ষষ্ঠ বর্ষ / চতুর্থ সংখ্যা / ক্রমিক সংখ্যা ৫৬

শনিবার, ৬ জানুয়ারী, ২০১৮

শর্মিষ্ঠা ঘোষ


চা 

স্বপ্নে যদি চা দিবি তো গরম কাপেই দিস
ঠোঁট পুড়লে তাও তো পারব ওষ্ঠ ছুঁতে তোর
স্বপ্নে আমার চোখের অসুখ সারুক যদি সারে
মিনিমাগনা স্পষ্ট দেখব কিশোর প্রেমিক তুই

নিশান  

প্রতিদিন যুদ্ধ থেকে ফিরে প্রতিদিন তোকেই কাছে চাওয়া
প্রতিদিন চাই না বলার পরে প্রতিদিন আদর আগুন ছোঁয়া
আমাদের যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় হানাহানি ক্ষুব্ধ হৃদয় ভেঙ্গে
আমাদের নিশান ওড়ে চাওয়ায় আমাদের দুজন এমন জানে

গ্যাপ  

চোখে তাহার কাজল ছিল বুঝি?
অতল আলোর আলেয়া শিখর দ্যুতিতে 
কোমর বিছায় ঠমক চমক লাস্য
রক্তচক্ষু উপেক্ষাতে মর্মর

প্রবাহিণী সুখ বদলের কূট ভাষ্যে
একদা উছল তটভূমি আজ শান্ত
বয়ে যাওয়া আছে শেষ নিঃশ্বাস অভিমুখ
সয়ে যাওয়া আছে নিঃস্ব তিক্ত স্মৃতিতে

ওষ্ঠ অধরে শ্যাম কাঞ্চন হাসিটি
বিষাক্ত কষে ইদানীং বড় ক্লান্ত
এই যে নিখুঁত কাকতাড়ুয়ার খোলসে
স্বপ্নের মাঝে গ্যাপ বরাবর ঝুলছে

মনুবাণী 

প্লটটা ঠিকঠাক ল্যান্ডিং করার আগেই ছোঁ মেরে নিয়ে গেল
ক্লাইম্যাক্স গজিয়ে উঠলো প্যারালাল লাইনে
চালাক চালাক কিছু চশমা মনোনিবেশ করলো কলমে
কফির কাপে মুষড়ে পড়লো অভাগা দীর্ঘশ্বাস
কেউ কেউ এ সময় জেলি টোস্ট অফার করেন
যদিও ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া আপেক্ষিক
মুহূর্তের শিরোনাম নজর কাড়তে সিদ্ধহস্ত
এটাই একমাত্র শিরোধার্য মনুবাণী

স্যালাইন

সকাল ফালাফালা করে বাজছে
প্রোফাইল দেখে বোঝার উপায় নেই
রাত্রি কত গভীর
খুব আয়না হয়ে গ্যাছে কথা
বিনা তারে সমান সমান গোলার্ধে কেটে দিচ্ছে ...
এর চেয়ে শীতের গোলাপের গল্প ভালো
এর চেয়ে নৈর্ব্যক্তিক হাই হ্যালো 
এই বই খুলেই তো সবকিছু পাওয়া
কালো ধলো যেটুকু জমকালো
পারাপারির সিন নেই তেমন
ঠিকঠাক কোনোটাই পুরোপুরি 
জোড়াতালি ঢেকেঢুকে চলেছে চলবে
আমের সান্ত্বনা দু’ ফোঁটা স্যালাইন


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন