কালিমাটি অনলাইন

ত্রয়োদশ বর্ষ / দ্বাদশ সংখ্যা / ১৩৯

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

ত্রয়োদশ বর্ষ / দ্বাদশ সংখ্যা / ১৩৯

শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

শাহনাজ নাসরীন

 

কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৪৪


লেখালেখি

’ইস তোমার এই জানালার দিকে তাকালে মনটা ভালো হয়ে যায়, ইচ্ছে করে সারাদিন এই জানালার পাশে বসে থাকি’।

আমি হাসি, ‘একটু পরে সুর্য যখন জানালাটা গিলে খাবে, আমি ভাজা ভাজা হবার ভয়ে জানালা বন্ধ করে ভারী পর্দা টেনেও রেহাই পাব না, তখন এই সৌন্দর্য অভিশাপ হয়ে যাবে, বুঝলেন?’

জানালা থেকে ওপারের দিগন্তের দিকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকতে থাকতে নীতাদি বলেন, আজকাল তুমি শুধু নেগেটিভ কথা বলো। প্রায়ই বলছো লেখা হচ্ছে না, আমি তো লিখতে পারি না, কিন্তু মনে হয় যেন এই জানালার পাশে বসলেই কয়েকটা কবিতা লেখা হয়ে যায়।

হ্যাঁ, এই কথা আজকাল আমাকে ঘরে বাইরে খুবই শুনতে হচ্ছে। আমি নেগেটিভ, আমি লিখতে পারি না,  আমি শুধু অজুহাত খাড়া করি। নীতাদির কথার তাই জবাব দিই না। উনি মুগ্ধতার আনন্দে ভরে থাকুন, আমি কেন কৈফিয়ত দিতে যাবো? আমার কোন মাথাব্যথা নেই কে কী ভাবলো তা নিয়ে। আমার কষ্ট  তারা বুঝবে না। আমি চাইও না বোঝাতে। তারা দেখায় আমার লিখতে না পারায় তাদের দুঃখের সীমা নেই। কিন্তু আমার কষ্ট আমার মতো করে কেউ বুঝবে না। আমি কথা ঘোরানোর জন্য অন্য প্রসঙ্গ তুলি।

নীতাদি না লিখলেও পড়তে ভালোবাসেন। আমার কাছ থেকে প্রায়ই বই নিতে আসেন। তবে নীতাদি বাজার চলতি গল্প উপন্যাস বেশি পড়েন, আমার কাছে সবসময় তা থাকে না।

জিজ্ঞেস করি, ‘নতুন কিছু পড়লেন?’

নীতাদি কিন্তু ভোলেন না, বলে্ন, ‘রাগ করলে নাকি? কিছু বলো না যে!’

হেসে বলি, ‘না রাগ করবো কেন, ঠিকই তো। সত্যিই আজকাল ভালো লাগে না কিছু। কোন মুগ্ধতা নেই।

নীতাদি বলেন, প্রেম করো।

আমি উত্তর দিই না, বিরক্ত লাগে। কী সহজ সমাধান দিয়ে ফেলেন নীতাদি! শুধু নীতাদি না, আরও এমন  সহজ সরল সাংসারিক মানুষেরা আমাকে উপদেশে উপদেশে জর্জরিত করে। আমি তাদের বলি না যে,  লেখককে কথা বলতে হয়, আড্ডা দিতে হয়, আর একটা লেখকীয় জীবন যাপন করতে হয়। সেটা না পারলে কোন ভালোই থাকে না জীবনে।


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন