কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / ষষ্ঠ সংখ্যা / ১৪৫

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / ষষ্ঠ সংখ্যা / ১৪৫

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬

সুধাংশুরঞ্জন সাহা

 

কবিতার কালিমাটি ১৬০

 

জল যখন একাকী

 

আমার সময় কাটে ক্যানভাসে জলরঙে ছবি লিখে লিখে।

ছোটো ছোটো নদী নিঃশব্দে রটায় ভেসে যাওয়া গ্রামের চালচিত্র।

 

জল যখন একাকী ঘুমোবার তোড়জোড় করে,

আমি নিভৃতে খুঁজি আমার হারানো বালকবেলা।

জলদাপাড়া অভয়ারণ্য অথবা বক্সার জঙ্গলে

তন্ন তন্ন করে খুঁজি বাংলার সেই হারানো  মুখ।

 

জীবন থেকে পালিয়ে নয়,

সহজ নদীর জলেই ভাসতে চাই।‌

রাত্রি যখন গভীর হয় মেঘের দিকে পাশ ফিরে শুই,

এমন মেঘলা রাতে নিজের ডেরা বদলে নিতে চাই।

ফিরে পেতে চাই গাছের পাতা ও ছায়ায় ঘেরা পর্ণকুটির।

 

শ্বাসকষ্ট

 

প্রেমিকাকে খুন করার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত

আদর করতে পারে যে সব পুরুষ,

কিংবা প্রেমিকের জন্য নিজের স্বামীকে

পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে পারে যে সমস্ত নারী,

তারাই আবার অসম্ভব দক্ষতায় মুঠোয় পুরতে পারে,

শত্রু শিবিরের রথী মহারথীদের।

 

অবশ্য এটাও মিথ্যে নয়,

কিছু কিছু মানুষ এমন কিছু কান্ড করে বসে,

যা সবাইকে বিস্মিত করে!

এই যেমন ধরুন,

বিবিরহাট থেকে বসিরহাট,

টালির ঘর থেকে স্কাই রাইজ আবাসন,

গলিপথ থেকে ঝা চকচকে আট লেনের রাজপথ,

তাদের বসবাস যে কোনো স্থানে হতে পারে।

কিন্তু তারা এতোটাই নির্মম ও উদাসীন 

নাম থাকা, না-থাকা যে কোনো সম্পর্ককে নির্বিচারে হত্যা করতে পারে নীরবে।

সেসব নির্মমতার হদিস সবসময় আলোয় আসে না,

খুনিরা সাজা পায় না নানান আইনি মারপ্যাঁচে।

ফলস্বরূপ প্রেম, বিরহ ও অভিমানের মতো অনুভূতিগুলো

রীতিমত শ্বাসকষ্টে ভোগে অথবা ভুগতে শুরু করে।

 

গ্রামের প্রতীক্ষা

 

তোমার চোখে বৃষ্টিকথা ছিল,

ছিল অসম্ভব নোনা সম্পর্কের মায়া।

যদি কোনোদিন শহর ফেরে গ্রামে,

হাঁটে ধানখেতের চিকন আল বেয়ে,

বদলে যাওয়া যাপনের মেঘ মাখে,

ঘুমের অরণ্যে হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন

যদি আলোর দিশা খুঁজে পায়,

উড়ন্ত পাখির ঘুম নিয়ে লেখে

উচ্চাশাহীন নদীর কথা...

বৃষ্টির মানচিত্রে লিখে রাখব গ্রামের প্রতীক্ষা।

 

 

 

0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন