![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৫৪ |
স্রোতের টানে নর-নারী
মৃত্তিকার সাথে প্রথম বিবাদে আদি নর শস্য বুনেছিল
নারী বুনেছিল হৃদয়ের কান্না সুগন্ধি চুলে
এরপরে নর-নারী মগ্ন হেঁটে চলে আদি অন্ত পেরিয়ে
শুভাশুভের নেশায়
বন পেরিয়ে পাতা মাড়িয়ে পাহাড় যৌবন সুগন্ধ সাগরে
ঝড়-বৃষ্টি উদম নৃত্য কোলাহল উদযাপন
ঢেউ তুফান ভাসিয়ে মহাজাগতিক স্রোতের
আদিম হাওয়া সামলে নিতে সময় লাগে
আলোর ঠিকানায় পৌঁছে যেতে
দুঃখ স্মৃতির পৃষ্ঠায় আঁকতে হবে বিজন ঘর
অনিঃশেষ শীতের রাতে হিমেল হাওয়া
শরীর ছোঁবে রঙ ছোঁবে বৃষ্টির
বাদ্যি ছোঁবে টুংটাং আওয়াজ বুকের মধ্য খানে
শৈশব কৈশোরে দাঁড়িয়ে
শীতের শিয়রে ছোটবেলার মুড়ানো শরীর শুয়ে থাকে
উঠবার তাড়া নেই এপাশ ওপাশ করে বলে,
গল্প বলো --
বিড়ালের মতো চোখ দুটো লেপের ভাজ থেকে তাকিয়ে থাকে
কুয়াশার দিকে
কাঁধে ঢাকি নিয়ে কে যেন ডেকে যায় ধুপি গরম ধুপি
গরম
ঘন কুয়াশায় হারিয়ে যায় ক্ষীণ স্বর শীতলক্ষ্যার
জলে
কে সে--
ভাপানো পিঠার উত্তাপ জড়িয়ে রাখে বালকের শীত শীত
ঋতু
হরিণের চামড়ায় আঁকানো বিচিত্র রঙ-এ মোড়ানো শরীর
যায় না দেখা শৈশবের অন্তর্গত দহন
প্রেমের সূত্রে বাঁধা পড়তেই মোবাইল স্কিনে আসতে
থাকে একটার পর একটা ভাপাপিঠের ছবি
স্বাদ নেই গন্ধ নেই তাতে কী
পিঠের বুকে কান পাতলে শোনা যাবে হামাগুড়ি দিতে
দিতে মাটির হাড়ির জল উত্তপ্ত হচ্ছে
আর ফুটন্ত পানি বাষ্পীভূত হয়ে
ঝাপসা করে দিচ্ছে ছোটবেলার শ্লোক
দুধে আলতায় রক্তকুমুদ
দারুণ সুঘ্রাণ ছুটেছে
কোথাও হয়তো পিঠের প্রস্তুতি চলছে
দুধ আলতায় মেশানো
চার্চিত একটি সাদাহাত বেশ ব্যস্ত
পিঠে তো নয় যেন ভালোবাসার চাষ
দুধ গুড়ের চিতই যেন একেকটা সাদাপদ্ম
হাবুডুবু খাচ্ছে রসে
শাণিত করছে উত্তপ্ত রস
ঠিক আমার প্রেমিকার মুখের মত রসবতী
আমি ঝাপ দেব টইটুম্বুর রসের দলায়
আমি মাছি হবো পিঁপড়ে হবো চেটেপুটে খাবো ভাসবো পিঠের
সাগরে নিরন্তন উৎসবে

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন