![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৫৪ |
শূন্যস্থান
কদাচিৎ ক্লান্তি এসে ছুঁয়ে দেয় যেভাবে, আঁকড়ে ধরে শরীর, সেভাবে তুমিও একদিন ছুঁয়ে দিও নিবিড়ভাবে। তখন দেখবে ভেতরে কত নদী ছুটে চলছে কলকলিয়ে। কত রাস্তা ছুটে গেছে উদ্দেশ্যবিহীন। একটা ঠিকানার অভাবে ক্ষয়ে গেছে একের পর এক জুতো। ভালোবাসা দিতে এসে যারা খুব যত্ন করে বুনে দিয়েছে সন্দেহ, সেইসব বৃক্ষে এখন থোকা থোকা অবিশ্বাসের ফুল ফুটেছে। আমার সকল সুখের ভেতর কটু গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে রাত্রিদিন। ঘুমের ভেতর ট্রেন হুইসেল বাজিয়ে চলে যায়। জাহাজ নোঙ্গর তুলে ছেড়ে যায় বন্দর। ছোটবেলা থেকে অসংখ্য মানুষ হারিয়েছি। এই মধ্যবয়সে এসে হারিয়েছি দেশ। কদাচিৎ ক্লান্তি এসে যেভাবে ছুঁয়ে দেয়, সেভাবে ছুঁয়ে দেখো, আমার শরীর ভর্তি হয়ে আছে শূন্যস্থানে।
ঋণপত্র
প্রিয় বাংলাদেশ, তোমার আলিঙ্গনের সুতো কেটে, নক্ষত্র সমান ব্যবধানে বসত গড়েছি। এবার কীভাবে ছোঁবে? কীভাবে দুঃখ দেবে, যত্ন করে?
এই যে নির্বাসনে হাহাকার করে উঠি, রক্তের ভেতর তোমার বিদ্যুতচমক, তোমারও কি এমন হয়? তোমারও কি মনে পড়ে, কোনো অবকাশে, সেই পথের বাঁক, যেখানে নিরাপত্তার দাবি নিয়ে অনশন করেছি, দাবি জানিয়েছি মৌলিক অধিকারের? তোমার কোটি কোটি সন্তানের ভাবনায়, তুমি হয়তো মনে রাখোনি, আমিও আছি ঝরাপাতা কিংবা রিলিফের মতো, মুখাপেক্ষী।
হয়তো সন্ধ্যা নামলে আমার খোঁজ পড়ে না। হয়তো ভেবে নিয়েছো, আমি পথভোলা পথিকের মতো হারিয়ে গেছি অন্ধকারে।
কতদিন! এই দূরত্বে পর্যুদস্ত হয়ে আছি!
আমার নিশ্বাসে তুমি আজন্ম মাখামাখি হয়ে আছো, যেমন
রক্ত আর সবুজে একাকার হয়ে মিশে থাকে আমার হাসি, আমার কান্না।
কালশিটে দাগ
সম্পত্তির মতো অধিকারের দাবিতে তুমি ঠোঁটে রেখেছো কালশিটে দাগ। এ চুমু নয়, ভালোবাসা নয়, প্রেমও নয়। এ শুধুই রাজনৈতিক সিলমোহর। আমি উদ্ভ্রান্তের ভালোবাসা ভিক্ষে চাইনি, আঁচল পাতিনি। আমি আশ্রয় চেয়েছিলাম; যেমন আশ্রয় নিয়ে একটা বটবৃক্ষ বছরের পর বছর দাঁড়িয়ে থাকে। তুমি চাইলে আরও সহজ, স্বাচ্ছন্দ্য হতো যাতায়াত। আমরা ভাটির গল্প বলে শহরটাকে আরও মাতিয়ে রাখতে পারতাম। দেশমাতার এমন দুর্দিনে মানবতার ইশতেহার ছড়িয়ে দিতে পারতাম নিঃশব্দে। কিন্তু তোমার কুকুরস্বভাবে পুড়ে গেছে দালান-কোঠা। আমাদের প্রেম হয়নি। না বন্ধুত্ব। জলস্রোতে ভেসে যাওয়া যে-জীবন, সেই সীমান্ত অতিক্রম করে, ঢুকে পড়েছি শ্মশানে।

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন