ষষ্ঠ বর্ষ / চতুর্থ সংখ্যা / ক্রমিক সংখ্যা ৫৬

শনিবার, ৬ জানুয়ারী, ২০১৮

সুমন পাটারী


বিদ্রোহ

এই মাত্র মায়ের সাথে কথা বলে এলাম--
ভাত দিতে দিতে মা কোথাও হয়তো দেখেননি
আত্মহত্যার একটি প্রক্রিয়া ভেতরে চালু হয়ে গেছে।

বাবার কাছে গিয়ে লেনদেনের হিসেব দিয়ে
ঘরে এসে মাথা ঝুলিয়ে দিলাম ফ্যানে।

খাটের অন্ধকার তলার কবর থেকে
হৃদযন্ত্রটা তুলে এনে রাখলাম খাতায়--

সারা ঘরে ধূপের গন্ধ
কোথাও কোনো শব্দ নেই
কিছু কালো অক্ষর বাল্বের ফিলামেন্টে দ্রবীভূত হয়ে
ঢুকে যাচ্ছে আমার কূপে কূপে--

ঘর জুড়ে ছড়ানো আলেয়ার মতো
শিউলি-সকাল

বিদ্রোহ শুরু করেছে সমস্ত শরীর—

দেবী

প্রাতিষ্ঠানিক ছাত্র ছিলাম বেশিদিন হয়নি
যখন থেকে দাঁড়ি চাঁছতে শুরু করেছি
প্রতিবার সেভ করে একটি মেকাপ করে নিয়েছি মুখে।
অথচ যে স্যার বলেছিলেন মানুষ হও
ওনার মেয়েকে বলি দিয়ে প্রসাদ বিতরণ করেছেন
সারা গ্রামে।

বাবা ভিখারী, মা কটোরা হাতে মন্দিরের সামনে বসে থাকে
বলিষ্ঠ বাহু রগ, বিকেল থামা চোখ--
কাস্তে দিয়ে ভাত কাটি রোজ।

আমার স্যারের মেয়ে
যার সাথে আমার প্রেম ছিলো কখনো
সে এখন একটি মন্দিরে বাস করে--
যেখানে সে দেবী, পূজারী রোজ ছেনি চালায়
একটু একটু সুন্দর করে তোলে তাঁকে।

ফুটো

যখন কলেজে ছিলাম
বিছানায় বাবা সহ সবাই বৃষ্টিতে ভিজত,
রোদে শুকাতো কমবেশী,
কেউ কোনো অভিযোগ রাখেনি,
যখন ছাতার কিছু অংশ
তোমার সাথেও ভাগ করছিলাম,
জানতাম না তোমার বাড়ির পাশেই ছাতার বাজার

তুমি উড়ে গেলে,
সেই থেকে একটি একটি ফুটো
আমি কখনোই বন্ধ করতে পারিনি

ভাতকাপড় থেকে দূরে
রোজ ভিজে যাই, রোজ ভিজে যাই,
তুমি জানো?

বড়নাম

বাবার নাম উজ্জ্বল করার আশীর্বাদ
কখনো কাউকে দেবেন না যেন

নাম কত উজ্জ্বল উজ্জ্বল ঝুলে আছে--

ইতিহাস থেকে তুলে এনে টাকায় ছাপিয়ে
টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে আস্ত এক সোনাবন,
আলোকজ্যান্ডারের আমিও এক অন্ধসৈন্য,

আমি আমাকে শোয়াই চৌরাস্তার মাথায়

আমার অন্ধবোনের দিব্যি খেয়ে বলছি
আমি আত্মহত্যা করতে ভীষণ ভয় পাই,
আমার বেঁচে থাকার দুঃসাহসিক চাওয়াকে
আপনি ভাবতে পারেন ভোটবাক্সের খোরাক

তাই আবার বলছি কাউকে বড় হওয়ার আশীর্বাদ দেবেন না,
কত বড় বড় লোক খবরে বসে দেখছে
চৌরাস্তায় আমার লাশ পড়ে আছে।


আমার বোন চলে যাচ্ছে কেরোসিনের ড্রাম নিয়ে।

2 কমেন্টস্: