![]() |
| কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৪৪ |
উৎসব
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে। স্ট্রীট লাইটগুলো ধীরে ধীরে জ্বলে উঠছে। বসন্তের প্রথম দিক। দক্ষিণের মন-কেমন-করা বাতাসে উৎসবের গন্ধ এলোমেলো ভাবে ভেসে বেড়াচ্ছে। গৃহস্থ, চাকুরে, বেকার, থেকে শুরু করে চোর, ডাকাত, বদমায়েশ, বাটপার সবার মনই উদাসী বাউলের মতো ভেসে বেড়ায়। সব আছে অথচ কী যেন নেই -- এই রকম একটা মনের অবস্থা। অথচ কিসের জন্য যে মন ব্যাকুল হয়, তার ব্যাখ্যা নিজেরাই করতে পারে না। এ এক জ্বালা। একেই বোধহয় বলে, বসন্তের আগুন!
খবরটা
পাড়াতে রাষ্ট্র হয়ে গিয়েছিল। অনেকেই বাহবা দিয়েছে। আবার অনেকেই বলেছে, বাহাদুরি
করে নাম কেনার ধান্ধা। আবার প্রাচীন পন্থী মহিলারা বলেছে, ছিঃ ছিঃ, এ কি অনাসৃষ্টি!
দেশে যে কী দিন এলো! আরে বাবা পরলোকের তো একটা ভয় থাকে মানুষের, এঁদের দেখছি তাও নেই।
পুরোহিতরা বলল, নাভিভষ্ম জলে না দিলে যে কোনোদিনই বৈতরণী পার হবে না। পারলৌকিক ক্রিয়া
কর্মাদি সমাপন না হলে যে আত্মার কোনোদিন সদগতি হবে না -- এটাও এরা বোঝে না!
সমগোত্রীয়
আরেকজন ফোঁড়ন কাটে, ছ্যা, ছ্যা, ছ্যা! দুপাতা ইংরেজি পড়ে ধর্মাধর্ম সব জলাঞ্জলি দিল
এরাই। এঁদের জন্যই সমাজে এতো অনাচার!
অফিস থেকে আজকে ফিরতে একটু দেরি হয়ে গেল। তবে তেমন কিছু দেরি হয়নি। সবে রাত আটটা। বাস থেকে নেমে মোবাইলে সময়টা দেখে নিল রূপসা। ফুরফুরে দখিণা হাওয়াটা বেশ ভালো লাগছে তার। বড়রাস্তা থেকে নেমে পাড়ার ছোট লেনের মধ্যে ঢুকে পড়ল। হাঁটতে বেশ ভালো লাগছে। এতক্ষণ বাসে বসে বসে পিঠে ব্যথা হয়ে গেছে। হাঁটার ফলে বেশ আরাম বোধ হচ্ছে এখন।
কিছুটা
হাঁটার পর রূপসা দেখল তিন লেনের মোড়ের চায়ের দোকানের পাশে একটা রোয়াকে বসে কয়েকটা
ছেলে গুলতানি করছে। এঁদের মুখের ভাষা যেমন হয় সেই ভাষাতেই বাতাসও আজকাল অভ্যস্ত হয়ে
গেছে। তার ফলে বাতাস কুকথার শব্দ দূষণকে বেমালুম হজম করে ফেলেছে। এখন আর কারুরই কোনো বদহজম হয়
না। ঐ
ঠেক থেকে হঠাৎই একটা ছেলে বলল,
--
এই রূপসা শোন!
রূপসার
পা থেমে যায়। আরেকজন ফুট কেটে বলল,
--
ওকে রূপসা বলছিস কেন? বল রূপসী।
রূপসার
কান লাল হয়ে ওঠে। আগুন চোখে সরাসরি তাকিয়ে বলে,
--
বল্ কী বলছিস?
একটু
থতমত খেয়ে আগের ছেলেটি বলল,
--
শুনলাম তুই নাকি দেহ দান করেছিস?
--
হ্যাঁ। তো কী হয়েছে?
--
তুই নিজের থেকেই যখন দেহদান করেছিস, তাহলে তো আর কোনো ঝামেলাই রইল না!
--
মানে? কী বলতে চাইছিস?
--
শোন দান করার পর তো সে জিনিসের উপর আর দাতার কোনো অধিকার থাকে না! আজকে উৎসব করি তাহলে।
তোকে নিয়ে আজকে আমরা...

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন