কালিমাটি অনলাইন

ত্রয়োদশ বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১৩৮

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

ত্রয়োদশ বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১৩৮

রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬

আলী আফজাল খান

 

কবিতার কালিমাটি ১৫৩


বি-রঙ পাখি

সকালে এত পাখি আসত

বাঁধা কয়েকটা... পাশের রডে বুলবুলি এসে বসত, ল্যাজ গনগনে লাল... সোজ্জা চোখে তাকাত

বাঁশপাতিগুলো কান্নিক মেরে এদিক সেদিক উড়ত, ওরা চেনাপরিচিত না... রোজ এমনি আসত

দুর্গা টুনটুনি একটা... কত্ত কাছ ঘেঁষে... দেখেছ কখনও? ধাতব গ্লসি নীল

মৌটুসী তিনচারটে

আর গোলাপিবুক দুতিনটে ঘুঘু

কি অপরূপ ছিট বুকে, হাঁ করে দেখার মতো

জবাফুলের ভেতর সেঁধিয়ে যায় এত্ত ছোট

মৌমাছির ধর্ম নিয়েছে… খুব সূঁচালো ঠোঁটে মধু ভরে খায়

রঙবেরঙ

 

স্বপ্নদোষ

তোমার বাড়ির সামনে একটা ভিন্টেজ কাঠের বাড়ি... তার দুটো খিলান দেওয়া দরজার ভেতর ওয়াগন ট্রেন চলে যায় কাঠের

তোমার দরজাটা কুঁচি দেওয়া ইস্পাতের... পাশে একটা তারজালি ঘেরা জায়গায় আরেকটা টয়ট্রেন... তাতে হলুদ রঙের দুটো মানুষ... একটা তুমি ছোটবেলার... আরেকটায় তোমার বাবা, হাফ বাঘ হাফ মানুষ

ছোটবেলার কোন একটা ঘটনা এভাবে স্মরণীয় করে রেখেছ তুমি

ভেতরে বেশ কজন মহিলা... একজন অদ্ভুত রূপোর গয়না পরে আছেন, গোল গোল মোহরের মতো ঝালর দেওয়া গলা থেকে কোমর অবধি একটা অলঙ্কার... আবার গলায় চিক রূপোর, তার মধ্যেই কলকাতা থেকে দুজন উঠতি কবি গিয়ে নক করেছে তোমার বাড়ি... চেনা চেনা লাগে... যত বলি, তোমাদের কলেজে দেখেছি না? তারা কোন এক বিশাল সম্পাদকের নাম বলে... তার বাড়িতে নাকি দেখেছি... যত বলি আমি ওসব ভারিক্কি কাউকে চিনি না, তত তারা বর্ণনা দিতে থাকে, উনি এই বিভাগের প্রধান, অমুকের হেড

তোমার বাড়ির সামনে একটা দারুণ কফিশপ আছে...দুজনে কফি খেয়েছি সেখানে

আর আমি বলার জন্য উসখুস করছি যে, আমাকে বাংলাদেশ ঘুরতে নিয়ে চল... আর দুদিন মাত্র বাকি… বাসে চেপে বেরিয়ে পড়ি, যেখানে ইচ্ছে

রাতে নাটক হবে ওখানে... দুজন বয়স্ক মানুষ মুখে তিন আঙুল মেকআপ লাগিয়ে বসে আছেন… ওনাদের এন্ট্রি পরে

এরমধ্যে একজন হন্তদন্ত হয়ে ঢুকলেন, ওনার নেক্সট এন্ট্রি, মেকআপ করে দিতে হবে

আমি তোমাকে করে দিতে বললাম, আমি তো জানি না... তোমার আম্মি করে দিলেন

তুমি পরে আম্মিকে বকছ, 'বলেছি না আড়াই প্যাঁচ মেকআপ করতে? এত বেশি দিলে কেন? যেটা দিচ্ছ সেটাও dilute করে দাও, জল মিশিয়ে...'

আর আমি মনে মনে ভাবছি, আলীটা এত কিপটে... জানতে পারিনি ত

ডাকনাম

না না, আড়াই প্যাঁচ হয় না… জিলিপিতে হয়

জানি ত, তাই ঘাবড়েছি

আচ্চা, সাঙ্গ হল শেষমেশ

 

ভাষাহীন আমিটাই কৃষ্ণ

আ পিয়া মোরে ন্যায়নন মে যো পলক ধাপ তোঁহে লুঁ না ম্যায় দেখুঁ কিসি অউর কো না তোঁহে দেখনে দুঁ

পিয়া আমার নয়নে এসো পলক ধাপ করে বন্ধ করে তোমাকে যে কয়েদ করে নেব, তারপর আমিও আর কাউকে দেখব না না তোমায় দেখতে দেব

আমাদের দুটো সত্তা... একটা ভাষা জানে, শিখিয়েছে জীবন... আরেকটা জানে না বেবাক

দুটো সজ্ঞানে মুখোমুখি খুব কম হয়... কখনও ছুরি আর মাংসের মতো একে অন্যকে কেটে চলে যায়... আমরা চোট অনুভব করি, যুদ্ধটা না

ভাবো, আমরা বাক্যে থিরালে ভাবি এই উপলব্ধি করলাম... কিম্বা বাক্যে চাপানউতোর হলে ভাবি দুজনের ঝগড়া হল, ভালোবাসা হল

আসলে যা হয়, অজস্র হয়, সব অজ্ঞাতে

অহরহ হয় দিনরাত.... ভাষার উপনিবেশ যেটুকু সত্তা, আমরা তাকে নিয়ে মত্ত

তাকে আমি ভাবি, অহং ভাবি... কী বোকামি... সেই কথায় আহত হই, সেই ভার জীবনে বয়ে চলি

কত বহিরঙ্গ সে

ভাষাহীন আমিটা কৃষ্ণ... আমার শিরা নিংড়ে নিজের বাঁশি তীক্ষ্ণ করে সে, আমার রক্তে গাঢ়

তাকেই চিনি না

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন