কালিমাটি অনলাইন

ত্রয়োদশ বর্ষ / দ্বাদশ সংখ্যা / ১৩৯

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

ত্রয়োদশ বর্ষ / দ্বাদশ সংখ্যা / ১৩৯

শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মুকুলী মণ্ডল

কবিতার কালিমাটি ১৫৪

 


চতুরমাসিক পত্রিকা

কবিতা লিখি না আর, পরিস্থিতি কবিতা হয় আমার হাত ধরে।  

কখনো প্রেমের জোয়ারে গা ভাসায়, কখনো দুঃখ কষ্ট অনাহারে

মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে।

যে দেবালয়ে মানুষের আনাগোনা, চড়ুই সেখানে দানা খুঁটে খায়।  

এখানে পথই প্রদর্শক, নিয়তি ধুলো ওড়ায়,

চামচ ঘোরানো গ্লাসের জলে ভবিতব্য পাক খায়,

নিয়ন্ত্রণহীন যাত্রা।

চতুরমাসিক পত্রিকা ছাপা হলে আমার কবিতারা প্রকাশিত হতে চায় অভাবে, আসকারায়।

 

আগ্ৰহ বশত

অনেকদিন হল, তা প্রায় বছর সাত-আট,

লোকে বলে কবিতা তুমি কী ভেবে ভেবে লেখো?

কী আছে কবিতার মধ্যে আসলে!

সেসব উত্তর আমার জানা নেই! কবিতা আমায় লেখে,

নাকি আমিই কবিতা লিখি,

এসব জানার প্রয়োজন আছে কি তাও জানি না।

জীবনের এই লেনদেন পাওয়া না-পাওয়া সুখ-দুঃখ কষ্ট যখন

দীর্ঘায়ু কামনা থেকে বিরতি নিতে চায়, 

স্পষ্টবাদী কলম চলে খাতায়,  

আগ্রহবশত আমি কাজ ফেলে উঠে আসি,

জানলার বাইরে মুখ বাড়ালে প্রকৃতি আমার কাছে আসে,

ভালোবেসে চুমু খেয়ে আদর দিয়ে বলে,

এত ঠান্ডায় কান মাথা ঢাক, তার কথা শুনে চেয়ে থাকি,

কত কী বলতে চেয়েও বলা হয় না।

দেখি দূর থেকে সূর্য কুয়াশার ভিতর দিয়ে আলো হয়ে ওঠে,

বলে তোমার হতাশ হওয়ার কিছু নেই, জীবন জটিল,

তাই বলে কি মানুষ হারিয়ে যায় আচ্ছন্ন কুয়াশায়?

 

উপবাস

তোমার মায়ামুখ কী করে ভুলে যাই দেবতা।

এই সিংহাসন খালি করে কোথায় অবস্থান করো?

যে-ফুলমালায় নৈবেদ্য সাজিয়েছি, নিজ হাতে ভোগ রেঁধেছি,

তা তোমার ছোঁয়ায় প্রসাদ করে দিয়ো।

এ জগৎসংসার, বাতাবরণ তোমার শৌখিন আবদারে হেসে খেলে ওঠে।

প্রয়োজনে নয় প্রার্থনায় কি? এক অনুভূতির ডাক অগ্রাহ্য করে কোথায় যাও?

উপবাস অনাহারের শরীরে আবদ্ধ করিনি।

মন প্রাণ দিয়ে চাই, উন্মুক্ত, তুমি দেবতা।

তোমার ইচ্ছেয় আমার পূজো সম্পন্ন। প্রদীপ নিভে গেলে

অন্য জগতে ফিরে যেতে হয়।

তার আগে কী মুখোমুখি হওয়া যায় না অন্তত একবার।


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন