![]() |
| কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৪৪ |
ফেসবুকে প্রেম
ফেসবুকিং করতে করতে একটা সুন্দরী মেয়ের ছবিতে চোখ আটকে যায় অমিতাভের। খুব মায়াভরা একটা মুখ। প্রথম দেখায় নজর কাড়ার মতো। মেয়েটার হরিণকালো চোখ দুটোর দিকে তাকালেই ভালোবাসতে ইচ্ছে করে। প্রোফাইল চেক করে দেখলো। নাম তমালিকা ছাড়া আর কোন তথ্য নেই। নামের সাথে কোন পদবীও নেই।
ফেসবুকে দু’টো আইডি আছে অমিতাভের।
একটা রিয়েল আর একটা ফেক। ফেক আইডি থেকে মেয়েটাকে একটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে দিলো
অমিতাভ। সাথে সাথে রিকোয়েস্ট একসেপ্টও হয়ে যায়। এরপর থেকে চলতে থাকে চ্যাটিং। একে একে
মেয়েটার ইনবক্সে মনের যতো আনন্দ-বেদনার কথা তুলে ধরে। মেয়েটাও তার সকল সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি
করতে থাকে অমিতাভ’র সাথে। এভাবেই চলতে থাকে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস। অনেকবার তমালিকার
সাথে দেখা করতে চেয়েছে অমিতাভ। ও রাজি হয়নি। কোনো ফোন নাম্বারও দেয়নি। শুধু ফেসবুকে
রোজ চ্যাটিং চলছে।
বিয়ে হয়নি তমালিকার। বিয়ে করার
মতো কোন পাত্রই নাকি মিলছে না। অমিতাভও নিজেকে ব্যাচেলার বলেই জানিয়েছে তমালিকাকে।
কথা বলতে বলতে দুজনের মধ্যে একটা আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ভালোবাসারও। এখন একদিনও চ্যাট
না করে থাকতে পারে না। বাড়িতে বৌয়ের ভয়ে অফিসে বসে চ্যাট করে। যাতে করে বৌ জানতে না
পারে। বৌকে ও ভীষণ ভয় করে।
কাল ওদের ফেসবুক ফ্রেন্ডশিপের একবছর
পূর্ণ হবে। আর এই বছর পূর্তিকে স্মরণীয় করে রাখতে অমিতাভ আর তমালিকা একটা অন্যরকম ডিসিশন
নিয়ে ফেলে। কাল ওরা বিয়ে করে ওদের ফেসবুক বন্ধুত্বের বছর পূর্তিকে স্মরণীয় করে রাখতে
চায়। পরদিন বিকেল চারটেয় ওরা দুজন মগবাজার কাজি আফিসে মিট করবে বলে ডিসিশনও নিয়ে ফেলে।
পরদিন অফিস থেকে বেরিয়ে ঠিক বিকেল
চারটেয় মগবাজার কাজি আফিসে চলে আসে অমিতাভ। তখনও তমালিকা এসে পৌঁছোয়নি। অমিতাভ রিসিপশনে
অপেক্ষা করতে থাকে। অপেক্ষা করতে করতে একসময় সোফার ওপর তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। তমালিকা
আসে ঘন্টাখানেক পর। অমিতাভ এমনভাবে ঘুমিয়েছিল তাতে করে ওর মুখটা দেখা যাচ্ছিল না। পাশের
সোফায় বসে অপেক্ষা করতে থাকে তমালিকা। অনেকক্ষণ পরে আড়মোড়া ভেঙে ঘুম থেকে উঠে পাশের
সোফায় ওর বৌ শান্তিলতাকে দেখে ভূত দেখার মতো চমকে ওঠে অমিতাভ। বলে- ‘তুমি এখানে?’
শান্তিলতাও কম ভিড়মি খায় না। বলে-
‘আমারও তো একই প্রশ্ন। তুমি এখানে?’

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন