![]() |
| কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৪৩ |
রোববার সকাল
রোববার সকালের শরীরে হালকা শীত আর কুয়াশার ঘাস ঠোঁট লেগে আছে। তখনি শব চলছে আর পিছনে পিছনে প্রিয়জনের আহাজারি।
: কী হয়েছে? ঝটপট বলো, কী চাও তুমি?
: এই গোলমেলে সময়ে ভয়ার্ত অনুভূতি
ঘিরে ধরে। বুকফাটা নিরাশায় ডুবে যাওয়া বুড়ো ছাতিম গাছটার দিকে তাকালে মনে হয়, চারপাশ
শীতল ঘরের মতো ঠান্ডা।
: হাতে আর ক’ঘন্টা সময় আছে। ক’ঘন্টা।
তারপর উদাসীন অতীত।
একজন নারী, বয়স কতো হবে! হবে হয়তো পঁচিশ-ছাব্বিশ। চোখে লেগে আছে প্রথম সূর্যের পাঠ। আর দেহের প্রতিটি অংশ ফুলে ওঠা। ব্যথায় কোঁকড়ানো। আঙুলের ভেতর চেপে ধরা পাঁচটাকার আধুলি। ছেঁড়া কাগজে ছড়িয়ে ছিটিয়ে হলুদ গাঁদার ওপর একশ টাকায় কিনে আনা মাটির পুতুলের চোখ… বাদামি।
চুপ, কাঁদতে নেই! কান্না থামাও! মিডলক্লাস মানুষ ক্রাইম, সেক্স, প্যাশন! আর কবে হবে নাচ-গান বুলবুলিতে ধান খেয়েছে মাকড়সার জালের মতো। একটু মাংসের স্বাদ, সাথে সোফিয়া লরেনের ছবি।
: আচ্ছা একটা কাজ করলে কেমন হয়?
: শেষতক চোখজোড়া তুলে ফেললে বুনো
রোদের বুকে ক্যামেরা জুম করে ভিক্টর সিকা। শালা একদম বুক বরাবর।
তখনি ঘাসের ওপর বসে যায় কেউ। শাড়ি,
ব্লাউজ, ব্রার হুক খুলতে থাকে। শাদা লোভের আগুনে পুড়তে থাকে সব। ধবধবে ফরসা স্তন বেরিয়ে
আসে। আর তার থেকে তীব্র স্রোতে গড়িয়ে যায় দুধ। শীত, মাটির পুতুলের বাদামি চোখ, বুড়ো
ছাতিমগাছ, রোববারের সকাল ভেসে যায়।
: কোথায় যেতে চাও?
চিৎকার শোনা যায়,শুয়রের বাচ্চার দল সব শেষ হয়ে গেছে আর এখন শুয়ে থেকে শরীরের স্বাদ নেওয়া।সেই যে পঁচিশ ছাব্বিশ বছরের নারী হলুদ গাঁদায় হাত বুলাতে বুলাতে অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকে।
: শ্মশান কি মেলা দূর?

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন