![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৫৪ |
প্রতিলিপি
কনকনে হিমেল হাওয়ার বিপরীতে
শিবির খাটিয়ে বসে আছে মেলা আর তার
হুল্লোড় থেকে শব্দ কেড়ে
চিড়িয়াখানার প্রতিলিপি তৈরি হচ্ছে প্রতিদিন
শহর জুড়ে...
দেহহীন দ্রাবিড়সুখে
নাগরদোলা উঠছে,নামছে
জীবনেরই প্রতিলিপি যেন!
এই কলকাকলিতে ফুরিয়ে আসছে শীত ও সর্ষে--
হলুদ ফুলঢাকা প্রান্তর
যাওয়াই হল না এবারও।
সৎকার
রক্তে ঘুম পাড়িয়ে রেখে গেছে মকর সংক্রান্তি।
শীত ইথারে হৈচৈ নেই ততটা
নটেগাছ মুড়িয়ে রাখা দৈনন্দিন গল্পের পাতা
আরামদায়ক রোদে
পা ছড়িয়ে বসতে কার না ভালো লাগে!
কম বেশি আগুনের খিদে-
অষ্টপ্রহর নাগা শালে গুটিয়ে থাকা হাতদুটোও
উষ্ণ আগুন ছুঁতে চায় কেবলি
বছরভর জমিয়ে রাখা কাগজ
প্যাকিংবাক্স
বাতিল নথির সৎকার শীতকাল এলে...
মনেরও ভারমুক্তি কিছুটা।
আভ্যন্তরীণ
ভেতরের মৃত আবেদনগুলো নথিভুক্ত হবে না জেনেও
রয়ে যায় মনের ঠিক নিচের স্তরে,
আভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ঘটায় চুঁয়ে চুঁয়ে
নিয়ত চেটে চেটে খায় বুকরক্ত...
চেটে চেটে যেমন শূন্য করো আচারের কাগজ,
বৈরী বাতাস এসে প্রথম তাকেই উড়ায়
তদ্রূপ একদিন-
উড়ে যাবে অন্তঃকরণের যাবতীয় ভার
এই সাপেক্ষে-
জানি না হাওয়া আসছে কোনদিক থেকে…
চৈত্র অব্দি যেতে যেতে
সব অন্তর্গত বেরিয়ে যাবে
দেহের এই বনবাস ছেড়ে।

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন