কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / অষ্টম সংখ্যা / ১৪৭

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / অষ্টম সংখ্যা / ১৪৭

বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

অম্লান বোস

 

সমকালীন ছোটগল্প

 

 

হারানো প্রাপ্তি নিরুদ্দেশ

গাড়িটা হঠাৎই বন্ধ হয়ে গেল। নিজের কারিগরি বিদ‍্যায় কোন কাজই হল না, কেবল স্টার্টারের কর্কশ আওয়াজ ছাড়া। প্লাগ, তেলের পাইপ্, মোবিলের লেভেল, ফিউজ্ সবই তো ঠিকই আছে। দশ মিনিটের মধ‍্যে বেশ কয়েকটা গাড়ি পার হয়ে গেল - হাত দেখালে এ‍্যাকসিলেটরে বাড়তি চাপ দিয়ে অন্ধকারে মিলিয়ে যাচ্ছে। দোষ দেওয়া যায় না ওদের! জীবনে প্রথম হতাশার স্বাদ পেল সফল সাংবাদিক অয়ন সামন্ত।

ড‍্যাশবোর্ড থেকে লাল ফ্ল‍্যানেলের টুকরোটা বের করে হতের আঙ্গুলগুলো মুছে ঘড়িটা দেখলো অয়ন - ৬:৪৭। ক্ল‍্যাসিক কিং সাইজটা ঠোঁটে ঝুলিয়ে আগুন ছোঁয়াল আলতো করে। লাইটার তখনও নেভান হয়নি, ডানদিকে কানের পাশে ঠিক রগের ওপর ঠান্ডা ধারাল চাপ, বেশ জোরেই। বাঁ কানের ইঞ্চি দুয়েক দূর থেকে ভাঙ্গা খসখসে গলা, “কিরে রিপোর্টার, খোঁজ নিতে এসেছিস্? বল্, এখন তোর খোঁজটা কে নেবে- এ‍্যাঁ?”

চাপ একটু জোরেই, চামড়া কেটে বসছে। ধারটা কমাতে মাথা বাঁদিকে হেলেই গেল। সারা শরীর শক্ত পাথর, মাথা হেলানো।

“ডানদিকে তাকা, ঐযে বাড়িটা,  সোজা ওখানে যাবি। রাতটা ভালোয় ভালোয় কাটাতে পারলে কাল ভোরেই চুপচাপ্ কলকাতা ফিরে যাবি। মনে রাখবি, এখানে এসব কিছুই হয়নি, তুই কুসুমপুরেই আসিসনি। আর শোন, এদিক সেদিক আশে পাশে তাকাবার চেষ্টা করলেই গুলিটা কিন্তু সো. .জ্জা মাথায় ঢুকবে।” কানের পাশেই একটা ‘ঝুপ’ শব্দ - মুহূর্তে ৫০ মিটার দূরে মোড়ে পোষ্টের বাতিটা ঝনঝন্ করে গুঁড়িয়ে গেল। ঢালা অন্ধকারে আবার খসখসে গলা, “আমার এইম সম্বন্ধে কোন সন্দেহ আছে না কি রে ছোকরা?” অয়ন বুঝলো সাইলেন্সর লাগিয়েছে।

রগে আর একটা ঠ‍্যালা, “যা!”

“যাচ্ছি যাচ্ছি, আ-আমার গাড়িটা?”

“ইয়ার্কি মারছিস না কি? নিজের প্রাণটা আগে বাঁচা, তারপর ওটার কথা চিন্তা করিস। যাঃ!”

এই “যা”টার ওপর একটা অস্বাভাবিক কর্তৃত্বের জোর।

* * * * * * * *

টি টোয়েন্টির ইনিংসের ফাঁকে অয়ন কার্টি শার্কের তৃতীয় পেগটা ঢেলেছে ঝকঝকে ইটালিয়ান কৃষ্টাল গ্লাসে, বরফের দুটো টুকরোর ওপর। মিউট করার আগেই দূরদর্শনের পর্দায় কোক্, পেপসি, লে’জ্, বিশুদ্ধ জল, সোডা, কফি, বার্গারের ভীড় কাটিয়ে ভেসে উঠলো রোহন গোমেজের মুখ। প্রথম সারির সুদেহী মডেল।  কুসুমপুরে এসে রহস্য‍জনক অন্তর্ধান। শক্ত সুশ্রী দেহ, সুন্দর সরল হাসি বারবার পর্দায় ঘুরে ফিরে আসছে।

মাস তিনেক আগে ঠিক এখানেই নিখোঁজ হয়েছিল ছায়াছবির নায়ক অর্জুন মিত্র। মিডিয়া তোলপাড়, টালিগঞ্জে বিক্ষোভ, কলকাতা জুড়ে মিছিল, তর্ক বিতর্ক, উতোর চাপান, বদলি সাসপেনশনের ঝড় উঠল - অর্জুনের কোন খোঁজই পাওয়া গেল না । এবারেও তাই, ঐ কুসুমপুর পর্যন্তই খোঁজ পাওয়া গেছে রোহনের - তারপরে একেবারে নিশ্চিহ্ন। সারা সপ্তাহ জুড়ে পুলিশের ব‍্যর্থতা, সরকারের অকর্মণ‍্যতা আর দায়িত্বহীন চড়া মনোভাব নিয়ে কলকাতায় তুমুল আলোড়ন।

ধোনী সবে এসেছে, হাতের গ্লাভস টাইট করেছে, হেলিকপ্টারের চরকী শুরু করেনি এখনও, শানানো কৌতুহলী চোখে এদিক সেদিকের ফিল্ডার সাজানো দেখছে। ৪৮ করতে হবে ১৮ বলে, সেদিকে ওর কোন টেনশন, উত্তেজনা নেই, অথচ সারা ষ্টেডিয়াম চনমন করছে উন্মুখ প্রতীক্ষায়।

অয়ন মুহূর্তের মধ‍্যেই ঠিক করে ফেলেছে - রহস‍্য উদ্ঘাটনের স্কুপটা সমাধানের চেষ্টা করতেই হবে। সাতাশের সটান যুবক - অনেকদিন পর একটা নতুন এ‍্যাডভেন্চারের গন্ধ পেয়ে উত্তেজিত। রন্জিট্রফির খেলোয়াড়, টেনিসে ইউনিভার্সিটি চ‍্যাম্পিয়ন, রোজ সকালে ছ’কিলোমিটার জগিং, নন্ স্টপ। আপাতত নির্ভীক রহস‍্যসন্ধানী সাংবাদিক। ধাঁধাটার উত্তর মেলাতে পারলেই ‘ভেতরের খবর’ কাগজের হেডলাইন - স্টপ্ প্রেস। হু হু করে কাটতি বেড়ে যাবে, ভাবা যায়? বাঁ হাতে গ্লাসে একটা বড় চুমুক দিয়ে ডানহাতের আঙ্গুল দিয়ে ডায়াল করল। ঠিক হয়ে গেল - শনিবার টি টোয়েন্টির ফাইনালটা কভার করে রোববার বিকেলেই সে বেরিয়ে পড়বে। না না আর কাউকে বলার দরকার নেই - জানাজানি হয়ে যাবার সম্ভাবনা। মানুষেরা জানবে কুসুমপুরে একটা ফুটবল একাডেমি খোলা হতে পারে, সেই ব‍্যাপারেই ওখানে যাওয়া।

* * * * * * * * *

অন্ধকারেই হাঁটতে আরম্ভ করেছিল অয়ন, দ্রুতগতিতেই। সাদা বাড়িটা আধো অন্ধকারে চুম্বকের মত টানছে। ডানদিকে একটা ওপরে আর একটা নীচের ঘরের কাঁচের জানলা দিয়ে আলো এসে পড়েছে মোলায়েম করে ছাঁটা মখমল ঘাসের ওপর। কেয়ারী করা পিটুনিয়া, এ‍্যালেজিয়া, দোপাটি, জিনিয়া আর কসমসের ঝাড়গুলোতে অন্ধকারেও আলোর বিন্দু।

খানদানী কাঠের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে একটু ইতঃস্তত করে কলিং বেলে আঙ্গুল ছোঁয়ানোর আগেই আচমকা দরজাটা খুলে গেল। ফ্রেমটার বাঁদিকে চৌকাঠে হাত রেখে এক সুশ্রী মহিলা, কচি ভুট্টাদানার মত সাজান দাঁতে বুক ছলকানো হাসি। হাল্কা সবুজ পাতলা শাড়ি আর হাতকাটা সংক্ষিপ্ত লাল ব্লাউজে কৃষ্ণচূড়ার প্রতিচ্ছবি।

“আসুন আসুন - আপনার জন‍্যেই অপেক্ষা করছিলাম।” অবাক অয়নের কোন প্রশ্নের আগেই উত্তরটা ভেসে এলো! “দেখলাম তো আপনাকে এদিকে আসছেন - কই আসুন?” আন্তরিক আহ্বান, সূক্ষ্ম মেরুণ ঠোঁটের দুপাশে ছোট্ট দুটো গজদাঁতের আভাস।

“আমি রীনা!” পেলব হাতটা বাড়িয়ে দিয়েছে রীনা।

“অয়ন, অয়ন সামন্ত – সাংবাদিক”।

এক অপার্থিব মোহিনী সুগন্ধির মধ‍্যে দিয়ে করিডোরটা হেঁটে গেল অয়ন তাকে অনুসরণ করে। সামনে দেওয়ালের কোণায় দুর্দান্ত একটা জাপানি ল‍্যাম্পশেডের ভেতর থেকে সবুজ আলো স্বপ্ন ছড়াচ্ছে, ঠিক নীচেই একটা অক্টোপাস থেবড়ে পড়ে আছে - কোরাল। দুটো দরজা পেরিয়ে ডানদিকে সিঁড়ি উঠে গেছে‍। সুঠাম বাহুমুদ্রায় পর্দাটা উঠিয়ে ধরেছে রীনা - “আসুন, এই ঘরে বসুন। আমি এক্ষুনি চা বানিয়ে আনছি। চা না কফি - কোনটা পছন্দ? আমার ঠান্ডা বীয়ারও আছে গেস্টদের জন‍্যে”

“না না কফিই ঠিক আছে।”

“দুধ চিনি ছাড়া, কড়া করে তো? রাত জেগে কাজ করা সাংবাদিক।”

য়ন মাথা নাড়িয়ে সোফায় গা ছেড়ে দিল। মাথার মধ‍্যে রাস্তার ঘটনাটা দুর্যোগের সংকেতে জটলা পাকাচ্ছে।

পায়ের কাছেই একটা ষ্টাফড্ কুকুর - কুচকুচে কালো, জলন্ত চোখ, অস্বাভাবিক জীবন্ত। হাল্কা সুন্দর রং করা ঘরের দেওয়াল, সিলিঙে কোথাও আলো নেই - দু কোণায় দুটো বিলিতি টেবল ল‍্যাম্পের আলো শুধু কোনা দুটোকেই ভাসিয়ে রেখেছে, ঘরটা নরম অন্ধকারে। ছায়া ছায়া শীতল আলো অন্ধকার, সোফার পাশেই একটা  সবুজ সুগন্ধী মোমবাতি নিষ্পলক জ্বলছে। বাঁদিকে ক‍্যাবিনেটের দুটো তাক ভর্তি নানাধরনের কৃষ্টাল সেট - উল্টোদিকে বিশাল ক‍্যাবিনেটে টি ভি, হোম থিয়েটার সুন্দর করে সাজানো। মাথার ওপর সাব-স্পীকার দুটোর মাঝখানে ঘড়ি বুকে নিয়ে একটা ষ্টাফড্ প‍্যাঁচা ঝাঁপিয়ে পড়ার অপেক্ষায় - গাঢ় হলুদ চোখদুটো ভয়াবহ।

“এই ষ্টাফড্ প্রাণীগুলি তো ভারী জীবন্ত? গ্রামদেশে কোথা থেকে পাচ্ছেন এসব?”

রীনা কফির ট্রে নিয়ে ঢুকছে, সাংবাদিক সুলভ ঔৎসুক‍্য দেখালো অয়ন। মাথার ভেতর ভোমরার ভনভনানি থামাতে হবে তো?

“আমি নিজেই তৈরী করি - ছেলেবেলায় শিখেছিলাম।” কফির কাপটা সাইড টেবিলে নামাতে গিয়ে একটু বেশিই ঝুঁকে পড়ল রীনা, অনাবশ‍্যক। খসে পড়া আঁচল একটু সময় নিয়ে গোছাতে গোছাতে বলল - “আসলে আমার না, প্রিয়জনদের ছাড়তে ইচ্ছা করে না, চিরকাল নিজের কাছেই রেখে নিতে চাই আমি। আরো কয়েকটা বানাবার ইচ্ছে আছে”।

স্বচ্ছ শাড়ীর চুমকিগুলো চিতার নীল চোখের মত জ্বলছে।

“খুবই সুন্দর কিন্তু, একেবারে জীবন্ত।”

“তা, কুসুমপুরে তো তেমন কিছুই ঘটে না খুব একটা, আপনাদের আসার মত?”

“ঐ একটা ফুটবল এ‍্যাকাডেমির ব‍্যাপারে আসতে হল। তবে কুসুমপুর তো গত দু-তিন মাসে খবরের ওপরতলায় উঠে এসেছে। দু-দুজন ডাকসাইটে হ‍্যান্ডসাম সেলিব্রিটি হঠাৎ এখান থেকেই নিরুদ্দেশ হয়ে গেলেন না?” রাস্তার ঘটনাটা এখনই বলবে কিনা ঠিক বুঝতে পারছে না অয়ন।

“হ‍্যাঁ, তা বটে। তবে আপনিও তো কিছু কম যান না মিস্টার সামন্ত? শরীর দেখলেই বোঝা যায় - খেলাধুলো দৌড় ঝাঁপের মধ‍্যে আছেন নিশ্চয়ই?” উত্তরটা ইচ্ছে করে এড়িয়ে গেল না কি? ওর উদ্গ্রীব দৃষ্টিটা অয়নের শরীরে শিহরণ জাগিয়ে নিঃশব্দে কাঁটা তুলছে।

“ঐ আর কি - ছিলাম . . . . । দেখুন, আমার মোবাইলটা হঠাৎ ডেড হয়ে গেল কেন বুঝতে পারছি না, চার্জ তো পুরো করে এনেছিলাম। আপনার এখান থেকে দু একটা কল করা যাবে? কোলকাতার অফিসে যোগাযোগ করাটা খুবই জরুরী।”

“হ‍্যাঁ হ‍্যাঁ নিশ্চয়ই, আপনি কফিটা শেষ করুন আমি আসছি”। শরীরে একটা সুঠাম বাঁক তুলে বেরিয়ে গেল রীনা।

আমার গাড়ির কি হবে? অয়ন ভাবছে - এখন একা বেরোবার প্রশ্নই ওঠে না। এরা কারা, কেনই বা আমাকে ভয় দেখাচ্ছে? লোক ভুল করছে না তো? অথৈ জলে সাঁতরাচ্ছে অয়ন। দেওয়ালের প‍্যাঁচা ঘড়িটা হঠাৎ ক‍্যাঁ ক‍্যাঁ করে ভীষণ চমকে দিল অয়নকে - জানান দিল রাত আটটা। জানলার বাইরে তখন অন্ধকার জমাট বেঁধেছে - কুকুর আর প‍্যাঁচার পাথুরে চোখে সম্মোহনী টান।

একটা রেজিষ্টার হাতে দরজায় রীনার মায়াবী দেহলতা, আঁচল আঁট করে কোমরে গোঁজা। অয়ন পুরনো সুতোটাই ধরলো আবার -

“আচ্ছা, কুসুমপুর জায়গাটা তো ছোটই, আপনি রোহন, অর্জুনদের কাউকে দেখেছেন? আমার সত‍্যিই খুব অবাক লাগে”।

অয়নকে কেটে দিয়ে রীনা বলে উঠলো, “জানেন, আমার ঐ দুজনকেই খুব ভাল লেগেছিল। পুরুষালী সুন্দর ফিগার আর অর্জুনের ব‍্যবহারের তো কোন তুলনাই হয় না - অসম্ভব ভদ্র। মনে হয় কখনই কাউকে না বলতে পারে না। খুব লাজুক মানুষ, ওর হাতের আঙ্গুলগুলো অতো নরম হয় কি করে জানি না। আর রোহন? পেটানো শক্ত চেহারা, হাসিটা মারাত্মক, সব জ্বালিয়ে দেবার মতই। আমি আপনাদের ঐ সিক্স প‍্যাক এইট্ প‍্যাক বুঝিনা কিন্তু রোহানের শরীরটার আকর্ষণ সাংঘাতিক। সারা শরীরে এক ফোঁটা মেদ দেখলাম না। যাক্ গে যাক্ - সেসব পরে হবে। এই খাতাটাতে আপনার নাম, ঠিকানা আর কতদিন থাকবেন সব লিখে দিন, ঐ নিয়ম মাফিক আর কি। মাস চারেক হল গেস্টহাউস খুলেছি, মাত্র দুজন এসেছেন এতদিনে। আপনিই আমার তৃতীয়”।

খাতাটা কোলের কাছে ধরে পেন হাতে রীনা একেবারে গায়ের ওপর ঝুঁকে পড়েছে। মুখটা ঠিক অয়নের মাথার ওপরেই। গাঢ়, তীব্র নিঃশ্বাসে দোলনচাঁপার উথাল পাথাল গন্ধ। অয়ন খোলা পাতাটার ওপর দিকেই নিজের নাম ধাম লিখে দিল। নিছক কৌতূহল বশে আগের পাতাগুলো উল্টালো সে। হ‍্যাঁ, মাত্র দুটো নামই লেখা আছে তাতে।

কিন্তু, কিন্তু!

মাথা থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত দুহাজার ভোল্ট্ নিয়ে একটা বরফ শীতল সরীসৃপ সরসরিয়ে নেমে গেল গায়ের  লোম খাড়া করে দিয়ে। এটা কি, কি এটা - ঠিক দেখছি তো?

প্রথম নামটা অর্জুন মিত্র, ২৩ জুন, দ্বিতীয় রোহান গোমেজ, ১০ সেপ্টেম্বর। ফেরার তারিখ নেই!

মাথায় এলোপাথাড়ি ঝড়, বুকে অজানা আশংকার ধাক্কা। অবশ আঙ্গুলের খাঁচা থেকে পেনটা গড়িয়ে পড়ে গেল। ওটা তোলার আগেই খোলা পাতার ওপর টপ্ টপ্ করে পড়ল তাজা রক্তের ফোঁটা। পায়ের কাছের কুকুরটা হঠাৎ খাড়া দাঁড়িয়ে উঠলো, অয়নের মুখের থেকে ঠিক ছ ইঞ্চি দূরে ওর হিংস্র মুখটা অন্ধকারেও জ্বলছে - অর্জুন মিত্র বসানো। ঠিক তখনই প‍্যাঁচাটা পাখা ঝাপটিয়ে মাথার চারদিকে পাক দিতে দিতে আরো, আরো কাছে নেমে আসছে। ক্ষীণ দৃষ্টিতেও চিনতে ভুল করল না অয়ন - অবিকল রোহান গোমেজ!

কোনরকমে উঠে দাঁড়াবার চেষ্টা করলো অয়ন, কিন্তু হাঁটু তো মাটির তাল। নেতিয়ে পড়ল সে সোফাটার ওপরেই। আধো অন্ধকারে মাথার ওপর রীনার মুখটা ততক্ষণে বীভৎস কঙ্কাল, গজদাঁত দুটো অয়নের প্রায় বন্ধ চোখের সামনে সরসরিয়ে বেড়ে যাচ্ছে -

পুরোপুরি জ্ঞান হারাবার আগে চাপা গলার খসখসানি কানে এলো - “আমার কাছে আপনি কতদিন থাকবেন সেটা এখন আমিই লিখে দিই , মিষ্টার অয়ন সামন্ত?”

 

 

2 কমেন্টস্:

  1. অমলানদা , শব্দের বুননে রহস্যের এমন নিপুণ জাল বিস্তার করেছেন যে, পাঠক কখন অয়নের সঙ্গে অজানার পথে পা বাড়িয়েছে, তা টেরই পায় না। কুসুমপুরের নিঝুম অন্ধকার, ছায়া আলোয় মোড়া পরিবেশ আর কাহিনির ক্রমশ ঘনীভূত রহস্য , সব মিলিয়ে এক রোমাঞ্চকর আবহের সৃষ্টি হয়েছে। শেষের চমক যেন মেরুদণ্ড বেয়ে হিমশীতল শিহরণ জাগিয়ে দেয়! পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
    বারীন

    উত্তরমুছুন
  2. অম্লান বোস - অনেক ধন‍্যবাদ বারীন । কাজল আমার কয়েকটি গল্প প্রকাশ করেছে তবে কোনটাতেই কারোর কোন মন্তব‍্য দেখি নি কাজেই আমার এগুলো পাঠাবার সার্থকতা সম্বন্ধে এটা প্রশ্চিণ্হ থেকেই যায় । তোমার মন্তব‍্যে উৎসাহ পেলাম ॥

    উত্তরমুছুন