কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / সপ্তম সংখ্যা / ১৪৬

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / সপ্তম সংখ্যা / ১৪৬

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অম্লান বোস

 

কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৫১

 

 

প্রথম পরিচয়

হাসপাতালের ঢোকার দরজা থেকে আসতে শুরু হয়েছে বলিষ্ঠ আর আত্মবিশ্বাসী পায়ের শব্দটা। সৌমিক সেন, জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের তুখোড় অফিসার - ভয়ডর নেই ওর অভিধানে, পরাজয়ে সে বিশ্বাসই করে না। কিন্তু অবিশ্বাস্য ঘটনা, এই মূহূর্তে সে মেডিক‍্যাল কলেজে আই-সি-ইউর একটা কেবিনে শুয়ে। একটার পর একটা অপরাধীকে প্রমাণ সমেত অন্ধকার গুহা থেকে অনায়াসে টেনে এনে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে সে। অপরাধ জগতে অজস্র শত্রু তার। সৌমিক এদের নিয়ে খেলা করতে ভালবাসে, এটা ওর হবি আর নেশাও বলা যায়! ওদের চালচলন গতিবিধি ওর নখদর্পণে। সাফল‍্য ওর পেছনে দৌড়ায়।  

বাইপাসে এক খুনীকে তাড়া করতে গিয়ে সেদিন উল্টোদিক থেকে একটা পাঞ্জাব সাইডিং ট্রাক এসে মারাত্মকভাবে হন্ডা গাড়িটা তুবড়ে থেবড়ে দিয়ে বেরিয়ে গেছিল সৌমিককে রাস্তার ধারে অজ্ঞান করে ফেলে রেখে। উল্টোদিক থেকে রঙ্ সাইডে এসে বাঁ দিকটা একেবারে ধ্বংস করে দিয়ে গেছিল।

হাই-হিলের আওয়াজ স্পষ্ট হয়ে উঠছে ক্রমশঃ। এখন আই সি ইউ কেবিনের দরজায় এসে পৌঁছেছে। সদা সতর্ক সৌমিক একটু বিচলিত, বিপজ্জনক সঙ্কেতের ছায়া পড়ছে সৌমিকের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়তে। ওর দুর্ঘটনাটা যে সাধারণ নয় সেটা জ্ঞান হতেই বুঝেছে সৌমিক, ওকে নিশ্চিহ্ন করার জন‍্যেই পরিকল্পিত ছক কষা। চোখ দুটোকে সরু করে দরজার দিকে তাকালো, দৃষ্টি ঝাপসা। দুয়ে দুয়ে চার মেলাতেই সে নিশ্চিত - এবার আততায়ী চরম আঘাত হানতে মুখোমুখি আসছে, হাসপাতালে এত বড় সুযোগ হাত থেকে পিছলে যাবার কোন সম্ভাবনাই দ্বিতীয়বার রাখবে না তারা। শরীর দুর্বল, চিরসাথী স্মিথ এ‍্যান্ড ওয়েসন্ জে ফ্রেম সিরিজের মারণাস্ত্রটাও সঙ্গে নেই। ওর ক‍্যারাটে তাইচি অভ‍্যস্ত পেশীগুলো এই মুহূর্তে সচল হতে পারছে না। সন্ত্রস্ত নার্স দ্রুত এগিয়ে গেল কেবিনের দরজার দিকে। অসহায় সৌমিক বিছানায়। বাঁপাশের পর্দা তুলতেই বিভীষিকার পাথরমূর্তি, কালো কাপড়ে সর্বাঙ্গ ঢাকা কেবল বোরখার ফাঁক দিয়ে একটা হিংস্র, বীভৎস মুখ দেখা যাচ্ছে। কেবিনের অস্পষ্ট আলোতে ওই মহিলার সাপের স্হির, শানিত প্রখর দৃষ্টি। পরিচিত মুখ - রিঙ্কু, সর্বাধিক কাঙ্ক্ষিত আন্ডারওয়ার্ল্ডের বিপজ্জনক অব‍্যর্থসন্ধানী, ঠান্ডা মাথায় নির্ভুল নিশানা তার।

প্রথম দুটো গুলি চললো নার্সের মাথায় আর পেটে, রিভলভারটা পেটে চেপে ধরে। নিমেষে সুরমার শরীরটা দরজার চৌকাঠে গড়িয়ে পড়ল। কোনদিকে ভ্রূক্ষেপ নেই পিস্তলধারিণীর, পর্দা সরিয়ে ঢুকতে গিয়েই বিপত্তি। মৃতশরীর টপকে ভেতরে আসতে গিয়েই বাধা পড়ল - হোঁচট খেয়ে রিঙ্কু সটান আছড়ে পড়ল মার্বেল মেজেতে, রিভলবারটা ছিটকে উড়ে এলো সৌমিকের বিছানায়। রিঙ্কু চিতার মত ক্ষিপ্রগতিতে লাফিয়েছে - কিন্তু তার আগেই তড়িতগতিতে সৌমিকের অভ‍্যস্ত হাতে উঠেছে ঐ কোল্ট্ জিরো পয়েন্ট টু। কিন্তু ততক্ষণে ওর ওপরে প্রাণপণ শক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে রিঙ্কু, ১৭০কেজি ওজন নিয়ে। ক্লোজরেঞ্জে।

ঐ ঝটকাতেই বোধহয় সৌমিকের শেষরাতের ঘুমটা ভেঙে গেল। গেন্জি চুঁইয়ে ঘামের স্রোতে বিছানার চাদর জবজবে। বুকের ভেতর অস্থির দামামা। মাথায়, রগের শিরায় শিরায় হাতুড়ির ঘা। এতদিনে প্রথমবার ভয়ের পরিচয় পেল সৌমিক।

 

0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন