ধারাবাহিক
উপন্যাস
ছেঁড়া শেকড়ের অন্তরাখ্যান
(১১)
খবর জানিয়ে প্রথম চিঠি গেল রমলার কাছে। পাড়াতে তেমন করে জানানো হয়নি, তবে টের পেয়ে গেছে প্রায় সকলে। এখানে কোন ব্যাপার আর চেপে রাখা যায়? তারাসুন্দরী ভাঙচির ভয় পান। ভাবেন ধীরেন্দ্রনাথের এত সুনাম, সম্মান, তাঁর মেয়ের বিয়েতে ভাঙচি দেওয়ার মতো প্রবৃত্তি নিশ্চয়ই কারও হবে না। তিনি লিখলেন সংক্ষিপ্ত চিঠি পাটিপত্রের সংবাদ জানিয়ে। অমলাকে বলবেন ভাবছিলেন তাঁর বয়ান মেজদিদিকে লিখে পাঠাতে। অমলা আজকাল লজ্জায় পালিয়ে থাকে। তার বিয়ে, ‘বিয়ের মেয়ে’ সে। বিয়ের মতো একটা ঘটনা, পাঁচজনে জানবে তার মাথায় সিঁদুর উঠবে। রাতে পাশে শোবে অচেনা পুরুষমানুষ – ভাবলে গা শিরশির করে। লজ্জা না পেয়ে সে যায় কোথায়? ধীরেন্দ্রনাথকে লিখতে বললে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে শুয়ে থাকেন। অতএব তারাসুন্দরী উপায় না দেখে অসন্তুষ্ট মনে নিজেই লিখলেন,
‘স্নেহের রমু,
অমুর পাটিপত্রের দিন ধার্জ করা হইল। যদি সম্ভব হয় তুমি বাবাজীবনের
সংগে আসলে ভাল হইব। দাদুভাইকে আনবা। তমার সহিত সাখ্যাতে কথা কমু। গয়না, নমস্কারি, দেওন-থোওন
কী হইব বুঝতে পারতাছি না। হেরা পণ নিব না কইছেন। তমার বাবারও সামর্থ নাই। কইছে, শাখা-সিন্দুর
দিলেই অইব। জামাইরে য্যান বড় দুর্বল দেখায়, আমি ফটোক দেখছি। উচ্চশিখ্যিত, তমার বাবায়
কন। অমুর লগে মানাইব কির’ম বুঝি না। কী লেখতে কী লেইখ্যা ফালাই, পত্র শেষ করতাছি। আমার
আশীর্বাদ জানিবা।
ইতি আং - তমার মা।
পুনঃ তমাগ বাবার শরীর আইজকাল আগের মতন নাই। কামের কথা কইলে রাইগ্যা
উঠে।’
চিঠি লেখার পর খুঁতখুঁত করছিলেন। অনভ্যাসে হস্তাক্ষর কাকের ঠ্যাং,
বকের ঠ্যাং। ভাষার কোনও ছাঁদ নেই। সময়মতো চিঠির জবাব এল রমলার কাছ থেকে। ছোটো বোনকে
উদ্দেশ্য করে লিখেছে। অনুরোধ করেছে, সে যেন তারাসুন্দরীকে পড়ে শোনায়।
‘স্নেহের অমু,
আমাদের অনেক স্নেহ আর আশীর্বাদ লইও। তোমার খবর পাইয়া সত্যই ভারী
খুশী হলাম। আমরা সকলেই চাইতাম তুমি সৎপাত্রে, ভালো ঘরে সুখে জীবন কাটাও। পাত্রের ও
পরিবারের বিবরণ জানাইয়া বাবা তোমার দাদাবাবুকে চিঠি দিয়েছিল। সে চিঠি আমি পড়েছি। তুমি
বাবা-মা’র ছত্রছায়ায় বড় সহজ সরল বালিকার
মতো বড়ো হয়েছ। বাইশ বছর পার হলেও তোমাকে বিশেষ কোনও জটিলতার সামনা করতে হয় নাই। দেশভাগ
হইয়া যে ভাগাভাগি হয়েছে, যা হারিয়ে গেছে, আমি জানিনা তাহার কতটুকু তুমি অনুধাবন করিয়াছ।
নতুন পরিবারে গেলে নতুন রীতি-প্রথা মানিয়া চলতে হয়, মেয়েদের
জন্য এই নিয়ম চিরকাল ধরিয়া চলে আসছে। তুমি শান্ত এবং বাধ্য, তাই তাদের ঘরের নিয়ম মেনে
চলবে এই কথা আমি বুঝি। তাদের ঘর-সংসার ছোটো, প্রতিনিয়ত বহু মানুষের মন জুগাইয়া চলিতে
হবে না। তদুপরি সংসারে প্রথম স্থানে থাকা এবং দ্বিতীয় হইয়া প্রথমের স্থান অধিকার না
করিয়া তথাপি নীরবে সমস্ত দায়িত্ব পালন করে যাইবার যে কঠিন পরীক্ষা, তাহা তোমারে দিতে
হইবে না। হয়ত আমার কথার অর্থ তুমি বোঝ নাই। বুঝবার দরকারও নাই। তোমাকে যা বলিবার তা
হল, বাবার একান্ত ইচ্ছা ছিল তুমি বি-এ পাশ করে টিচার্স ট্রেনিং-এ ভর্তি হও। অবসরে যে
সেলাই শিখেছ, তার ডিপলোমা পরীক্ষা অতি অবশ্যই দেবে। ভবিষ্যতে অনেক কাজে লাগবে। জানবে
শিক্ষার কোনও বিকল্প নাই। আমার লেখাপড়া বেশীদূর আগায় নি, জান। দিদির অনেক বুদ্ধি ছিল,
তার উচ্চশিক্ষাও মাঝপথে থেমে গিয়াছিল। আমি অল্পবিস্তর সূচ-সুতার কাজ নিজের চেষ্টায়
শিখেছি। কিন্তু পঙ্গুত্বের কারণে খুব ভাল পারি না। যা পারি, তাতে অবশ্য সংসারের ছোটখাট
ছিদ্র ভালমত সেলাই করা যায়। যদিও তোমাকে এইসব কথা লেখা আমার অনুচিত। দিদি হিসাবে আমি
তোমার সঙ্গে তামাশা করছি, ভয় পাইয়ো না।
দিদিকে মা-বাবা গা-ভরা গহনা দিয়ে সাজিয়ে বিবাহ দিয়েছিল। টায়রা
থেকে কোমরের গোটছড়া। তখন সোনার ভরি কত শস্তা। ভাইয়ের বউদের জন্য এবং তোমার জন্যও রাখা
ছিল। কিন্তু কালের কবলে পড়িয়া তাহার কতটুকু মা-র কাছে সঞ্চিত আছে আমার জানা নাই। দিদি
যে দেখতে প্রতিমার মতো ছিল, তোমাকে আর কী বলব। দিদির সহিত বিয়ের পর তোমাদের দাদাবাবুর
পরিবারে ব্যবসায় আরও উন্নতি হয়। ফলে, দিদির সৌভাগ্য তুমি অনুমান করতে পার। গয়না সৌভাগ্যের
চিহ্ন কি না আমি জানি না। লোকে এরকম বলে বলে আমি লিখলাম। আমি তোমাদের দাদাবাবুর সঙ্গে
তাদের সংসারে বউ হয়ে যাওয়ার পর দিদির সমস্ত গহনা একদিন আমার হাতে তুলে দিয়ে বললেন,
‘মন্দিরে দেবতার অলঙ্কার যেভাবে রক্ষা করা হয়, সেভাবে রাখা ছিল। তোমার জিম্মায় দিলাম।
মর্যাদা রেখে ব্যবহার কর’। আমার সংসারে শাশুড়ির আধিপত্য, শাসন কিছু নেই। আমি নিজে নিজেকে
রক্ষা করে চলি। সে আরও কঠিন। মনে মনে দিদির কথা স্মরণ করি। তোমার দাদাবাবু তোমাকে নিজের
কন্যাসম স্নেহ করেন। তোমার বিয়ের সংবাদে বড় খুশী হয়ে বলল, ‘ছোটগিন্নীর বিয়েতে ভাল করে
সাজিয়ে দিতে হবে, যেন নিন্দা না হয়।’ মা যেন ওই বিষয়ে চিন্তা না করে। তারা পণ চায়নি শুনে সুখী হলাম।
তাদের খুব উদার মন। তাদের আমার প্রণাম জানালাম। আর বিশেষ কি! তুমি আমাদের আশীর্বাদ
নিও।
মাকে বলিবে, মা’র গোপাল লেজকাটা হনুমানে পরিণত হয়েছে। শীঘ্রই কয়মাস পর তার ভাই
কিম্বা বোন আসিবার সম্ভাবনা। তিনমাস পার হয়ে গেছে। আমি ভাল আছি। এবার সম-সময়ে আশা করি
মা’র কাছে গিয়ে অনেকদিন থাকিতে
পারব। তখন মা’র আদরের নাতির ঠ্যালা মা বুঝবে। মাকে আর আলাদা লিখলাম না। এই
চিঠি পড়িও। মা এবং বাবাকে আমার ভক্তিপূর্ণ প্রণাম দিবে। ওরা যেন শরীরের যত্ন নেয়।
ইতি আং তোমার ছোড়দিদি।’
দুপুরে খাওয়ার পর সোডা দিয়ে অ্যালুমিনিয়ামের গামলায় একগাদা কাপড় নিবু আঁচে সেদ্ধ বসিয়েছিলেন তারাসুন্দরী। বিছানার চাদর, বালিশের ওষার, নিজের সর্বদা-পরার মোটা শাড়ি, সায়া, পাজামা, গামছা। সপ্তাহে দু-একবার কাজটা করতে হয়। নতুন ঠিকে-ঝি মতি ভারি ফাঁকিবাজ। গতর নাড়িয়ে কাপড়গুলো আছাড় দিতে চায় না। একটু গোলা-সাবান ঘষে ধুয়ে ফেলতে পারলে বাঁচে। সাধুখাঁদের ঘরের পাশে বড় ডোবার জল এখন পরিষ্কার। ওখান থেকে কেচে আনলে কাপড় ফটফটে হয়। কিন্তু ওরা আপত্তি করে। ওদের ঘরে অনেক মানুষ, পাঁচটি জোয়ান ছেলে, আইবুড়ো দুই মেয়ে, বৌ, নাতি, কর্তা-গিন্নী। সম্প্রতি ক-বছর আগে কাঁচা বাজারের কাছে তাঁদের রেশন দোকান সরকারি আনুকূল্যে স্থাপিত হয়েছে। কর্তা দেশের বাড়িতে কী করত কেউ জানে না। বলে, তেলের ব্যবসা ছিল। বর্তমানে ঘরে থাকে। দিনে একবার পাড়া টহল দিয়ে আসে। কেউ বলে লোকটা বড় বদ, কেউ বলে সেয়ানা পাগল। গিন্নীর মেজাজ খুব চড়া, ঝগড়া শুরু করলে থামতে পারে না। সেই ডোবা পুকুরের জল ব্যবহার করা নিয়ে পাড়ার সকলের সঙ্গে ঝগড়া বাধে। দেশজ ভাষায় যা গালি পাড়ে, পূর্ববঙ্গের মানুষদের কাছেও প্রায় অবোধ্য। তারাসুন্দরী একবার গিয়েছিলেন। বলেছিলেন, অমলা মাথা ঘষে মাথা ধুয়ে আসবে। তাতেই গিন্নী কটকট করে অকথ্য ঝগড়া করল। তারাসুন্দরীও দু-কথা শুনিয়েছিলেন,
“আপনেগ পুষ্করিণী যে কন, কয়ডা পহা দিয়া খরিদ করছেন? আমগ জমিখান
খরিদ কইরা বইছি, বাসা করছি।”
“আমরা হেই জাগাত বইছি, পুষ্করিণীর কাদা, নুংরা, পানা তোলছি। তয়
না জল পাই। তহন তরা কই আছিলি? জল তগ কি মাংনা দিমু?”
ঘরে এসে তারাসুন্দরী গজর-গজর করেছেন। ধীরেন্দ্রনাথ অত্যন্ত বিরক্ত
হয়ে বলেছেন,
“তুমিও কম ঝগরাইট্যা না। মাইয়ারে পাঠাও ক্যা? চিরডাকাল কইছি মাইনষের
পাছায় লাগতে যাইয়ো না, শোনবা না। অহন নালিশ কর? অগ লগে পারবা? পয়সা অইছে শীতল সাধুখাঁর।
ঘর দালান হইছে। তুমাগ লাইগ্যা চাতালে টিউকল পুইত্যা দিই নাই? যা করনের কর গা।”
পরে বিষয়টা সাধুখাঁর বড় ছেলে গোপালের মধ্যস্থতায় একরকম সমাধান
হয়েছে। ধীরেন্দ্রনাথের সম্মান আছে। সে এসে ধীরেন্দ্রনাথের কাছে ক্ষমা-টমা চেয়ে গিয়েছে।
এক দুপুরের পর অমলা গিয়েছিল কাপড় ধুতে। শীতলবাবুর দখলে অনেকটাই জমি, বাড়িখানা ছড়ানো।
সামনের অংশটা পাকা করা হয়েছে সম্প্রতি। লাল সিমেন্টের চকচকে দাওয়া, মুখোমুখি পাকাঘর
দু-খানা। শীতলবাবু দাওয়ায় বসে ঝিমোয়। উঠোন পেরিয়ে খানিক ওধারে হাঁসের ঘর। পাশেই সুপুরি
গাছের মাঝে ঘেরা ঘাটের মতো ডোবার পাড়। জলে ভাসছিল ছ-সাতটা হাঁস। সাধুখাঁদের ছোটো মেয়ে
রেণু বসে কতবেল মাখা খাচ্ছিল। অমলাকে দেখে খুশীমুখে বলল,
“কাপড় ধোবা দিদি? আমাগ ঘরে ক্যান আস না? লাল ছিমেনটের জমি অইছে,
পাকা দালান অইছে—।”
“যাব।”
“হাসাহাসিগুলারে নজর রাখবা? এক্কেরে অক্খনই আইতাছি।”
“আয়।”
অমলা উত্তরে মাথা নেড়েছিল। রেণু বুঝি হাঁসদের জন্য খাবার আনতে
গেল। রোদ মরে ছায়া ছায়া বিকেল। জলে তার কালো ছবি। অমলা কাপড় ধুতে ধুতে আনমনা হয়ে যাচ্ছিল।
খানিক পরে থ্যাবড়া ছায়া পড়ল পেছনে। অমলা বালতি হাতে উঠে দাঁড়াল। তার কাজ হয়ে গিয়েছিল।
পেছনদিকে ফিরে দেখল শীতল সাধুখাঁ, বাড়ির কর্তা। বয়সে তার বাবার চেয়েও বড়ো। চওড়া নধর
বেঁটেখাট চেহারা, পাকা-পাকা কদমছাঁট চুল। লুঙ্গি গুটিয়েছে ঊরুতে। গর্তের দু-চোখ টিকের
আগুনের মতো জ্বলছে। অমলা দাঁড়ানোমাত্র নিমেষে দু-হাত বাড়িয়ে খামচে ধরল তার বুক,
“তর ম্যানাদুইডা য্যান—,”
“ছাড়ান দ্যান আমারে জ্যাঠাবাবু—, পায়ে পড়ি আপনের—, আর কুনোদিন আসুম না—।”
টসটসে লালায় ভিজে গেছে শীতলবাবুর পান-খাওয়া মোটা ঠোঁট। অমলা
চাপা আর্তনাদ করে উঠল। একবার ভাবল বালতিটা ঘুরিয়ে আঘাত করে। তার ভয়, শিক্ষা, ভব্যতা
বাধা দিল তাকে। চাপা গলায় অনুনয় করতে লাগল, গা মুচড়ে সরে যেতে চাইল। এত সহজে ছাড়া পেত
না হয়ত, অদূরে রেণুর গলা শোনা গেল। হাঁসদের নাম ধরে ডাকতে ডাকতে দৌড়ে আসছিল। শীতলবাবু
বিদ্যুতের মতো সরে গেল, লুঙ্গি নামাল হাঁটুর নীচে। অমলা বালতি হাতে দৌড়ে ঘরে ফিরল।
কিছু বলেনি সেদিন তারাসুন্দরীকে। দাঁতে-দাঁত চেপে স্থির হয়েছিল। কিন্তু আর কোনওদিন
তারাসুন্দরী তাকে ওমুখো করতে পারেন নি।
রমলার চিঠি আরও একবার শেষ করল অমলা। এই নিয়ে ক-বার যে পড়ল! তারাসুন্দরীকে
পড়ে শুনিয়েছে। মাটিতে মাদুর পেতে সে শুয়েছিল। তারাসুন্দরীর পায়ের আওয়াজ পেল। চিঠিটা
বালিশের তলায় গুঁজল তাড়াতাড়ি। চোখ বুজে ঘুমের ভান করে পড়ে রইল। ছোড়দিদি যা যা লিখেছে,
সে সবের অনেক কথা সে বোঝেনি। কিন্তু পড়তে বড় ভালো লেগেছে। সে আসন্ন অনুষ্ঠানের কথা
ভাবতে লাগল। বুকের মধ্যে ছোট্ট কালো দাগ হয়ে রয়েছে বছর দুই আগেকার সেই ঘটনা। কাউকে
বলতে পারবে না।
মা-র সামান্য গহনা আর ছোড়দিদির পাঠানো নতুন শাড়িতে আশীর্বাদ
হয়ে গেল অমলার। রমলা মুরারীমোহনের হাতে লাল ধনেখালি শাড়ি পাঠিয়েছিল বোনের জন্য। দিবাকরের
বাবা কালীকিঙ্কর, ছোটো বোন, ভগ্নীপতি, আরও ছ-সাতজন বয়স্ক আত্মীয় এলেন আশীর্বাদ করতে।
বিবাহের দিন-ক্ষণ পাকা করা হল। সিঁদুর-মাখানো রুপোর টাকায় ছাপ মারা হল কাগজে। উত্তর
কলকাতার বিখ্যাত দোকানের রাজভোগ এনেছিলেন তাঁরা। সঙ্গে চ্যাঙারি-ভর্তি ছানার গজা। সরু
একজোড়া বালা দিয়ে কন্যা-আশীর্বাদ করলেন ভাবী শ্বশুরমশাই। তাঁর গম্ভীর মুখে চোখদুটো
ছলছলে দেখাল। ধীরেন্দ্রনাথের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বললেন,
“মাস্টারমশয়, আপনেরে য্যান বড় কাহিল দেখায়! শরীর-গতিক কেমন বুঝেন?”
“তেমন ভাল না বেয়াইমশয়। তয় আমি চিন্তামুক্ত হইলাম, আমার অবর্তমানে
আমার কইন্যা আপনেগ ঘরে থাকব। আমি তাইরে কইয়া দিছি। অ্যামনেও অমু আমগ বাইধ্য মাইয়া—।”
পাড়ার মানুষজন বিশেষত মহিলা অতিথিদের বিদায়ের পর ভীড় করে এল।
সকলে যে খুশী তাও নয়। এতদিন খবরটা আড়ে-প্রকারে কানাঘুষো চলছিল। তারাসুন্দরী আগাম জানিয়ে
রাখলেন, সকলেই তাঁদের অমুর বিবাহে আমন্ত্রিত।
(ক্রমশঃ)

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন