![]() |
| কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৫০ |
শাস্তি
আলো পড়ে এসেছে। আদ্ধেকটা অন্ধকার হয়ে গেছে সিঁড়ি এবং সিঁড়ির পর লম্বা করিডোর বন্ধ ক্লাসঘরের ভেতর খুটখাট আওয়াজ। বেড়ালের। চামচিকের। ওইখানে আবছা অন্ধকারে দেওয়ালে এখনও জেগে আছে যৌনতার কথা। মাঝখানে চিকে দিয়ে একদিকে মিতালি আরেকদিকে দেবব্রত, শিবু প্লাস সোমা, বিভিন্ন বছরের দাগ দেয়া চাওয়ার কথা শুধু এই নয় স্কুল শাখায় না এমন কিছু অকথ্য শব্দ। স্কুল শেষে সুইপার হরিনাথ এখানে হস্তমৈথুন করে। সারি সারি ক্লাসরুমের শেষে সাইন্স ল্যাব। সন্ধ্যা নেমে এলে আরো অন্ধকার। আলো জ্বালে না হরি, কোনোমতে কাজ সারে। একবার দুবার ধাঁতানিও খেয়েছে হেডস্যর পিতাম্বরবাবুর কাছে। কিন্তু সত্যি কথাটা বলতে পারেনি। হরি আসলে ভয় পায়। সন্ধ্যা নামলেই বয়েমের ভেতর থেকে সাপ ব্যাং আর অক্টোপাসেরা সব কিলবিল করে বন্ধ দরজার ওপার থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। ল্যাবের কঙ্কালটা জ্যান্ত হয়ে যায়। হরি বাচ্চাছেলে নয়। মেয়ের বাপ। তবু আজকাল সে এই স্কুল বন্ধর পরে তিনতলার ফ্লোরটা ভয় পায়। গা শিউরে ওঠে। পালাতে চায়। ভয়ে ভয়ে তাকায় ঘুপছি বাথরুমগুলোর দিকে। যখন পরিষ্কার করে বেরিয়ে আসে মাথাটা ভোঁ ভোঁ করে।
ছুটে নেমে আসে মাঝের ছোটো মাঠটাতে। কৃষ্ণচূরা গাছ দেবদারু আর কলকে ফুলের গাছ ঘেরা মাঠে শূন্যতা ম ম করে। বুকের ভেতর থেকে একটা কান্না উঠে আসে হরির।
এইরকমই সন্ধ্যা ছিল। বয়স কম ছিল আরেকটু। সন্ধ্যায় সিনেমার টিকিট কাটা ছিল। বউ তাড়া দিচ্ছিল নাকি কোনও প্রেত নজরে পড়েছিল সেদিন। যাহোক তাহোক করে না করে দরজাগুলো লক মেরে চলে গেছিল। গরমের ছুটির শেষ দিন। হরি প্রতি সন্ধ্যায় পেছন ফিরে চায়। শোনা কি যাচ্ছে কোনও ক্ষীণ গলা? পনের দিন পর স্কুলময় পুলিশ। শেষবার চেষ্টা করছিল বাড়ি না ফেরা বাচ্চাটার। ক্লাস টু। সব খোঁজা শেষে খুলেছিল তিনতলার বাথরুম। বাইরে থেকে লক। দেড় বাই দেড় ঘুপচি আলোহীন স্টুডেন্ট টয়লেটে একটা কঙ্কাল। অনেক উঁচুতে একটা ছোট্ট শার্সি। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তারপর থেকে পাঁচ বছর জেলে। সে আর ক্লাস টু’র দেবমিতা।
পিতাম্বরবাবুর অনেক তদ্বিরে সাজা কমেছিল। কাজটা আবার দেবার ঝুঁকি নিয়েছিলেন পিতাম্বরবাবু আরও বড় শাস্তি দিতে। এখন মাঠে বসে আছে হরি। অন্ধকার একটা দানব গিলতে আসছে তাকে।

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন