ষষ্ঠ বর্ষ / চতুর্থ সংখ্যা / ক্রমিক সংখ্যা ৫৬

শনিবার, ৬ জানুয়ারী, ২০১৮

সুমনা পাল ভট্টাচার্য


শুদ্ধি

কবিতার বিছানায় শব্দের মৃতদেহ পড়ে আছে
সাদা চাদরে তার সারাটা নিরুত্তাপ শরীর ঢেকে দিয়ে এবার চিতার আয়োজন
আগুন জ্বালানোর আগে প্রস্তুত হয় ব্যথার ন্যুব্জ মন্থন
জ্বলন্ত ছাই কুড়োনোর উপসংহার অপেক্ষা করে থাকে নীল স্তব্ধতার মধ্য-বিন্যাসে
ভূমিকার ঘর থেকে বেরিয়ে আসে পুরনো অসুখের চাপ চাপ গন্ধ

জট পড়া চুলের মতোই সময়ের ফাঁকে ফাঁকে আঙুল গলিয়ে সমাধান করি গন্তব্যের কুহেলিকা
শব্দের গায়ে জ্বালাই আত্মাহুতি।
ঘি, চন্দন, মধুর ছিটে দিয়ে রাজকীয় করে তুলি শেষকৃত্য।
তারপর বুকের নদীতে তাদের ভাসিয়ে দিই শান্ত হাতে

অন্য পারে তখন নবজাতক শব্দের মস্তিষ্ক থেকে ভেসে আসে স্নাত মন্ত্রের বিশুদ্ধ অনুরণন
এক ভোরের উন্মোচন।

দায়

আঙুলের গায়ে জং ধরা শব্দের ভাঙন
বহু পুরনো ভ্যাপসা গন্ধটা নাক চেপে ধরতেই
হাঁ করে শ্বাস নেয় বাঁচার অস্থির তাগিদ

প্রাচীন দেওয়ালের গা থেকে খসে পড়ে বোবা সময়
একের পর এক মায়া জাল ছিঁড়ে ধারাবাহিকতায় দু:স্বপ্নকে সাজিয়ে রাখে সাঁতারু রাত

তারপর জ্বলন্ত আলোয় তাদের একে একে বলি দেয় রঙমাখা মুখের কয়েক স্তর গভীরে
নতুন রঙ্গমঞ্চ প্রস্তুত হয় নি:শব্দে প্রতিদিন

অপ্রস্তুত কুশীলবের মতো স্থবির সময়কে শেষাঙ্কের করতালি অবধি পাঠ করে যেতে হয় অচেনা সংলাপ 

তৃষ্ণা

মায়ের আঁচলের ওই হলুদ মোছা দাগটায় আমার শৈশবের সীমারেখা।
কখন সে আঁচল উড়ে গেছে হাওয়ায়
আমি ছুটেছি পিছু পিছু

তরল চিবুক একলা কুয়াশায় ঘন হতে হতে সময়ের তাপাঙ্কে জমাট বরফ হলে, মায়ের চোখের জলও বাষ্প হয়ে যায়।

বাতাস ভারি হয়ে ওঠে, ধোঁয়া ধোঁয়া গন্ধে শাপলা গজানো বুকের শ্বাসকষ্ট হয় বড়।

নি:শ্বাস নেবে বলে, সময় পাশ ফিরে শুলেই, শৈশবের সরলরেখা ধরে হাঁটতে হাঁটতে আমি ক্রমশই সরে যাই বিন্দু থেকে বিন্দুতে
চোখের সামনে ফুলে ফেঁপে ওঠে আঁচলের ফটফটে শুভ্রতা।

উড়ন্ত শকুনের মতো তাড়া করে বেড়ায় একটুকরো হলুদের পিপাসা। 

0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন