![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৬১ |
শেষ ভ্রমর
(১০)
মশকরাবাজ : নিজের দাঁড়কাকটিকে কালো কাপড়ে ঢেকেছি। তবু তার খিঁকখিঁক হাসি শোনা যায়।
ভ্রমর : ধৈর্য দিয়ে বাঁধ দিতে দিতে আমি নিজের নদীকেই শুকিয়ে ফেলেছি।
মশকরাবাজ : এখন সেই সময় যখন বাঁচার অর্থ হল বোঝা এবং না-বোঝার বাইরে ফুর্তির অচেনা আগুনে শুকনো ডালপাতার মতো ভিড়ে যাওয়া।
ভ্রমর : টর্চ কিংবা বাইনোকুলার এড়িয়ে এইভাবে যাপনক্রিয়ার শরীরে ড্রিল মেশিন ঢুকিয়ে কি টেনে বের করে আনা যায় নাচনেওয়ালার পোশাক?
মশকরাবাজ : চিহ্নের সাথে চিহ্ন, রং-এর সাথে রং মিলিয়ে আদর এবং প্রত্যাখ্যান। এভাবেই আমি সামাজিক, তুমি বাতিল। এটাই রঙিন প্যাকেটের মধ্যে চির-মুচমুচে থাকার অনন্ত কৌশল।
ভ্রমর : আমার যে অস্তিত্ব জুড়ে অন্ধকার পথে পাওয়া টর্চ! সেই কবে থেকে ডিঙি নৌকোয় বসে দূরের জাহাজ খুঁজতে চাওয়া বাইনোকুলার ! এইসব বুঝি ভুল চাওয়া-পাওয়া!
(১১)
টর্চ নেভানো অভিযাত্রী : বারান্দায় পাখির উপদ্রব আটকাতে দেওয়া আছে জাল। তবু পাখির ডাক অব্যাহত। রাগে অভিমানে ওরা বাতাসকে ফুসফুসে আটকে রেখে ভেসে যায় বাতাসে বাতাসে।
ভ্রমর : ভোরবেলা বারান্দায় বসে রাতের নীল দস্তানা খুলি, লাল জুতো কালো মোজা খুলি। কাজ আর পথ শেষ হবে কখন?
টর্চ নেভানো অভিযাত্রী : ড্যাম্প লাগা সন্ধ্যায় যখন কফির কাপ থেকে সবে ধোঁয়া উঠতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই শরীর ম্যাজম্যাজ করে। বয়সের ঝিমুনিতে অবিন্যস্ত ঘর আরও ঠান্ডা।
ভ্রমর : পরিত্রাণ পেতে তুমি কার সঙ্গে পাল্টাপাল্টি করে নিলে মাছ আর পাখি? আর সেই দেওয়া-নেওয়ার জংশনেই এসে হাজির গোঁয়ার এক তৃতীয়মানব।
টর্চ নেভানো অভিযাত্রী : ব্যাটারি ফুরোনোর আগে হেঁচকি তোলে সমস্ত পুতুল।
(১২)
গোঁয়ার তৃতীয় : থামাতে পারিনি শুধু লুঠপাটের হিসাব রেখেছি। ডুগডুগিতে শব্দ তাল লয় অক্ষুণ্ণ রাখার দায় শুধুই আমার?
ভ্রমর : উপযুক্ত মানুষকে খোঁজে কাজ। পাগলকে খোঁজে খেয়াল।
গোঁয়ার তৃতীয় : খেয়ালের বশ হতেই তো পেলাম পরশমণি। আর সেই পরশমণির অর্ধেকটা কেড়ে নিল কর্তৃত্বপরায়ণ এক এবং বাকি অর্ধেকটা কপিমাস্টার দুই। ওরাই জিহ্বাশক্তি মধুবাক্যে সারাৎসার নিয়ে কেটে পড়ে। পড়ে থাকি এলেবেলে বুঝনদার, জিহ্বার লালা হয়ে শুধু ঝরি আর শুকিয়ে যাই পথে ও বিপথে।
ভ্রমর : লালাযুদ্ধ থেকেই তো শুনি লেগে যায় আসল যুদ্ধ! লাইসেন্স শব্দের সঙ্গে পরিচয় না থাকা প্রাচীন বন্দুকের বারুদ ফুরিয়ে যায়। তবু সে ইগোর গজদন্ত দুটি খুলতে পারে না।
গোঁয়ার তৃতীয় : ইতিহাসের ছাঁটাই করার চালুনিতে গড়াগড়ি খায় খড়ের সৈনিকদের চুপ থাকা, চিৎকার, ইচ্ছে, প্রশ্ন আর গুপ্তপ্রণয়।
ভ্রমর : ইতিহাস অভিযাত্রী নয়, ইতিহাস অনুসরণকারী।

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন