ষষ্ঠ বর্ষ / চতুর্থ সংখ্যা / ক্রমিক সংখ্যা ৫৬

শনিবার, ৬ জানুয়ারী, ২০১৮

পিয়াল রায়


এসকেপিস্ট

(৫) 

দুটো জানালা সারাদিন চুপ করে থাকে

অশান্ত ঢেউগুলো বুঝিয়ে দেয়
ভালো নেই কেউ

জনপ্রিয়তা আসলে প্রলাপগুচ্ছ
একাকীত্ব চয়নে তার কোনো আগ্রহ নেই
কোলাহল থেমে গেলে পেট চেপে শুয়ে থাকে
বিষণ্ন রাস্তার ধারে

চিৎকার স্বীকারোক্তির শেষে
অকস্মাৎ  ঘাড় নুয়ে ফেলে রাখে
দু’ একটি চমৎকার অশ্রু   



(৮)

হয়তো দেখা হবে
        হয়তো হবে না
হয়তো দিনযাপন থেকে ঝরে যাবে
আত্মীয়তা

এই মুহূর্তে আমাদের কিছু নেই
মনে রাখার মতো
এই মুহূর্তে একটা মোটামুটি সময়
                 মেরে ফেলছে গভীর সময়গুলোকে

ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা জেনেও যাদের পা
সমুদ্রের দিকে গিয়েছিল
খারাপ  আবহাওয়া ফিরিয়েছে তাদের

শুধু ফেরায়নি ওষধী বৃক্ষের আশ্চর্য আশ্রয়

(৯)

মাঝেমাঝে সিঁড়িও থমকে দাঁড়ায়
       অসহায়ের মতো দেখে কঠোর মুখ

যতবার তারিখগুলো গুছিয়ে তুলি
                        অবিমৃষ্য হাওয়া এসে
 ছড়িয়ে দেয় তাদের

তবু ভাবি বলবো কোনোদিন
  ঘিরে থাকুক আমায় তোমার নৈকট্য এমন
     যাতে দূরত্বও আপন লাগে

এত তুমিময় হয়ে থাকি বলেই হয়তো
নিজেকেও আজকাল অন্য কেউ ভাবি


(১০)  

আমি এটুকু বলতে পারি
শীতের বিষণ্ণতা মানে শেষ বিকেল

তারপর একদিন সব শেষ হলে
পড়ে থাকে চৈত্রকণা
বৈরাগী ধুলোর কিছু দুর্মূল্য ফোঁটা

কিছুদিন আগেও যারা ছিল
রাত্রির কুহক ভেদ করে চলে গেছে
তাদের নিয়মিত পা
রেখে গেছে অনাবৃত অবিকল ছাপ

পথে যারা আসবে এরপরে
            যাতে যথাসাধ্য খুঁজে পায়


যা তারা খুঁজেছে আবহমান

2 কমেন্টস্:

  1. বেশ ভাল লাগলো। কবিতার সিরিয়াল নাম্বারগুলি ওলটপালট হয়ে গেছে। এতে কবিতার উৎকর্ষতা কমেনি।

    উত্তরমুছুন
  2. 'মাঝে মাঝে সিঁড়িও থমকে দাঁড়ায়' এই উচ্চারণটা ভালো লাগলো নতুনভাবে বলা

    উত্তরমুছুন