কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / সপ্তম সংখ্যা / ১৪৬

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / সপ্তম সংখ্যা / ১৪৬

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সঞ্জয় রায়

 

কবিতার কালিমাটি ১৬১

 

 

মৃত্যু-মুক্তি

বর্গি আসে, যন্ত্রণা আসে পঙ্গপালের মতো

কোমরে গোঁজা নাইন এম এম, হাতে গ্রেনেড

তাঁবু গাঁড়ে শান্তনীড়ে, আমার খায়, আমার পরে

নোংরা করে বাগান যত্র তত্র ত্যাগে, দুর্গন্ধ ছড়ায়

প্রতিবাদে নির্লিপ্ত

পবিত্র মানুষের নির্ভুল পরিধি ওরা জানে!

 

এক নিশুতি রাতে বিচার সভা বসে

কাকভোরে আমার হাত চোখ বেঁধে

জঙ্গলের পথে নিয়ে যায়, আমি তখন

মৃত্যুকে মুক্তি ভাবতে শুরু করেছি!

 

তীর-বিদ্ধ বনানী

প্রতিদিন রক্তাক্ত করো বনভূমি

আপন খেয়ালে

কী চেয়েছিল সে, একটু খনিজ

নিষ্পাপ জলবায়ু, একমুঠো রোদ্দুর ছাড়া?

 

সে শুধু দিতে এসেছিল!

 

হৃদস্পন্দন শুনেছ বনানীর?

অমোঘ বহমান সংগীত?

দেখেছ যাপন-যন্ত্রণা, তীর-বিদ্ধ

ক্ষতবিক্ষত বোধ?

 

সবাই ভিখিরি নয়

নির্বাক সেও শিখে নেবে

দর্পে বেঁচে থাকার শিল্প

একদিন ঠিক শিখে নেবে।

 

অবহেলায় রক্তে ভাসে বনাঞ্চল,

ভেসে যায় অধম কোন অন্তর্লীনে!

 

হে মহাপ্রভু

সমুদ্র থেকে হিমাচল তোমার পদতলে

হে মহাপ্রভু,

দেবতাত্মা তুমি

তুমিই দিয়েছ প্রাণ মৃত প্রভু রামে

দিয়েছ ফিরে জন্মভুমি, রাজ্যপাট

ভুলেছ মা সীতারে, ঠিক প্রভুর মত

সন্দেহ রাত জাগে অগ্নি পরীক্ষার পরেও!

 

রামরাজ্যে ভক্ত ভাসবে জোয়ারে

সে তো জানাই ছিল

পাপমুক্তি আশা, পাপীতাপী

আনবে উপঢৌকন

সোনাদানা হীরা জহরত,

দূর্বার বিকাশ সমৃদ্ধ রাজ্যপাট

দীনহীন রাজা বড্ড বেমানান!

 

মন্ত্রী, সান্ত্রী, কোণে কোণে চৌকিদার

সর্বত্র বিরাজ হে অন্তর্যামী

সুতীব্র অলৌকিক দৃষ্টি তোমার

যে তস্কর শূন্য করে রাজকোষ

সেও তো তোমারি হে মহাপ্রভু!

 

মুখ্যুসুখ্যু হাভাতে মানুষ আমরা

তোমার অপার লীলা দেখি

সম্মোহিত হই, তাই সমস্বরে গাই

জয় শ্রীরাম, জয় মহাপ্রভু!”

 

ভেসে থাকা

 

কোমলতম অনুভূতি হয়ে

সমাহিত হও

এ প্রান্তর শরীরী গন্ধ পেরিয়ে

কুয়াশা-ভেজা স্পর্শ মিসেছে

এখানে বুনোরা আসে না তেমন

এখানে মহুয়া মাদক বাতাশ

সবুজ আঁকাবাঁকা পথ পাহাড়

নীরব বনাঞ্চল, জলরেখা আঁকা

অজানা ইশারায় ভেসে থাকা,

মেঘেরা উড়ে উড়ে যায় সীমান্তের ওপারে!

 

বিচ্ছেদ ভান

 

অন্তরালে নীরবে যে রক্ত ঝরেছে

সেখানেও অশ্রু লেখা আছে

আছে নিবিড় ভালোবাসা গাথা

তার পরেও ঘৃণা, অন্তহীন হিংস্রতা 

এবার তবে যাওয়া যাক বিচ্ছেদ পথে!

 

তারপর থামে না কিছুই

সময়, এ পথচলা …

কেউ কি থেমেছে কখনো?

নক্ষত্র স্তরে স্তরে অজানা বাঁধনে

হাতে হাত রেখে জড়িয়ে চুম্বনে

সবাই ছুটছে দুরন্ত ঘূর্ণি পথে!

 

কতদূর যাবে বিচ্ছেদ পরে

কতদূর যাওয়া যায় ভিন্ন পথে?

চুম্বকে ইথারে জড়িয়ে সবাই

বিদ্যুৎ তরঙ্গে নিবিড় চুম্বনে

যেতে পারো বড়জোর বিচ্ছেদ ভানে

অলিন্দ পানে!

 

 

 

 

0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন