ষষ্ঠ বর্ষ / চতুর্থ সংখ্যা / ক্রমিক সংখ্যা ৫৬

শনিবার, ৬ জানুয়ারী, ২০১৮

রিয়া চক্রবর্তী


অনুভূতি

এখন কোনো অনুভূতির জন্ম হয় না
পুরনো অনুভূতিগুলোও বিস্মৃতির আড়ালে

এখন আর আগের মতো চোখে জল জমে না
মিষ্টি কোনো স্বপ্নে আর আলোকিত হয় না মন  

আগের মতো অভিমান নেই  রাগ নেই,
কিংবা ক্ষোভ, হতাশা অথবা যন্ত্রণা

এখন শুধুই রয়েছে শূন্যতা, একাকিত্ব
যে শূন্যতা আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে,
আর আমি তারই মাঝে পড়ে যেতে থাকি
অতল অন্ধকার গহব্বরে


নারী

আমার এই ভীষণ চেনা চেনা শরীরের ভেতর
আস্তে আস্তে বেড়ে উঠেছে একটা চারাগাছ,
আমার বুকের মাঝে, আমার ভেতরে
বিস্তৃত করে চলেছে তার শাখা প্রশাখা,

আর নিতান্তই ছোট্ট, এই চারা গাছটা
হয়তো এখন বাঁচতে শেখেনি একা একা;
তাই মধ্যরাতে যখন বাতাসের সাথে
খিলিখিলিয়ে হাসতে চায় সে,
আর তীব্র যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাই আমি

একটা সত্যিই শিশু বেড়ে উঠছে আমার ভেতর,
আমার অহংকার হয়ে, এই পৃথিবীর মাঝে

এসেছে আমার নারীত্বকে পূর্ণ করতে...


আলোমাখা ভোর

ভোর চলে যেতে যেতে রেখে যায় চড়ুইদের ধুলাবালি স্নান, শালিখ সংসার, কাকেদের কনসার্ট, স্কুলবাস আর চায়ের দোকানের উনুনের উপচে পরা কয়লামাখা ধোঁয়া এ সব কিছু পেরিয়ে এগিয়ে চলে রোদ পরতে পরতে, যত দূর দেখা যায়, তার থেকেও দূরে পালিয়ে যেতে চায় মন সেখানে, যেখানে হেমন্তের উঠোন জুড়ে ঝরে পড়ে ঈশ্বরময় গন্ধ পালিয়ে যেতে চায় মন সেখানে, যেখানে শৈশব জুড়ে বসে থাকে অকৃত্রিম ভালোবাসার ওম এক আকাশ কোটি কোটি টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ে রূপকথা মন খুঁজে নেয় আনন্দ আর বেঁচে থাকার রসদ 

ততদিন বিষাদ ফিরে আসিস না তুই!


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন