| সমকালীন ছোটগল্প |
অবিনাশ
পরশু দিনই অতনুকে বলেছিল, দুপুরে বেরোবে। যায়নি। তাই আজকে বেরোনো। খুব দূরে কোথাও যেতে হলে টোটোতেই যায়। না হলে সাধারণত রিক্সোয় যেতেই ধৃতি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। আজকেও তাই এই রিক্সোটা নিয়েছিল। বেশ এলো পথটুকু। কিন্তু রিক্সো থেকে নামার সময় পাদানিতে বেড়িয়ে থাকা একটা খোঁচায় সিল্কের শাড়িটা ফ্যাঁস করে ছিঁড়ে গেল ধৃতির। প্রায় উল্টে পড়ছিল। নিজেকে খুব জোর সামলে নিয়েছে। নিচু হয়ে কুঁচির দিকটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখলো। বাঁদিকের পাড়ের উপরটায় বেশ খানিকটা ‘ব’-এর মতো করে ছিঁড়েছে। বলতে যাচ্ছিল, একটা পয়সাও দেব না। বলতে গিয়েও বললো না। অদ্ভুত শীর্ণ চেহারা লোকটার। বেঁটে মতো, চ্যাপ্টা মুখ, ছোটছোট কোটরে ঢোকা চোখদুটোর লোকটাকে দেখে ওর আর বলা হল না কথাগুলো।
কী রকম করুণমুখে লোকটা বললো, যাঃ দিদি! আপনার শাড়িটা ছিঁড়ে গেল। তারপরেই পাদানিতে হাতটা বোলাতে বোলাতে বললো, এই যে কোণাটা উঠে আছে, এটাতেই ছিঁড়লো। নিচু হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা এক টুকরো ইঁট খুঁজে নিয়ে দু’তিনটে বাড়ি বসালো কোণাটায়। তারপর শীর্ণ হাতের তালুটা বুলোতে লাগলো সারা পাদানিতে। যদি আরও কোনো কোণা উঠে থাকে। ততক্ষণে ধৃতি পার্স থেকে কুড়ি টাকার নোট বের করে ওর সামনে ধরেছে। সেদিকে ওর খেয়াল নেই।
প্রচন্ড রোদ। এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে অসহ্য লাগছে ধৃতির। লোকটা কিন্তু মন দিয়ে খোঁচা দেখতেই ব্যস্ত। বাধ্য হয়েই বলে উঠলো, নাও, টাকাটা ধরো। কিন্তু ওর যেন কোন তাড়া নেই তেমন কোনো। ধৃতির হাতের দিকে এক ঝলক দেখে নিয়ে ঘাড় থেকে গামছা নিয়ে গা’টা মুছে ধীরে সুস্থে রিক্সোর হুড নামিয়ে সিটের নিচের ছোট্ট একটা পাল্লা খোলে। তার ভিতর থেকে জর্দার একটা কৌটা বের করে প্রায় চোখের কাছে এনে দু টাকার দুটো কয়েন তুলে ধৃতির দিকে হাতটা বাড়ায়।
-খুচরো এক টাকাটা যে নেই দিদি?
সাধারণত বাজার থেকে সরকারি আবাসন দশটাকা ভাড়া। কখনো পনেরো। রোদে আর গরমে ইচ্ছে করেনি দরদাম করতে। কোথায় যেতে হবে বলেই রিক্সোয় উঠে বসেছিল। পেটের কাছে চেপে ধরেছিল ব্যাগটা। পুজোর বাজার সারতে বেরিয়েছিল ধৃতি। বাজার মোটামুটি শেষ হলে এক ফাঁকে মনে মনে হিসেব করে নিয়েছিল, পাঁচহাজার টাকার একটা বান্ডিল আর খুচরো বারোশো মতন, প্রায় হাজার ছয়েক টাকার বাজার হয়ে গেল। কিছুই অবশ্য ওর নিজের জন্য নয়। দুই মা, শ্বশুরমশাই, ছোটবোন আর কাজের মাসির জন্য। অতনু অফিসে বেরিয়ে যাওয়ার পরপরই ও বেরিয়েছিল। এখন প্রায় আড়াইটে। আসলে পুজোর সময় তো! এই দুপুরটাতেই যা একটু হালকা থাকে ভিড়। বেশ ঘুরেফিরে পাঁচটা দোকান দেখে বাজার করা যায়। সন্ধ্যাবেলা অতনুর সঙ্গে বাজার যাওয়া ইম্পসিবল। প্রথমেই অতনু কোন একটা নামীদামী মলে ঢুকবে। গোটা দশেক শাড়ি নামাবে। সেখান থেকেই বেছে নাও। পাঁচটা দোকান তো মোটেই নয়। অজুহাত, যা ভিড়! ধৃতির সেভাবে পোষায় না একদম। বছরে এই সময়টাতেই তো বাজার করার মজা। নানান দোকানে ঘুরবো, এক এক দোকানের একেক রকমের ফ্যাশন। এ সময়েই তো নানান ডিজাইনের শাড়ি আর নতুন নতুন পোষাক বেরোয়। ভালো জিনিস তো মানুষ এ সময়েই কেনে। তা’হলে একটু ঘুরেফিরে দেখেশুনে কিনতে হবে না! তাছাড়া বাজারটা দেখতেও এসময়ে কিন্তু বেশ লাগে ধৃতির।
আজকের পরনের শাড়িটা গত বছর কেনা হয়েছিল অতনুর সঙ্গে গিয়ে রাধেশ্যাম বস্ত্রালয় থেকে। অতনুর পছন্দ করা সেই শাড়িটা ছিঁড়ে গেল! মনটা খচখচ করছে। মনটা খারাপ হলেও রিক্সোওয়ালার দিকে তাকিয়ে কুঁকড়ে গেল ধৃতি। টাকাটা বাড়িয়ে দিয়ে ধৃতি বললো, থাক্ ফেরত দিতে হবে না। লোকটার চোখদুটোয় যেন অবিশ্বাস।
-তুমি চা খেয়ে নিও। ফেরত দিতে হবে না।
ভারি ব্যাগটা রিক্সো থেকে নামাতে যেতেই লোকটা তার শীর্ণ হাতটা বাড়িয়ে দিল।
-দিন দিদি। আমি দিয়ে আসছি।
ধৃতি আর কথা বাড়ালো না।
লোকটার মুখে ক্ষীণ স্বস্তির রেখা ফুটে উঠলো। অন্তত ধৃতি যেন সেরকমই দেখলো। লোকটা যে কোন্ আতঙ্কে ইঁটের টুকরো দিয়ে পা-দানিতে ঘা মারছিলো, ধৃতি বুঝলো কি ঠিকঠাক! ওর চোখ মাটি দেখছে এখন।
শরৎ পেরিয়ে যাচ্ছে। গরম তবু কমে না। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে ধৃতির গলা দিয়ে বেরিয়ে এলো, উফ্ কী গরম! দু’একদিনের মধ্যে বৃষ্টি না নামলে মানুষ ঠিক মারা পড়বে!
ধৃতির পিছন পিছন লোকটাও উঠে আসছে। ব্যাগটা রিক্সো থেকে নামিয়ে কাঁধে নেওয়ার সময়েই ধৃতি দেখেছিল, লোকটা একটু কাৎ হয়ে গিয়েছিল। ব্যাগের ভারে এখন ডান দিকের কাঁধটা সামান্য ঝুঁকে গেছে। পার্স থেকে চাবি বের করে দরজার লক খুলতে খুলতে বললো, তোমার বাড়ি কোথায়?
-এই তো ওল্ড বাঁশবাড়ি। মহানন্দা বস্তিতে।
-বাড়িতে আর কে আছে?
ফ্যানটা চালিয়ে সোফার উপরে শরীরটা ছেড়ে দিতে দিতে ধৃতি প্রশ্নটা ছুঁড়ে দেয় আলতো করে। লোকটা ঘরের ভিতর এক পা রেখে ব্যাগটা একপাশে রাখলো। গামছায় গায়ের ঘাম মুছতে মুছতে খুব নির্লিপ্তভাবে উত্তর দেয়, এখন বৌ আর আমি।
-নাম কি তোমার?
-অবিনাশ। উফ্ বড্ডো গরম দিদি আজ। মানুষ এবার সত্যিই মরবে।
বলেই দরজার কাছে মেঝের উপর থেবড়ে বসে পড়ে। ফুল স্পিডে ফ্যানটা ঘুরছে। লোকটা ঘেমেনেয়ে এক্কেবারে একসা।
হাতে তেমন আর কাজ নেই এখন। ক্ষিদেও পায়নি। অবিনাশকে বসতে দেখে ধৃতি বললো,
-ক’টায় বের হও তুমি রিক্সো নিয়ে?
-সকাল আটটায়। চারটে অবধি চালাই। তারপর গাড়ি জমা দিয়ে বাড়ি যাই।
ধৃতি টেবিল থেকে জলের বোতলটা নিয়ে জল খায় খানিক।
-কেন তোমার নিজের রিক্সো না এটা!
-না দিদি। আগের বছর আমার রিক্সোটা আড়াই হাজারে বিক্রি করে দিয়েছি। এটা মালিকের গাড়ি।
ম্লান হেসে অবিনাশ উত্তর দেয়।
-তা সারাদিনে তোমার কতো হয়?
-মালিককে রোজের কুড়ি টাকা দিয়ে কোনদিন ত্রিশ, কোনদিন চল্লিশ। আবার কোনদিন কুড়ি-পঁচিশ নিয়েও ঘরে যাই।
অবিনাশ দরদর করে ঘামছে। গলার গামছায় মুখটা মুছছে বারবার। ফ্যানের হাওয়ার দিকে যেন একটু সরে বসলো। পায়ের শিরাগুলো পাকানো দড়ির মতো ফুলে ফুলে উঠেছে। নীল, ঠেলে বেরিয়ে আসতে চাইছে যেন। যথেষ্ট বয়েস হয়েছে মানুষটার। অবিনাশদা - এরকম ডাকলে কি বাড়াবাড়ি হবে! ধৃতি ভাবলো একবার।
ফ্যানের তলায় সোফায় গা এলিয়ে বসে ধৃতি কীরকম অস্বস্তি বোধ করে। যে মানুষটা এতটা পথ তাকে টেনে নিয়ে এলো, সামান্য ক’টা পয়সার জন্য, একটু হাওয়া আর বিশ্রামের জন্য ঘরের এক কোণায় তাকে অমনভাবে বসতে হবে! এক্ষুনি আবার ছুটবে অন্য কোথাও, অন্য কোনো দিকে। কিন্তু কি-ই বা করার আছে ধৃতির! যেন কিছু বলতে হবে, তাই বললো,
-তোমার বাড়িতে কে কে আছে, বললে না তো অবিনাশ!
-ঐ যে বললাম, আমি আর বৌ। কী আর বলবো, দিদি। একটা মেয়ে। বিয়ে দিয়ে দিয়েছি। এ পাড়া ও পাড়া। ছেলে ভালো মনে করেই তো দিলাম। তা এখন দেখি, সবই আমার কপাল। মোদোমাতাল। ইলিকট্রিকের কাজ করে। যা ইনকাম করে, সবই মদে যায়। মেয়েটাকে মারধোর করে। তিনটে ছেলেপুলেও আছে। আমার আরও একটা ছেলে ছিল, দিদি। কতো হবে! এই এক কুড়ির মতো। কিন্তু ও যে এখন কোথায়, বলতে পারবো না।
-তার মানে!
-আর বলেন কেন, জরির কাজ শিখবে বলে পাড়ার কয়েকজনের সঙ্গে পাঠিয়ে ছিলাম জয়পুর। বছর দুয়েক হল। প্রথম বছরটায় খোঁজখবর করেও ছিল। যখন যেমন পারতো, পাঠাতো দু-পাঁচশো এর ওর হাত দিয়ে। এখন আর কোন টাকাপয়সা পাই না, খবরও না।
-যাদের সঙ্গে পাঠিয়েছিলে, তারা কী বলছে? খোঁজখবর করোনি তাদের কাছে?
-নিইনি আবার দিদি! প্রথম প্রথম ওরা বলতো, তোমার ছেলের ওখানে গিয়ে চোখমুখ ফুটেছে। ও আর এখন আমাদের পাত্তা দেয় না। ওখানে কাজ ছেড়ে কাজ-ও ধরেছে অন্য মালিকের কাছে। বারবার খোঁজ নিতে গেলে ধাওয়া দেয় মালিকের লোক। বলে, ভালোই আছে তোমাদের ছেলে। এতবার করে আসার কি আছে? দেখাও করতে দেয় না।
-সে কি! কোন ব্যবস্থা নাওনি!
-কি আর করবো দিদি? আমার আর কীই বা ক্ষমতা! নিজেদের পেটের চিন্তা করবো না, এ নিয়ে দৌড়ছুট করবো! এখন ভগমানই ভরসা।
গামছায় অবিনাশ যেন দু’চোখের শুকিয়ে আসা জল-ই মোছে।
-আর তোমার বৌ? সে কোথায়?
-কোথায় আর যাবে! অন্ধ মানুষ।
-অন্ধ! একেবারেই দেখতে পায় না!
এবার সত্যি সত্যি অবিনাশের চোখে জল দেখলো ধৃতি।
-আর কী বলবো! ছেলের শোকেই কেঁদে কেঁদে শেষ হল। এখন একদম দেখতে পায় না। ওর জন্যই তো রিক্সোটা বেঁচে দিতে হল। ডাক্তার ওষুধ অপারেশান, কোত্থেকে এত পারবো! এখনো টেনে যাচ্ছি। চলে যাচ্ছে খেয়ে না-খেয়ে কোনরকমে। দিদি, একটা কথা বলব?
খুব নিচু স্বরে অবিনাশ কথার মাঝখানে হঠাৎ বললো।
একটু যেন চমকে উঠলো ধৃতি। কোন বায়না নাকি! মুখে বলে,
-হ্যাঁ হ্যাঁ বলো না কেন কী বলবে!
মনে মনে প্রমাদ গোণে। বেশি পাত্তা দেওয়া হয়ে গেল না কি! অতনুর কথা মনে পড়লো। আগ বাড়িয়ে সবসময়ে বেশি কথা বলতে নেই। অনেকেই পেয়ে বসে। ঠিকই বলে বোধহয়। এখন এ হয়তো সাহায্য চাইবে। ওরা তো এ রকমই। সামান্য নরম ছোঁয়া পেলেই হল। মাথায় চড়ে বসবে। টাকাপয়সা চাইলে প্রথম ধাপেই কাটাতে হবে। এই সব সাত পাঁচ ভাবনার মধ্যেই ধৃতি বলে, বলো, কী বলবে বলছিলে!
-একটু জল খেতাম, দিদি। খুব তেষ্টা পেয়েছে।
অবিনাশ জল চাইছে। অবিনাশের ওই চোখ, ঐ শুকনো ঠোঁট, আবেদনের ভঙ্গী ধৃতির ভিতরে কোথাও যেন খুব বড়ো ভাঙন ধরিয়ে দেয়। একটু জল, সেটুকু চাইতেও এত কুণ্ঠা, এত সঙ্কোচ! কী যে লজ্জায় পড়ে যায় ধৃতি!
ও ঘরের মেঝের দিকে তাকালো। এ কি লজ্জা লুকোনোর কোন ছল, নাকি সময় চাইছে একটু ধাতস্থ হতে! বাইরে এত রৌদ্র! নিজেরই তো তেষ্টায় গলা শুকিয়ে গিয়েছিল। আর অবিনাশের তো তেষ্টা পেতেই পারে। ধৃতিরই তো উচিৎ ছিল, মানুষটাকে একগ্লাস জল এগিয়ে দেওয়া, না চাইতেই।
অদৃশ্য চাবুকের ঘা থেকে বাঁচতেই যেন ধৃতি ফ্রিজ খুলে দুটো মিষ্টি আর কয়েকটি ক্রিমবিস্কুট এগিয়ে দেয় অবিনাশের দিকে। অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে অবিনাশ।
-দিদি, শুধু জল দিলেই তো হতো।
বলতে বলতেই দুটো হাত বাড়িয়ে বড় যত্নে প্লেটটা ধরে অবিনাশ। যেন পুজোর প্রসাদ নিচ্ছে। গ্লাসে জল আর জলের একটা বোতলও অবিনাশের সামনে রাখে এবার ধৃতি।
ও একটু হালকা হতে চাইছে।
প্লেট থেকে একটা বিস্কুট তুলে আলগোছে মুখে রাখে অবিনাশ। ভাঙা গালে গোটা বিস্কূটটা যেন ঘুরপাক খেতে দেখে ধৃতি। একটু যেন ধীরেসুসুস্থে। গ্লাস নয়, সরাসরি বোতলটা গলায় ঢালতে থাকে। এক নিঃশ্বাসে প্রায় আধ বোতল জল শেষ করে বোতলটা নামিয়ে রাখে সামনে।
আহা! কতই না তেষ্টা পেয়েছিল মানুষটার!
গলা বেয়ে গড়িয়ে পড়া জল মোছে। খানিক চুপ থাকে। তারপর বলে ওঠে, যাই গো দিদি!
-কি হল! ওগুলো খাবে না! খেয়ে নাও।
মাথাটা নামিয়ে লজ্জা লজ্জা মুখ করে অবিনাশ ঘাম মোছার গামছার এক দিকের খুঁটে মিষ্টিদুটো বেঁধে নিল। বিস্কুটগুলো আরেকটা খুঁটে। বাঁধতে বাঁধতেই বললো-
-একটু পরে দোকানে চা খাবো। তখন বিস্কুটগুলো খাবো। আর মিষ্টিটুকু থাক। বৌকে দেব ঘরে ফিরে। ঘর থেকে বেচারী বাইরে তো কোথাও বেরোতে পারে না। আমি কিছু নিয়ে গেলে তবেই। মেয়েটা আসে মাঝেসাঝে। সময়সুযোগ মতো মাকে দেখে। আসছি দিদি!
বলে অবিনাশ সিঁড়ির প্রথম ধাপে পা রাখে।
কী মনে করে কে জানে, ধৃতি বলে ওঠে, এদিকে এলে আবার এসো, অবিনাশদা।
কেন যে ধৃতি ওকে আবার আসতে বললো, নিজেই জানে না।
দরজাটা লাগিয়ে ফিরে আসার সময় ও দেখলো, হাজার ছয়েক টাকার পুজোর জামাকাপড়ে ভর্তি ব্যাগটা অবিনাশ যেখানে বসিয়ে রেখেছিল, সেখানেই বসানো রয়েছে। এখন আর একটুও ইচ্ছে করছে না নতুন জামাকাপড়গুলো খুলে আবার দেখতে। এমন কি ব্যাগটা তুলে রাখতেও যেন ক্লান্তি। কতক্ষণ, কে জানে! সম্বিত ফিরলো ঘড়ির আওয়াজে। চমকে উঠলো। চোখ তুলে দেখতে পেল, অবিনাশ যেখানে বসেছিল, কয়েক ফোঁটা জল সেখান থেকে, যেন খুব ক্লান্ত, গড়িয়ে আসছে, ধীরে।
0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন