বড় পর্দায় হিন্দী ছবি (২১শ পর্বঃ) সেরার সেরা ছবি ব্ল্যাকমেল (২০১৮)
আমার বিচারে, সেই ১৯৬৪-র জাহানারা থেকে শুরু করে আজ অবধি যেসব হিন্দী ছবি দেখেছি, তাদের মধ্যে এটি সেরার সেরা! ছবি শুরু হয় একটি আধুনিক, কম্পিউটার-ভর্তি অফিসে। রাত হয়েছে, সবাই চলে গেছে। রাতের নিরাপত্তা রক্ষী আলো নেভাতে নেভাতে হঠাৎ দেখে একজন এখনো নিজের টার্মিনালের সামনে বসে ‘গেম’ খেলছেন। ভদ্রলোক খেলায় হেরে গিয়ে উঠে, নিকটবর্তী ডেস্কে রাখা সহকর্মীর স্ত্রীর ছবি ফ্রেম থেকে খুলে নিয়ে শৌচাগারে ঢোকেন। কমোডে বসে, ছবিটি দেখতে দেখতে তিনি হস্তমৈথুন করেন!
ইসসস! বিশেষ করে মহিলাবৃন্দের ছিছিক্কার মানসকর্ণে শুনতে পাচ্ছিঃ “What a creep!”
ভদ্রলোক – নাম দেব কৌশল (ইরফান খান) – কাজ করেন এক টয়লেট পেপার (এরপর থেকে ‘হাগজ’ লিখব) প্রস্তুতকারী সংস্থায়, আর চড়া দরে ধারে কেনা ফ্ল্যাটে স্ত্রী রীণাকে (কীর্তি কুলহারী) নিয়ে বাস করেন। বাড়ি ফিরে দেখেন স্ত্রী টেবিলে রাতের খাবার রেখে শুয়ে পড়েছেন। রান্নাঘর আর শোবার ঘরের মাঝে যে দেওয়াল, তার ফুটো দিয়ে নিদ্রারতা সুন্দরী স্ত্রীকে দেখেই দেব তৃপ্ত। খেয়ে, বৌয়ের পাশে শুয়ে পড়েন তিনি, স্ত্রীকে কোনরকম ভাবেই উত্যক্ত না করে!
বোঝা গেল? স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে কোনরকম শারীরিক সম্পর্ক করেন না – অতএব, অফিসে অন্য মহিলাদের দ্বিমাত্রিক প্রতিকৃতি দেখে হস্তমৈথুন করেই দেবকে তৃপ্ত থাকতে হয়!
পরের দিন সহকর্মী আনন্দ (প্রধুমন সিং মল) দেবকে পরামর্শ দেয় স্ত্রীকে ‘সারপ্রাইজ’ দিতে – অফিস ফেরত ফুল নিয়ে যেতে। সেদিন বুধবার, এলাকার সব ফুলের দোকান বন্ধ। অতএব স্থানীয় কবরস্থান থেকে এক গোছা গোলাপ জোগাড় করে দেব বাড়ি ফেরেন – কিন্তু অন্যান্য দিনের মতো স্ত্রীকে ফেরার কথা এস-এম-এস ক’রে না জানিয়ে। শোবার ঘরে ঢোকার আগে তিনি একবার দেওয়ালের ফুটোয় দুর্ভাগ্যক্রমে চোখ রাখেন। ফলে প্রাণাধিকা রীণাকে তিনি চাক্ষুষ করেন শয্যায় প্রেমিকের সঙ্গে! মানসিকভাবে বিধ্বস্ত দেব রাস্তায় বেরিয়ে যান।
নিজেকে সামলে নিয়ে দেব বাড়ির বাইরে ফিরে দেখেন প্রেমিক মহাশয় সঙ্গমশেষে বেরিয়ে আসছেন। তাকে অনুসরণ ক’রে তার ঠিকানা (তার বাড়ির নাম ‘সুখ নিবাস’!) এবং ব্যক্তিটির নাম জেনে, রাতে পরিতৃপ্ত এবং নিদ্রিত স্ত্রীর ফোন থেকে মহোদয়ের নম্বর বার ক’রে (ছি,ছি, স্বৈরিণী বৌয়ের ফোনে আড়ি পাতা! নারীর অধিকারে হস্তক্ষেপ!), নতুন ফোন কিনে প্রেমিক রঞ্জিত অরোরাকে (অরুণোদয় সিং) দেব বেনামে ‘মেসেজ’ করেনঃ ‘বিবাহিতা মহিলার সঙ্গে পরকীয়া?’
আর যেহেতু দেবের কর্মকর্তা ডি কে (ওমি বৈদ্য) দেবের মাইনে বাড়াতে অস্বীকার করেছে, দেব হিসেব করেনঃ ফ্ল্যাটের কেবল টিভির চাঁদা (পেয়ারের স্ত্রী তাই দেখেই পরকীয়া এবং রান্না করা ছাড়া সময় কাটান), ফ্ল্যাটের ই এম আই, গাড়ির ই এম আই, আর ক্রেডিট কার্ডের বিল মিলে প্রয়োজন আটানব্বই হাজার টাকার কিছু বেশী। অতএব রঞ্জিত তাঁকে দেবে এক লক্ষ টাকা, নইলে রঞ্জিতের স্ত্রী ডলি বর্মাকে (দিব্যা দত্ত) স্বামীর কীর্তির কথা জানানো হবে!
ব্ল্যাকমেল নং ১!
রঞ্জিত আর রীণার সঙ্গমোত্তর কথোপকথনের মাধ্যমে (অবশ্যই দেবের পয়সায় কেনা খাটে) আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি যে দেবের সঙ্গে বিয়ের সম্বন্ধ হবার আগে রঞ্জিতের সঙ্গেই রীণার ‘প্রেম’ ছিল। একদিন হঠাৎ “চার হপ্তার জন্যে একটা কাজে যাচ্ছি,” বলে রঞ্জিত চলে যায়, আর ছ’মাস পরে ফেরে বড়লোকের মেয়েকে বিয়ে ক’রে আর একটি মার্সিডিজ গাড়ি (বড়লোক শ্বশুরের টাকায় কেনা) চেপে! অর্থাৎ, যে লোক বিত্তশালী বৌয়ের লোভে প্রেমিকাকে ত্যাগ করেছিল সেই পুরুষের সঙ্গে স্বামীর টাকায় পরকীয়া চালাচ্ছেন মহিয়সী স্ত্রী!
রঞ্জিতের শ্বশুর-শাশুড়ী জামাইকে ভালোই চেনেন। রঞ্জিত যখন ‘আমদানি-রপ্তানি’ ব্যবসা করব বলে বৌ ডলির কাছ থেকে ব্ল্যাকমেলের টাকা জোগাড় করে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে আসে (দেব সেখান থেকে তা নিয়ে নেন), শ্বশুর তখন জামাইয়ের পুরুষাঙ্গ সজোরে চেপে ধরে নিদান দেন, “মেয়ের টাকা ফেরত দাও, নইলে প্রাণে মেরে দেব!” মরিয়া রঞ্জিত এবার অন্তর্জালে একটি বেনামী অ্যাকাউন্ট খুলে, তা থেকে রীণা কে বার্তা পাঠায়, “বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে পরকীয়া? ১,২০,০০০ দাও, নইলে স্বামীকে বলে দেব!”
ব্ল্যাকমেল নং ২!!
দিশেহারা রীণা রঞ্জিতের কাছে পরামর্শ চাইলে আদর্শ প্রেমিক রঞ্জিত বলে, “তুমি তো বিয়ের আগে চাকরি করতে। কিছু জমাও নি?” রীণা জানান, তাঁর পুঁজি মাত্র তিরিশ হাজার টাকা। অতএব সতীসাধ্বী স্ত্রী দেবকে জানান যে তাঁর অসুস্থ বাবার শারীরিক পরীক্ষার জন্য নব্বই হাজার লাগবে! দেব তৎক্ষণাৎ রঞ্জিতের কাছে ব্ল্যাকমেলের দ্বিতীয় কিস্তি দাবী করেন! ইতিমধ্যে দেব, নির্বোধের মতো মদ্যপান করতে করতে, সহকর্মী আনন্দকে তাঁর কীর্তির কথা বলে ফেলেন। কামুক আনন্দ আবার অফিসের নতুন মহিলা কর্মী প্রভা ঘাটপাণ্ডের (অনুজা সাথে) প্রতি আকৃষ্ট। তাকে বারে মদ্যপান করাতে গিয়ে দেবের মতো নিজেই মাতাল হয়ে আনন্দ মহিলাকে দেবের কীর্তিকলাপ জানিয়ে দেয়। পরদিন অফিসে দেবের টেবিলে আসে একটি সাদা খাম। তার মধ্যে সাদা কাগজে লেখাঃ Blackmail? প্রভা দেবের কাছে দাবী করে তিরিশ হাজার!
ব্ল্যাকমেল নং ৩!!!
আবার দেবের কাছ থেকে রঞ্জিতকে বার্তা, রঞ্জিত থেকে রীণাকে! রীণা এবার রঞ্জিতকে বলেন কোন প্রাইভেট ডিটেকটিভ ভাড়া করে ব্ল্যাকমেলার কে তা বার করতে। রঞ্জিত ‘চাওলা’ নামে গোয়েন্দাকে (এক এবং একমাত্র গজরাজ রাও!) বরাত দেয় এবং চাওলার আপাত-দৃষ্টিহীন স্ত্রীর (বিভা চিব্বর) কাছ থেকে ব্ল্যাকমেলারকে মারবার জন্য একটি সস্তার পিস্তল কেনে, যার সঙ্গে ছ’টি গুলি মেলে ‘ফ্রী’-তে।
প্রভা এবার দেবের কাছে টাকার দ্বিতীয় কিস্তি দাবি করে চিঠি দেয়। আনন্দের কাছ থেকে প্রভার ঠিকানা জোগাড় ক’রে (এবং আনন্দকে প্রভার কীর্তি জানিয়ে) দেব তার বাড়ি যান। সেখানে বাদানুবাদের মধ্যে গতরাত্রে পার্টি করার এক মদের বোতলে পা হড়কে প্রভা নিজের শেলফ্বের গায়ে ধাক্কা খায়, প্রকাণ্ড শেলফ তার ওপর ভেঙে পড়ে, প্রভা পটল তোলে! ভবিতব্য অবশেষে এই প্রতারিত, নিপীড়িত মানুষটার পক্ষ নেয়! সেই মুহূর্তে সেখানে হাজির হন প্রভার বাবা-মা। মহিলাদের অন্তর্বাসের নামী দোকানের ঝোলাকে মুখোশ বানিয়ে দেব সেখান থেকে চম্পট দেন।
পুলিশ হাজির হয় দেব-আনন্দ-প্রভার অফিসে, প্রভার খুন – ছদ্মবেশী দেবকে তো পালাতে তার বাবা-মা এবং স্থানীয় লোকজন দেখে ফেলেছিল – নিয়ে তদন্ত করতে। কামুক আনন্দ (“তুই প্রভাকে মারলি কেন, আমার ওর সঙ্গে একটা ‘চান্স’ ছিল!”) পুলিশকে বলে দেব-ই খুনী। দেব প্রত্যুত্তরে আনন্দের গাড়ির ‘ডিকি’-তে সেই অন্তর্বাসের দোকানের ঝোলা রেখে দেন। আনন্দ গ্রেপ্তার হয়।
ইতিমধ্যে চাওলা দেবের দ্বিতীয় ফোনের নম্বর ধরে দেবকে সরাসরি ফোন করে টাকার দাবী করে!
ব্ল্যাকমেল নং ৪!!!!
ডলি আবার লম্পট স্বামীর পিছু নিয়ে সিনেমা হলে রঞ্জিত আর রীণাকে আলাপরত দেখে। হলে চলছিল অষ্টম পর্বে উল্লেখিত অতি-প্রাকৃত বিষয় নিয়ে ছবি ক্রিচার থ্রী-ডি। স্বামীকে কচুকাটা করার উদ্দেশ্য নিয়ে ডলি যখন অকুস্থল ত্যাগ করে, নেপথ্যে উক্ত ছবির ব্রহ্মরাক্ষসের গর্জন শোনা যায়!
বাড়ি থেকে সমস্ত কাজের লোককে ছুটি দিয়ে, আলো নিবিয়ে ডলি মাংস-কাটা ছুরি নিয়ে রঞ্জিতের প্রতীক্ষায় বসে! বীরপুঙ্গব বাড়ি ফিরতেই অতর্কিতে তার ওপর পেছন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ডলি স্বামীর গুহ্যদেশে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়। আতঙ্কিত এবং আহত রঞ্জিত ধস্তাধস্তির মধ্যে কেনা ছ’টা গুলির তিনটেই স্ত্রীর ওপর খরচা ক’রে ডলির মৃতদেহ ফ্রিজ খালি ক’রে তার মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়। সেই সময়েই তার কাছে দেবের ‘মেসেজ’ আসে, পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবী ক’রে (চাওলার জন্য) । রঞ্জিতের বেনামী মেসেজ যায় রীণার কাছে, ষাটহাজার দাবী করে!
বাবার অস্ত্রোপচারের দোহাই দিয়ে রীণা দেবের কাছে টাকা চাইলে এবার হয়রান দেব ক্ষেপে গিয়ে বলেন, “আমি কি লটারি জিতেছি নাকি?” এবং দেব সরাসরি শাশুড়ীকে ফোন করে জানতে পারেন যে তার শ্বশুরের না হবে কোন অস্ত্রোপচার, না কয়েকদিন আগে হয়েছে কোন শারীরিক পরীক্ষা। দেব বাড়ি ফিরে দেখেন স্ত্রী নিজের গয়না বেচে শপিং মলের ডাস্টবিনে টাকা ফেলছেন। সেখানে রঞ্জিতও হাজির। দেব রঞ্জিতের বিন থেকে টাকা তোলার ছবি ফোনে তুলে রাখেন। রঞ্জিত দশ হাজার টাকা নিয়ে বাকি পঞ্চাশ হাজার আবার বিনেই ঢুকিয়ে দেয়; উদ্দেশ্য ব্ল্যাকমেলার ব্যাগ নিতে এলে তাকে হাতেনাতে ধরা।
দেব এক মল কর্মীকে টাকা দিয়ে বিন থেকে টাকার ব্যাগ তোলার ভান করতে বলেন। ক্ষিপ্ত রঞ্জিত সেই কর্মীকে ধাওয়া করলে দেব সেই ফাঁকে বিন থেকে টাকা তুলে চাওলাকে দেন। এবং চাওলাকে দেব অনুরোধ করেন রঞ্জিতকে ফোন করে বলতে যে ব্ল্যাকমেলার হলো আনন্দ (যে পুলিশের কাছে বলেছিল যে দেব-ই প্রভার খুনী; আনন্দ আপাতত পুলিশের কাছ থেকে ছাড়া পেয়েছে) । রঞ্জিত আনন্দের ফ্ল্যাটে গিয়ে পিস্তলের বাকি তিনটি গুলি আনন্দের ওপরই খরচ করে।
দেবের ‘বস’ ডি কে ইতিমধ্যে পুরসভাকে ঘুষ খাইয়ে সেদিন রাত দশটা থেকে বারো ঘণ্টার জন্য শহরের জল সরবরাহ বন্ধ করার ব্যবস্থা করেছে, যাতে জনগণ পরদিন সকালে শৌচক্রিয়ার জন্য তার ‘হাগজ’ কিনতে বাধ্য হয়। এর ফলঃ আনন্দের রক্ত নিজের সারা গায়ে আর কাপড়ে লেগে থাকা সত্ত্বেও রঞ্জিত কল খুলে তা ধোবার জল পায় না। ডলির বাবা-মা মেয়েকে বারবার ফোন করে না পেয়ে তার ফ্ল্যাটে এসে রক্তাক্ত জামাইকে দেখে পত্রপাঠ পুলিশ ডাকেন। তাঁরা নিশ্চিত যে জামাই মেয়েকে খুন করেছে – তা তো সে করেছেই! ডলির দেহ আছে বাড়ির ফ্রিজের মধ্যে! কিন্তু সে ধরা পড়ল আনন্দের খুনের রক্ত গায়ে লেগে থাকার জন্য!
দেব রীণার ফোনে রঞ্জিতের বিন থেকে টাকা তোলার ছবি পাঠিয়ে দেন। অশ্রুসজল নেত্রে রীণা ফোন থেকে রঞ্জিতের ‘কন্ট্যাক্ট’ ‘পারমানেন্টলি ডিলিট’ করে দেন। এরপর লাল রঙের পোশাক পরে ষোড়শোপচারে রান্না করে, টেবিলে সাজিয়ে তিনি দেবকে মেসেজ করেন, “বাড়ি ফিরছো কখন?”
দেব কিছুক্ষণ চিন্তা করে নিজের ফোন থেকে রীণাকেও ‘পারমানেন্টলি ডিলিট’ করে দেন!
মনে পড়ে অষ্টম পর্বে আলোচিত, নানাবতী-কাণ্ড-আধারিত রুস্তম (২০১৬) ছবির শেষে স্বৈরিণী স্ত্রী সম্বন্ধে স্বামীর অসহ্য ন্যাকামিঃ স্ত্রীর নাকি কোন দোষ ছিল না!
আবার বলবঃ সেরার সেরা ছবি। নিরীহ, নির্বিরোধ, স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ীর প্রতি কর্তব্যপরায়ণ, স্ত্রীর ওপর কোনরকম দাবি না করা একটি লোক তার সবচেয়ে কাছের মানুষ কর্তৃক অত্যন্ত ঘৃণ্যভাবে প্রতারিত হন। স্বৈরিণী স্ত্রী নিজেরই অর্থলোলুপ, বিশ্বাসঘাতক প্রেমিকের সঙ্গে স্বামীর টাকায় দিন কাটানোর মধ্যে ফুর্তি শুরু করেন। নিরীহ মানুষ যখন রুখে দাঁড়ায় তার ফল কী হয়, এবং একটা সময়ের পর যে ভাগ্যও তার সঙ্গে সহযোগিতা করে, তাইই দেখিয়েছেন পরিচালক অভিনয় দেও। আর বিশ্বাসভঙ্গ শুধু স্ত্রীই করেন না, কাজের জায়গার ইয়ার আনন্দও প্রথমে নেশার ফলে, আর তারপর হিংসাজনিত কারণে – কেন দেবের জন্য আনন্দ প্রভাকে পেলো না – দেবকে বিপদে ফেলে। এবার হত্যাগুলো কিন্তু সব করে সবচেয়ে নীচ, লোভী, লম্পট চরিত্র – রঞ্জিত। এবং তার জন্য একেবারে সঙ্গতভাবে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা হয়। সঠিক নীতিবোধের জয়!
উপরি পাওনাঃ শহরে জল সরবরাহ বন্ধ করার ফলে ডি কে-র হাগজের বিক্রী বাড়ে না! প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থা ‘জেট মিনেরাল ওয়াটার’ সকাল থেকেই নিজেদের বিক্রী চালু করে, আর ভারতীয় শৌচক্রিয়ার রীতি মেনে, হাগজ ছেড়ে লোকে জলই কেনে! প্রাচ্য শৌচরীতির জয়, পাশ্চাত্য হাগজের বিরুদ্ধে!
মনুষ্যস্বভাবের নেতিবাচক দিকগুলিই ছবিতে প্রাধান্য পেয়েছেঃ শঠতা, মদ্যপ হয়ে সংযম হারানো, কামের বশবর্তী হয়ে বন্ধুকে হত্যাকারী প্রতিপন্ন করার চেষ্টা, ব্যবসায় একাধিপত্ত আনার উদ্দেশ্যকে পরিবেশ রক্ষার মোড়ক দেওয়া (হাগজ ব্যবহার করতে লোককে বাধ্য করলে পানীয় জল সংরক্ষিত হবে!), বেসরকারী গোয়েন্দাগিরির সঙ্গে সঙ্গে ব্ল্যাকমেলের ব্যবসা, স্ত্রীর মাধ্যমে বেআইনি অস্ত্রের কারবার চালানো – তালিকা দীর্ঘ। কিন্তু শেষ অবধি জয়ী সেই নিরপরাধ ব্যক্তি যাঁর প্রতি অবিচার করেছে তার স্ত্রী, তার বন্ধু, তার কর্মকর্তা (মাইনে না বাড়িয়ে, মুনাফা কমে যাবে এই ভয়ে)। বিদেশী ভাষায় এক সার্থক ‘noir comedy’।
অভিনয় দেওর দিল্লী বেলি ১৬শ পর্বে ‘উদর-সমস্যা নিয়ে ছবি’-র প্রসঙ্গে আলোচনা করেছিলাম। সেটিতেও noir-এর উপাদান ছিল বটে কিন্তু তার পাশাপাশি তিন মুখ্য পুরুষ চরিত্রের মধ্যে বন্ধুত্বজনিত আনুগত্য প্রায় অপ্রত্যাশিতভাবে শীর্ষবিন্দুতে ফুটে উঠেছিলো। ব্ল্যাকমেল মনুষ্যজাতি সম্বন্ধে সমষ্টিগতভাবে এ জাতীয় কোন আশাবাদ থেকে মুক্ত। সহানুভুতির যোগ্য একমাত্র একটি ব্যক্তি – দেব। আর কারোর কথা বাদ দিলাম, তাঁর অফিসের ‘ইয়ার’ আনন্দ যে কী ‘চীজ’ তা আশা করব ওপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে!

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন