![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৬১ |
আমার বারান্দা
আমি পেয়েছি ভাগ্যক্রমে তিনতলার এক প্রশস্ত বারান্দা
যার দক্ষিণ পূর্ব খোলা,
যেখানে বসন্ত গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় আবাধে খেলে বেড়ায় দখিনা বাতাস
যেখানে বর্ষার বর্ষণ রেখে যায় স্নিগ্ধ স্পর্শ তার
সিক্ত গুলঞ্চ গন্ধরাজের সুবাস ভরে তোলে আঙিনা বিতান
যেখান থেকে দেখা যায় শরতের জোছনার আকাশে ভাসমান সাদা মেঘের ভেলা
যেখানে সকালের রোদ্দুর নিত্য এঁকে যায় আলোর আলপনা
গোধূলিতে পশ্চিম আকাশে খেয়ালি সূর্যের রং নিয়ে নিত্য অপচয় …
এ নয় জোড়াসাঁকোর মহিমময় দক্ষিণের বারান্দা –
গগণেন্দ্র সমরেন্দ্র অবনীন্দ্রের স্পর্শধন্য – তাঁদের সৃষ্টির উৎসস্থল;
তবু এই বারান্দায় সান্ধ্য অবসরে কখনো মিলেছে বৈকি সৃষ্টির প্রসাদ
বাস্তবের অনেক প্রতিকূলতাকে অগ্রাহ্য করে,
হয়তো সামান্য – নগণ্য কখনো তবু নয় –
তাতেই রয়েছে ভরে অকিঞ্চনের সঞ্চয় ভাণ্ডার …
কর্মণ্যেবাধিকারস্তে
কাজ করে যাচ্ছি, করে যেতে হচ্ছে, প্রতিদিন প্রতিনিয়ত,
আগামীকাল অনিশ্চিত জেনেও--
আজকের বেঁচে থাকার অঙ্গীকার অবশ্যকর্তব্য জেনে।
অবতার কৃষ্ণকেও তাঁর কর্ম করে যেতে হয়েছিল
চোখের সামনে তাঁর যদুবংশের স্বজননিধন প্রত্যক্ষ করেও…
হিসাব রাখতে হয় তৈল তন্ডুলের
লক্ষ রাখতে হয় ঘরের কোণে ঝুল জমল কিনা,
পাপোশটা পর্দাটা সরে গেলে ঠিক করে দিতে হয়,
হঠাৎ বৃষ্টি এলে শশব্যস্তে দিতে হয় জানলায় ছিটকিনি …
এইসব কাজ কোন কীর্তির পর্যায়ে পড়ে না –
নেহাতই কৃত্যকর্ম।
কীর্তিও কিছু চিরস্থায়ী নয়, সেই ভেবে স্বস্তি পাই,
স্বস্তি পাই এই ভেবে –
বিশ্ববিধানের অঙ্গ হয়ে কর্ম করে যাচ্ছি,
পালন করে যেতে পারছি আমার নির্দিষ্ট ভূমিকা …
আছি সংযত প্রস্তুত
কাল সকালে হয়তো সূর্যোদয় দেখা হবে না
আকাশ মেঘে ঢাকা থাকলে মেঘও দেখা হবে না
মেঘ থেকে বৃষ্টি ঝরে পড়লে বৃষ্টিও দেখা হবে না
রোদ মেঘ বৃষ্টি নিয়ে এই জীবনযাপন থেমে যাবে এক ধাক্কায় …
ধাক্কা বলছি কেন,
হতেও তো পারে সে এক মসৃণ উত্তরণ,
হতেও তো পারে সে উৎসবমুখর দিনের শেষে সকরুণ ঘরে ফেরা,
হতেও তো পারে সে এক নৈর্ব্যক্তিক অনুভূতি …
তা সে যাইহোক,
তার জন্যে আছি সংযত প্রস্তুত …

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন