কালিমাটি অনলাইন

ত্রয়োদশ বর্ষ / দ্বাদশ সংখ্যা / ১৩৯

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

ত্রয়োদশ বর্ষ / দ্বাদশ সংখ্যা / ১৩৯

শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সুপ্তশ্রী সোম

 

কবিতার কালিমাটি ১৫৪


বন্ধন

সুতো হয়ে জড়িয়ে রয়েছি কতদিন হল

ভুলে গেছি লাটাইয়ের কথা

কেন জড়িয়েছিলাম মনে নেই

গিঁট বাঁধা উঁচু নিচু ফাঁসে দম শেষ প্রায়

বাঁধন আলগা করে পালাতে ইচ্ছে যায়

 

অথচ একসময় কত বন্ধন চেয়েছি

কত বেহিসেবি ফাঁদে পা দিয়েছি ইচ্ছে করেই

মিথ্যে জেনেও জড়াতে চেয়েছি আষ্টেপৃষ্টে

লাটাইয়ের ফাঁকি বুঝেও বুঝিনি

 

এখন পাক খুলতে গিয়ে দেখি

হারিয়ে গেছে সুতোর শুরু ও শেষ

গ্রন্থির বন্ধন পালাবার ফাঁক রাখেনি

অনাবিল মুক্তির অপেক্ষায় এখন ঘুড়ি হতে ইচ্ছে করে

কাটা ঘুড়ি আর লাটাইয়ে ফেরে না

 

মোহানার দিকে

ভুলে গেছি নির্জন ঘাটের সংলাপ।

হারিয়ে গেছে চেনা ঠিকানার হাতছানি।

বিস্তৃত ফসলক্ষেতে যে আলো ছড়িয়ে

পড়েছিল অপার সুজনী হয়ে, সে এখন অন্ধকারের গর্ভে ।

 

গোলোকধাঁধাঁয় হারিয়ে গিয়েছে পথের দ্রাঘিমা।

অন্ধকারে যাপনের পোষাক মেলে দিই।

সন্দিহান ডায়েরির পাতায় ইমোজি বৃত্তান্ত।

গোপন হত্যার জিম্মায় রাখি বন্যাপ্রবণ স্রোতের উচ্ছ্বাস।

মধ্যগতির নদীর জানা নেই মোহানার দূরত্ব।

 

ঘূর্ণির টান

যা শক্ত করে ধরে রাখতে চেয়েছি হাতের

মুঠোয় তা হারিয়ে গেছে।

কখন ঝরে পড়ছে সময়।

ঋতু শেষ হলে শূন্য বিতানে পড়ে থাকা খড়কুটো হালকা

হাওয়াতেই ওড়ে।

 

উড়ছে অথচ কিছুতেই ধরতে পারছি না।

চৌহদ্দির মধ্যে থেকেও অধরা।

 

ইচ্ছে পাখি পালকের অপর্য্যাপ্ততায়

উড়তে ভুলে যাচ্ছে। স্থাবর আর জঙ্গমের ভিতর থেকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন

আমাকে এখন আর কেউ জোড়া লাগিয়ে

জীগস পাজৃলের খোপে ভরে দিতে পারবে না।

চৈত্রের ঘূর্ণিতে মিশে যায় অবয়বের সব ধুলো।

 

এখন ধূলি ঝড়ে একটা শুকনো পাতার

মতোই নির্ভার অথচ ঝড়ে  ওড়ার

আনন্দে মশগুল।

 

 

 

 


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন