![]() |
| কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৪৪ |
ক্লিন চিট
প্রাতঃরাশের পর যখন বাগানচর্চা করছেন ঠিক তখনই গেটের আওয়াজ শুনে চোখ তুলে চাইলেন পরিমলবাবু। তিনি খুব অবাক হয়ে গেলেন গগনকে দেখে।
গগন বলল, “দত্তবাবু, বড়সাহেব একবার
অফিসে আসতে বলেছেন আপনাকে”।
অবসরের পর তিনমাস কেটে গেছে। কী
এমন জরুরী প্রয়োজন পড়ল যে চাপরাশি দিয়ে তলব করাতে হচ্ছে! পরিমলবাবু বললেন, “কেন?”
“আমি জানি না দত্তবাবু। আপনি আসুন
একদিন”।
পরদিন সকালে গাছে জল দিয়ে, খবরের
কাগজে একটু চোখ বুলিয়ে সামান্য আহারাদির পর অফিসে এলেন পরিমল দত্ত।
অফিসে ঢুকে তিনি বুঝতে পারলেন সবকিছুই
চেনা অথচ দূরের যেন! করিডোর, দরজা, চেয়ার-টেবিল, ফাইলপত্রের স্তুপ – সব আগের মতই আছে,
শুধু তিনি আর চেয়ারে নেই। গগনের দেখাও পেলেন না।
করিডোর বরাবর হেঁটে শিকদার সাহেবের
শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে ঢুকলেন পরিমল দত্ত। রমেশ শিকদার বসতে বললেন না। পরিমল দত্ত দাঁড়িয়েই
থাকলেন।
“গগনের বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ এসেছে।”
গম্ভীর গলায় বললেন তিনি, “তদন্ত হলে ঝামেলা বাড়বে”।
পরিমল দত্ত চুপ।
“আপনি যদি লিখে দেন – আপনি কিছুই
জানেন না, তাহলে বিষয়টা এখানেই শেষ। তাহলে আর কাউকেই ঘাঁটাতে হবে না। ফাইল এখানেই বন্ধ
হয়ে যাবে”। কথাগুলো একটু থেমে থেমে বললেন রমেশ শিকদার।
পরিমল দত্ত বললেন, “আমি জানি।”
“উঁহু, জানেন না… এটুকুই লিখতে
হবে”।
“আমি পারব না”।
শিকদার সাহেব শান্ত গলায় বললেন,
“আপনি তো অবসর নিয়েছেন, এটুকু লিখে দিলে কিই বা যায় আসে? বিষয়টাও পরিষ্কার থাকত।”
পরিমল দত্ত আর কিছু বললেন না। চুপচাপ
বেরিয়ে এলেন ঘর থেকে।
বেশ কয়েকদিন পর পরিমল দত্তের কাছে
খবর আসে – কোনও তদন্তই হয়নি। শিকদার সাহেব ফাইল বন্ধ করেছেন নিজ পদাধিকারবলে – দত্তবাবুর
সই ছাড়াই।
গগন মন্ডল ক্লিন চিট পেয়েছে। রমেশ
শিকদারের পদোন্নতি হয়েছে।

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন