কালিমাটি অনলাইন

ত্রয়োদশ বর্ষ / দ্বাদশ সংখ্যা / ১৩৯

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

ত্রয়োদশ বর্ষ / দ্বাদশ সংখ্যা / ১৩৯

শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল

 

কবিতার কালিমাটি ১৫৪


পূর্ণগ্রাস হওয়ার আগে আপাত মহিমা ভাঙে অহম

এইভাবে ভাবতে ভাবতে লোকটা ভায়োলিন বা জলরং নিয়ে স্রোতেভাঙা পাথরের উপর বসে, টুকরো বা বিক্ষিপ্ত যা কিছু ঘন ক্লোরোফিল থেকে আছড়ে পড়ে শূন্যের দরজায়, আক্রান্ত মোহ ত্যাগ করতে পারে না নিজস্ব জলবায়ু – পূর্ণগ্রাস হওয়ার আগে আপাত মহিমা ভাঙে অহম – নিজের চোখে তাকায় নিজের চোখ : এতগুলো হাঁটা – এতগুলো নুড়িপাথর

 

আদিশোভার সাদাকালো পাখিরা সমস্ত অতল — সমিধ শরীরে চোখের সামান্য নিয়ে ক্ষত পোড়াই

 

কুয়াশা সরিয়ে জলের  ভিতর থেকে বেরিয়ে আসছে সূর্য – সেই রোদরঙের দাগ ছুঁয়ে থাকা অসমতল রেখাটি চলে যাচ্ছে নিঃস্বরের দিকে

 

হিমোগ্লোবিন পড়ে থাকে রাস্তায়

হয়তো ব্যাকগ্রাউন্ডে নক্সাদার বৃত্ত অধিবৃত্ত নিয়ে অনন্তকাল বসে আছে মোহনার কুয়াশা, অন্তঃসুরে আলতো অথচ উষ্ণতাময় তৎসম বৈতানিক; কিন্তু তখন মনে হয় আমি এগুলোর কেউ নই – অথবা অন্তরঙ্গ যন্ত্রণার জন্য একটি বানান : দীর্ঘ ছায়ায় হেঁটে যাওয়া তড়িৎচুম্বকীয় সংকেত – তারই আউটডোরে উড়ছে রোশনাই ত্রিভুজ; আর সেই গনগনে আঁচে আমার সমুদ্রে যেতে ইচ্ছে করে খুব

 

তুমি আক্রান্ত হতে থাকো চতুর্ভুজের বিজ্ঞাপনে, তার তুফানি আইলাইনারে ভরা কত পুনর্জন্ম – লড়াই চলছে মোরগ অথবা মানসিক; হিমোগ্লোবিন পড়ে থাকে রাস্তায়

 

শঙ্খ ভেবে আমাকে বাজাতে এল একজন উর্মিমালা  – তারই অনুরণনে নির্ঘোষ নক্ষত্রমালা জেগে ওঠে ঝমঝম শব্দে

 

শালুকফুলের আখ্যানে ক্লোরোপ্লাস্ট সংবহন ও আশ্রমী অন্তি

আবারও হাঁটতে হাঁটতে মৌসুমি বায়ুর আলপথ উপহার দেয় ধানখেত, বাতাসের পরা ভাবে উপায়হীন ব্রংকাইটিস – সিলুয়েট মাখামাখি স্থাবর অথবা অস্থাবর একটি মায়ার অন্তরে ঢুকে পড়ছে সব নির্জন, শালুকফুলের আখ্যানে ক্লোরোপ্লাস্ট সংবহন ও আশ্রমী অন্তি – জলে ডোবা মৃত তুলসীগাছটি সমস্ত অর্গাজম ভুলে মিশে যাচ্ছে ছত্রাক রঙে –

 

আমি জ্যোতির্ময়, নিখুঁত পুকুরে ভেজানো নির্মোহ পা আর মাথুর মেঘ মাখা বৈষ্ণবীর নতস্তন পান করছি

 বুঝি,পাখিদের অরৈখিক গতিপথে শঙ্খ বাজিয়ে চলে রোদপলের সৌম্য

 

 


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন