রামকৃষ্ণ সঙ্গীত আর বিবেকানন্দ কীর্তন
ইংরেজী নববর্ষের প্রথম দিবস, আমাদের
কাছে আনন্দের দিবস। নতুন বছরের উৎসব যাপনের আনন্দে বিভোর হয়ে ওঠে দাড়া বিশ্ব। পুরনো
বছরের সমস্ত আত্মগ্লানি, আত্মশ্লাঘা, বিবর্ণ সময়কে মুছে ফেলে নতুন বছরের নতুন স্বপ্নকে
আঁকড়ে বাঁচার আনন্দ। এই আনন্দের কত রকম বহিঃপ্রকাশ। কতরকম স্তর, কতই না তার নাম।
১লা জানুয়ারি, ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দের
১৮ই পৌষ ১২৯২ কৃষ্ণা একাদশী তিথিতে কাশীপুর উদ্যানবাটি দেখেছিল আধ্যাত্মিক আনন্দের
এক গভীরতম প্রকাশ। দেখেছিল শ্রীরামকৃষ্ণের অন্তলীলা। এই অন্ত্যলীলা পথে তাঁর বিশ্বরূপ
দর্শনে বিহুবল হয়ে পড়েছিলেন ভক্তকুল। কল্পতরু হয়েছিলেন প্রাণের ঠাকুর শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
পরমহংসদেব। রামচন্দ্র দত্ত তাঁর শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের 'জীবন বৃত্তান্ত' গ্রন্থে
উল্লেখ করেছিলেন,
"১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দের পয়লা
জানুয়ারি হইতে ইহা আমাদের পরম সৌভাগ্যের দিন বলিয়া অবধারিত হইয়াছে। ওই শুভদিনে পতিতপাবন
দীনবন্ধু রামকৃষ্ণদেব, সাধন_ভজনবিহীন, দীনহীন পতিতদিগের প্রতি সদয় হইয়া কল্পতরুরূপে,
করুণাধারা বর্ষণ করতঃ কলির কলুষরাশি পরিপূর্ণ জীবদিগকে কৃতার্থ করিয়া 'তোমাদের সকলের
চৈতন্য হোক'… বলিয়া আশীর্বাদ করিয়াছিলেন। অভয়দাতা দীননাথের এই আশীর্বাদ চিরকাল ফলবতী
থাকিবে।"...
এক অদ্ভুত বিশ্বরূপ দর্শন করেছিলেন
ভক্তকুল সেই দিনটিতে। ভক্ত বৈকুণ্ঠনাথ স্বামী সারদানন্দকে বলেছিলেন, "সকল পদার্থের
ভিতর ঠাকুরের পূর্ণদর্শন লাভে স্তম্ভিত ও মুগ্ধ হইতে লাগিলাম।" ঠাকুর ঐরূপ ভাবাপন্ন
হয়ে সেই সময় উপস্থিত সকল ভক্তদিবকে স্পর্শ করে তাদের ভেতর ধর্মশক্তি সঞ্চারিত করেছিলেন
ধর্ম ভাবকে জাগ্রত করেছিলেন।
মহাজীবনের পথিক শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব কল্পতরু হয়েছিলেন শুধু এই একটা দিনের জন্যই নয়, সমগ্র জীবনে রোগ, দুঃখ, যন্ত্রণা, জটিলতা গ্লানি সবকিছু পেরিয়েই সত্য স্পন্দনের চৈতন্য অনুভূতির জাগরণের কথা বলে গেছিলেন, সংগীতের মধ্যে দিয়ে কথার মধ্যে দিয়ে ভাবের মধ্যে দিয়ে। শ্রীরামকৃষ্ণের কৃপাশক্তির বাঁধ সেদিন যেন ভেঙে উপচে পড়েছিল। কথামৃতে এর একটি ঝলক দেখতে পাওয়া যায়। কথামৃতকার জানাচ্ছেন, 'আজ সকালে প্রেমের ছড়াছড়ি'। নিরঞ্জনকে বলেছেন, “তুই আমার বাপ, তোর কোলে বসবো”। কালীপদর বক্ষ স্পর্শ করিয়া বলিতেছেন 'চৈতন্য হও’ ...আর চিবুক ধরিয়া আদর করিতেছেন। তার এই দিব্যপ্রকাশকে স্বামী সারদানন্দ মহারাজ বলেছেন আত্মপ্রকাশে অভয়দান। শুধু পয়লা জানুয়ারির দিনটি কেন, তার অনেক আগে থেকেই তিনি ভাবসমাধিস্থ হতেন। আর এই ভাব সাধনার বড় মাধ্যমই ছিল সংগীত। সাধনার শ্রেষ্ঠ মাধ্যম সংগীত নামক পরম শাস্ত্রর কাছে তিনি করেছিলেন আত্মসমর্পণ। সুরজগতের সঙ্গে একাত্ম হয়ে উঠতেন বারংবার। সঙ্গীতকে অবিলম্বন করে ভাবজগতের এক উত্তুঙ্গ শৃঙ্গে পৌঁছে যেতেন। সংগীতের অন্তরে প্রেমকে গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ। খন্ড ব্যক্তি পুরুষের সঙ্গে অখন্ড পরম পুরুষের প্রেমের নিবিড়তম সংযোগ স্থাপন করেছিলেন। ভারতীয় দর্শনে আধ্যাত্মিক চিন্তার শেষকথা আত্মসমর্পণ। গানের মধ্যে দিয়ে রামকৃষ্ণের বিশেষ চেতনা যেন জাগ্রত হয়েছিল। তিনি নিজে উপলব্ধি করেছিলেন বলেই হয়তো পয়লা জানুয়ারির দিনটিতে ভাবসমৃদ্ধ হওয়ার সময় তিনি সকল ভক্তদের উদ্দ্যেশ্যে বলেছিলেন 'চৈতন্য হউক।'
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণের তুরীয় অবস্থাগুলির
সঙ্গে সংগীতের, কথা এবং সুরের এক অবিচ্ছন্ন সম্পর্ক ছিল, যাকে বা যে অবস্থাকে তাঁর
অনুগামীরা ভাবসমাধি বলতেন। বা 'সুফি' ধর্মশাস্ত্রে
'ফানা'র এক সমান্তরাল অবস্থা বলে মনে করা হয়। সংগীতের মধ্যে দিয়ে ভাবসমাধির বেশ কিছু
বিবরণ পাওয়া যায়, মহেন্দ্রনাথ দত্তের গদ্য রচনায়। তিনি বলছেন, "অনেক সময় বৈঠকখানায়
কথাবার্তা শেষ হইলে পরমহংসমশাই দক্ষিণ দিকের ছোট উঠানটিতে গিয়া কীর্তন করিতেন। রামদাদা
ও মনমোহনদাদা প্রথমে কীর্তনের গান আরম্ভ করিতেন। কীর্তনে খোল করতাল বাজিত না। একদিনকার
কীর্তনের গান একটু স্মরণ আছে। গানটি হইল-
‘হরি বলে আমার গৌর নাচে
নাচেরে গৌরাঙ্গ আমার হেমগিরির মাঝে'।
কীর্তনের গান আরম্ভ করিলে পরমহংসমশাই
কীর্তন এবং মাঝে মাঝে করতালি দিতেন”।
এসব বিবরণ থেকেই প্রমাণিত হয়,
কীর্তন, সংকীর্তন ভাবসংগীত শুনতে শুনতে মাঝে মাঝেই তিনি সমাধিস্থ হয়ে যেতেন। এবং অনেক
পরে প্রকৃতস্থ হতেন। স্বামীজীর গান তিনি পছন্দ করতেন। নরেন্দ্রনাথ এলেই দু’ চার কথার
পর, তাঁকে গান গাইতে বলতেন। কিছুক্ষণ গান শোনার পর ভাবস্থ হতেন। আনন্দঅশ্রু ঝরে পড়তো তাঁর দু চোখ বেয়ে। অনেক সময় পছন্দ না হলে
বলে উঠতেন, 'আলুনি'। মানে ভাববিহীন গান হচ্ছে।
কীর্তনের প্রসঙ্গ আসতেই, এখানে স্বামী বিবেকানন্দের কীর্তন গানের প্রতি শ্রদ্ধার কথাও তুলে ধরতে হয়।
বিবেকানন্দ 'কীর্তন' গানকে অত্যন্ত
শ্রদ্ধা করতেন এবং তা গাইবার সময় ‘আখর যুক্ত’ করে গান গাইতেন। তার নিদর্শন শ্রীরামকৃষ্ণ
কথামৃতে আমরা পাই। উদ্যানবাটি-তে শ্রীরামকৃষ্ণদেব যখন অত্যন্ত অসুস্থ, তখন একদিন একটু
স্বস্তিবোধ করার সময় সকলকে বুঝিয়ে বলেন যে, নরেনের হলো ‘বীরভাব’ আর মণির হলো
'’সখীভাব’। তখন নরেনকে ঠাকুর গান
গাইতে বলায় নরেন সুর করে গেয়েছিলেন-
"নলিনী দলগত জলমতি তরলং
তদ্বজীবনমতিশয় চপলম
ক্ষণমপি সজ্জন সঙ্গতি রেকা
ভবতি ভবর্ণবতরনে নৌকো"
অর্থাৎ পদ্মপাতার ওপর জল যেমন টলমল
করছে, অল্প সময়ের জন্য একটুখানি সাধুসঙ্গ করতে পারলেই, এই সংসারসাগর পার হওয়ার ক্ষেত্রে
নৌকো হয়ে দাঁড়ায়। এই গান গাওয়া মাত্র শ্রীরামকৃষ্ণ বললেন, "ওকি ওকি! ওসব
ভাব অতি সামান্য”। একথা শুনে নরেন্দ্রনাথ সখীভাবের গান গাইলেন।
বিবেকানন্দ কীর্তন গাইতেন এবং সেইসঙ্গে
নৃত্য করতেন। আবার তিনিই বলেছিলেন, "কীর্তন গাইবি কেন? ধ্রুপদ গা, ধ্রুপদের মধ্যে
একটা বীরত্বের ভাব আছে"।
বিবেকানন্দ কীর্তনের বিরোধী ছিলেন
না, তবে কীর্তন গাইতে গিয়ে পুরুষের মেয়েলিভাবের বিরোধী ছিলেন। তবে রাধাকৃষ্ণের লীলাকে
শ্রদ্ধা করতেন। তিনি বলেছেন, রাধা কৃষ্ণের প্রেমে কাম নেই। রাধা বলেছে কৃষ্ণকে তুমি
আমার বুকে পা রাখো আমার কাম অন্তহিত হবে। ভগবানের প্রেমে কামভাব থাকে না, ভগবানের প্রেম
পূর্ণ হৃদয়। আপামর মানুষের জন্য কীর্তনের গায়কের মধ্যে নতুনত্বে আগ্রহী ছিলেন, ঠিক
নতুনত্ব না হলেও ধ্রুপদাঙ্গের কীর্তন পছন্দ ছিল, যা অনেকেই গেয়েছেন, নরোত্তম দাস ঠাকুর
এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। খেতুরীর মহাসভায় ধ্রুপদাঙ্গের কীর্তন পরিবেশন করেছিলেন। প্রভাতকুমার
গোস্বামী বলেছেন, "কেউ কেউ তো ধ্রুপদ অঙ্গের কীর্তনকে অভিজাত সংগীতের স্তরে তুলে
দিয়েছেন। কীর্তন মানুষের গণ-উপাসনার মাধ্যম হয়ে উঠেছে, একথা বলার অপেক্ষা রাখে না”।
স্বামী বিবেকানন্দ কিছু বিখ্যাত গান রচনা করেছিলেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘নাহি সূর্য নাহি জ্যোতি’, যা নির্বিকল্প সমাধি ও আত্মার ধারণা ব্যাখ্যা করে। এছাড়াও তাঁর লেখা আরো কিছু গান এবং স্তোত্র রয়েছে যেমন – “মা আমায় মানুষ করো”, “কে তুমি বাজালে নবীন", “হে মোর স্বামীজি" – ইত্যাদি, যা আধ্যাত্মিক ভাবধারা দ্বারা সমৃদ্ধ বিভিন্ন শিল্পীর কন্ঠে পরিবেশিত হয়েছে বহুবার।
সংগীতের ক্ষেত্রে রামকৃষ্ণ দ্বারা
প্রভাবিত ছিলেন তো বটেই, সেইসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ‘ব্রহ্মসংগীত’ও বিবেকানন্দকে গভীরভাবে
প্রভাবিত করেছিল। তার প্রমাণ পাওয়া যায় তাঁর লেখা সংগীত ‘কল্পতরু’ গ্রন্থে। এইসব
গান তিনি নানাসময় তাঁর গুরু শ্রীরামকৃষ্ণকে শুনিয়েছিলেন। শোনা যায় ১৮৮৫ সালের ১৪ই
জুলাই বাগবাজারের বলরাম বসুর বাড়িতে তিনি শুনিয়েছিলেন, “তোমারেই করিয়াছি জীবনের
ধ্রুবতারা”, যা শুনে আত্মহারা হয়ে যান রামকৃষ্ণ। এছাড়াও শুনিয়েছিলেন "দিবানিশি
করিয়া যতন"। আসলে নরেন্দ্রনাথ দত্ত নিজেও ছিলেন একজন উচ্চমানের ধ্রুপদী। তাই
রবীন্দ্রনাথের ধ্রুপদ আঙ্গিকের কিছু গান তিনি নিজের কন্ঠে তুলে গাইতেন।
বিবেকানন্দের জীবনে একমাত্র পথপ্রদর্শক
তো রামকৃষ্ণই। তাঁর মৃত্যুর ন-মাস পর বরানগর মাঠে বসে তিনি গেয়েছিলেন, "আমরা
যে অতি শিশু অতি ক্ষুদ্র মন"। এমন কি কৃষ্ণকুমার মিত্রের বিবাহ অনুষ্ঠানেও তিনি
রবীন্দ্রনাথের লেখা কতগুলি গান পরিবেশন করেছিলেন। দুই মহামানবের একমাত্র যোগসূত্র ছিল
সংগীত। ঠাকুর সব থেকে বেশি পছন্দ করতেন নরেনের
গান শুনতে, বেশি করে শুনতে চাইতেন, "মন চলো নিজ নিকেতনে"।
শ্রীরামকৃষ্ণের পুরো অস্তিত্বেই
ছিল সংগীত। বহু গানের আসরে ঠাকুর নরেনের কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের ধ্রুপদাঙ্গের বেশ কিছু
গান শুনতেন। অন্যান্য গানও ছিল। সেগুলো হল-
"গগনের থালে রবীচন্দ্র দীপক
জ্বলে"... (শিখ ভজনের আশ্রয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের গান)। এখানে কবিগুরুর একটি গানের
কথা মনে পড়ে-
“আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার
চরণ ধুলার তলে,
সকল অহংকার হে"...
স্বামী বিবেকানন্দ দুবার এই গান
গেয়ে শুনিয়েছিলেন ঠাকুর রামকৃষ্ণকে। এছাড়া “সীমার মাঝে অসীম তুমি বাজাও আপন সুর,
আমার মধ্যে তোমার প্রকাশ তাই এত মধুর”।
স্বামী বিবেকানন্দ ছাড়াও আরোও একজনের গান ও তাঁর গায়ন ভঙ্গি রামকৃষ্ণকে আপ্লুত করে তুলত, তিনি হলেন ত্রৈলোক্যনাথ সান্যাল। ধীরে ধীরে রামকৃষ্ণের প্রিয় গায়ক হয়ে উঠেছিলেন। ত্রৈলোক্যনাথ শুধুমাত্র গীতিকারই ছিলেন না, ছিলেন একজন সাহিত্যসেবক। ব্রাহ্মসমাজের ইতিবৃত্ত, শ্রীচৈতন্যের জীবনধর্ম, কেশবচরিত, বিধানভারত, গীতরত্নাবলী ইত্যাদি গ্রন্থের তিনি রচয়িতা। ত্রৈলোক্যনাথের লেখাও পছন্দ করতেন রামকৃষ্ণ। একবার তিনি তাঁর ভক্তদের বলেছিলেন, তোরা ত্রৈলোক্যের সেই বইখানা পড়িস, ভক্তি চৈতন্যচন্দ্রিকা, তার কাছে একখানা চেয়ে নিস না বেশ, চৈতন্যদেবের কথা আছে”। ত্রৈলোক্যনাথের আর একটি অবিস্মরণীয় সাহিত্যকীর্তি হলো ‘নব বৃন্দাবন’ নাটক, যে নাটকের অভিনেতা ছিলেন কেশবচন্দ্র ও স্বয়ং স্বামী বিবেকানন্দ এবং দর্শক ছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ। কেশববচন্দ্র সেনের অনুরাগী এবং ব্রাহ্ম সমাজের একনিষ্ঠ সাধক। সংগীত ছিল তাঁর ধ্যান জ্ঞান। ঠাকুরের সংস্পর্শে এসে তিনি আত্মচেতনায় ভরপুর হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর গান শুনে বিভোর হয়ে যেতেন রামকৃষ্ণ।
শিমুলিয়া সুরেন্দ্রনাথ মিত্রের
বাড়িতে শ্রীরামকৃষ্ণ এসেছেন, সঙ্গে রয়েছেন রাম মনমোহন তৈলক্য ও মহেন্দ্র গোস্বামী
প্রভৃতি ভক্তরা।। ঘরের মধ্যে ত্রৈলোক গান গাইছেন, ঠাকুর মাতোয়ারা হয়ে নৃত্য করছে্
সুরেন্দ্রর দেওয়া মালা যা প্রথমে ফেলে দিয়েছিলেন ঠাকুর, সেই মালা তুলে গলায় পড়লেন
তিনি। একহাতে মালা, অন্যহাত দোলাতে দোলাতে গান আর নাচ করছেন-
“হৃদয়ে পরশমণি আমার
ভূষণ বাকি কি আছে রে?
জগতচন্দ্র হার পড়েছি"।

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন