তখন তাও জানতেন না। এখনকার একটুকরো বাসাবাড়ি, দু-টি ঘর, এজমালি উঠোন, রান্নাঘর, কল-জল— সেও তো হয়ে গেল ক-বছর। মনের গোপন আশাটুকু ছড়িয়ে রেখেছেন দৈনন্দিনতার সঙ্কুচিত পরিসরে। নিজস্ব বাসা হবে, উঠোনে ফুলগাছ, ঠাকুরঘরে সিংহাসন—! ছেলে-বৌমা, একটি-দুটি নাতি-নাতনি। বৌমার জন্য বড্ড মায়া অনুভব করলেন—সরল-সাদা মেয়ে, ছেলেমানুষ এখনও। জানালার খড়খড়ির ফাঁক দিয়ে বাইরের ল্যাম্পপোস্টের টিমটিমে আলো ঢুকছে ঘরে। শক্ত মানুষ ভেজা চোখে কনকপ্রভা একটি কথা না বলে নিঝুম বসে থাকেন। কাছাকাছি কারো বাড়ি থেকে রেডিওতে হিন্দীতে গান ভেসে আসছে। তাঁদের রেডিও নিঃশব্দ এখন। কালীকিঙ্করের আরো একজনের কথা মনে পড়ল—হরনাথ ভট্টাচার্য। হতদরিদ্র মানুষটিকে পুত্রের বিবাহের প্রীতিভোজে নিমন্ত্রণ করেছিলেন। দুই নাতিকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন হরনাথ। আশ মিটিয়ে পেট ভরে ভোজ খেয়ে অনেক সুখ্যাতি করে গিয়েছিলেন। তারপর আর আড্ডায় আসেন নি, আসতে পারেন নি। দীর্ঘদিনের উপোসী পেট একসঙ্গে এত সুখাদ্য গ্রহন করতে পারেনি। ভয়ানক উদরাময়ে ভুগে দিনদুই পরে মারা যান। বেশ ক-দিন বিবাহ-সংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত থাকায় কালীকিঙ্কর যেতে পারেন নি। যেদিন গেলেন কুমুদরঞ্জন বলেছিলেন, “বোঝলেন কালীবাবু, একজন ত বৈতরনী পার হলেন—বেচে গ্যালেন। মরার আগে রসনার তৃপ্তি হইল—পুলাউ, কালিয়া, মিষ্টান্ন—সগগে গিয়া আর কুনো দুক্ষু থাকবে না।”

পর্দার খসখস শব্দে কালীকিঙ্কর তাকালেন, অমলারর আলতা-পরা ফর্সা পা দু-টি পর্দার নীচে। তিনি ডাকলেন, “আস বৌমা। দিবু অহনও আসে নাই?”

 

(ক্রমশ)

 

0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন