ষষ্ঠ বর্ষ / চতুর্থ সংখ্যা / ক্রমিক সংখ্যা ৫৬

শনিবার, ৬ জানুয়ারী, ২০১৮

নভেরা হোসেন


প্রেম- অপ্রেম

বহুদিন ধরে পরিচয়
একবার যখন মন খারাপ ছিল ভীষণ
তখনি খুব শিল পড়লো ছাদে
পাশের বাসার টিনের চাল সাদা বরফে ঢেকে গেলো
কত কথা যে বলতে তার মাথা-মুন্ডু নেই
একবার দেখাও হলো নীল মণিপুরী শাড়ি পড়ে
এরপর অনেক অনেক দিন কাটলো তোমার
সেও পাড়ি দিলো বেশ অনেক বছর
কথা যে বন্ধ ছিল তেমন নয়
মনে পড়তো খুব গভীরভাবে
কিন্তু দেখা-সাক্ষাৎ কদাচিৎ
কেন যে যোগাযোগটা কমে গেলো
সেটাও এখন ভুলে গেছো
তারপর হঠাৎ করেই কেমন যেন এক হয়ে পড়লে
নিজের মধ্যে ডুবে থাকো
হঠাৎ করেই আবার দেখা
এবার একেবারে দীর্ঘ সময় নিয়ে দেখা
নিয়মিত কথা, কবিতা বিনিময়
তোমার মনে ঘুরছে অচেনা সব অনুভূতি
তুমি হয়তো ভাবছো
ঝুম বৃষ্টিতে ভিজছো
একটু পরেই ঘন শীত
কেউ কাউকে দেখতে পাচ্ছো না
একহাত দূরের কাউকেও দেখা যাচ্ছে না
অসংখ্য কালো গোলাপ বিছানায় ছড়ানো
নদীতে জল ফুঁসছে
তোমরা হাত নেড়ে কথা বলছো
একটা কাচের ঘর
চারপাশে ঘন ঝোপ
কোথাও একটানা সানাই বেজে চলেছে-
করুণ রাগ
বন্ধুরা সব বললো
এবারেও তুমি ডুববে
কিন্তু সকাল হতেই
বাইরে ঝকঝকে রোদ
অর্নেলো ভেনোনি গান গেয়ে চলেছে
স্টেজে আর কেউ নেই
হঠাৎ বদলে গেলো সব কিছু
আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র
রাস্তায় সারি সারি লাশ পড়ে আছে
সবাই দৌড়াচ্ছে প্রাণভয়ে
নৌকায় করে শত শত মানুষ সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছে
তুমিও কোনো একটা নৌযানে
মৃত্যুভয় তোমাকে তাড়া করে ফিরছে
হঠাৎই চোখের সামনে ভেসে উঠলো
হাজার বছরের পুরনো সভ্যতা
মহেঞ্জোদারের ভূমিতে একা দাঁড়িয়ে আছো
এখানে ছোট ছোট মাটির পাত্র
ভাঙা আয়নায় অন্যের প্রতিচ্ছবি
আবার কথা বলতে শুরু করলে
এখান থেকে যাত্রা করে সোজা বিষখালী নদী
সেখানে অসংখ্য সারস
নদীর জলে ভেসে বেড়াচ্ছে শুশুক
ছোটবেলায় নানা বাড়িতে যাওয়ার সময়
লঞ্চের ডেকে বারান্দায় দাঁড়িয়ে
 শুশুকদের খেলা দেখা যেত নদীর জলে
আলোর অপেরা
সেসব স্মৃতির ছবি চারপাশে
তোমরা দুজন বাঁশ দেওয়া ঘরে
একটানা ঝিঁঝির শব্দ
রাতের অন্ধকারের গন্ধ
বাঁশের বনে শনশন শব্দ
তোমরা নিঃশব্দ
প্রকৃতি এখন কথা বলছে
আকাশে কালো ধোঁয়া
ওয়ারস শহরের ঘেটো থেকে
চিৎকার ভেসে আসছে
মৃত্যু এখানে প্রাত্যহিকতা
সবুজ পাতায় রক্তের দাগ
তোমরা এখনো কথা বলে চলেছো
অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে পরস্পরের মুখ
দূরে ট্রেন থামলো...



এপয়েন্টমেন্ট

অর্নেলো অর্নেলো ইতালিয়ান তরুণী
তোমার চোখে অবিনাশী তারা
ভেবেছো এমনভাবেই কেটে যাবে সময়
শংকর বাসস্ট্যান্ড থেকে পনেরো নম্বর
নয়তো ধানমন্ডি লেকের পাড়
শীতের একটা ধোয়া চারপাশে
বটগাছগুলো নুয়ে পড়েছে
এখান থেকে অনেক দূরে যাওয়া যায়
রোমের সমুদ্র স্নান, আনুবিশ
ফর্মকে ভাঙতে ভাঙতে কবিতা হয়তো আজ
নিঃসঙ্গ, একাকী-
চারপাশে যা কিছু এরাবিয়ান শর্মা, গরম কফি
তরুণ বন্ধু, তার প্রগলভতা
এ সব কিছুই হয়তো তোমার
কিন্তু তুমি জানো না
কীভাবে ঢুকে পড়লে গোলকধাঁধায়
একটা লম্বা টানেল
এই পাড় থেকে কিছুই দেখা  যায় না
ঝাপসা অবয়ব চেনা কিন্তু চেনা নয় এমন
রাস্তায় বাম দলের মিছিল
সেখানে ঢুকে পড়েছে বেশ কিছু উগ্রপন্থী
তাদের পেরিয়ে লোকে লোকারণ্য  
তবু চারপাশটা বেশ স্বপ্ন স্বপ্ন
হাসপাতালে অসুস্থ নারী
রিক্সাচালকের এক পা
এসব কি সব আগাম বার্তা
ঘরে ফিরবার পথেই দারুণ যন্ত্রণা
মাটিতে লুটিয়ে পড়লে
সেখান থেকেই শুরু
পায়ে সাদা ব্যাণ্ডেজ
শীতের দিনগুলোতে এবার তুমি
অর্নেলো শুনে কাটাবে
না হলে শুয়ে শুয়ে নক্ষত্র গোনা
এসবই পূর্বে নাজিলকৃত ছিল
তুমি শুধু একবার তুর পাহাড়

আরেকবার কাস্পিয়ান সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছো

0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন