কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / ষষ্ঠ সংখ্যা / ১৪৫

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / ষষ্ঠ সংখ্যা / ১৪৫

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬

যুগান্তর মিত্র

 

কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৫০

 

 

হারিয়ে যাওয়া

রাত যখন গুঁড়ি মেরে ঢুকে পড়ছে মধ্যরাতের গভীরে, তখন বারান্দায় দাঁড়িয়ে বর্ষা দেখার বিলাসিতা পেয়ে বসে ইদানিং। আজও এক শ্রাবণ রাত। অদূরে একা একা ভিজে চলেছে লাইটপোস্ট। তার ঘোলাটে আলোয় ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি আলোর কণা হয়ে নেমে আসছে ভিজে মাটিতে। এক লাইটপোস্ট থেকে অপর লাইটপোস্টের মধ্যবর্তী অন্ধকারে অশরীরী ছায়ারা হেঁটে বেড়ায়। ওই ছায়াদের আমি চিনি। কেউ আমার অমল শৈশব হয়ে চলে যায় হেসে। কেউ-বা আলো-মোছা যৌবন হয়ে ম্লান মুখে হেঁটে চলে। প্রৌঢ় আমার অবয়বের ছায়াটা অন্ধকারের নদীতে একা একা নৌকা বেয়ে চলে। তাকে বড় ভয় করে আজকাল! প্রাণপণে তার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে রাখতে চেষ্টা করি। অথচ সে নাছোড়বান্দা হয়ে বারবার নৌকা নিয়ে চলে আসে আমার কাছাকাছি।

ছাতাহীন পথে নামি। প্রৌঢ় ছায়াকে পাশ কাটিয়ে চলে যাই খানিকটা দূরের রাস্তায়। সেখানে আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গেছে এক লোহার ব্রিজ। দেখতে পাই ব্রিজের সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসছে তরল জলধারা। সেই জলে মিশে যাচ্ছে রাস্তার আলো।

ও কৃষ্ণকালো মেঘ! তুমি কি দ্রুত চলে যেতে পারো না কোনও যক্ষিণীর দুয়ারে? আমার মাথার ওপরের আকাশটা মেঘশূন্য হয়ে পড়ুক। কালো আকাশের শামিয়ানায় একে একে ফুটে উঠুক লক্ষ-কোটি নক্ষত্ররাজি। দুহাতের অঞ্জলিতে নক্ষত্রের আলো ধরে রাখতে চাই। আমি জানি, এই হাহাকার-ভরা অন্ধকার ছায়াজীবন থেকে মুক্তি দিতে পারে একমাত্র নাক্ষত্রিক আলো!

এই সামান্য চাওয়াটুকু পেতে পারি না এ জীবনে! বলে যাও মেঘ! বলে যাও লাইট পোস্টের ভেজা আলো!

প্রশ্নগুলো হাওয়ায় পাক খেতে থাকে। তার মধ্যেই দেখতে পাই আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এক নারী। অস্পষ্ট অবয়ব হলেও চিনতে পারি, সে আমার কিশোরী প্রেমিকা, যাকে আমি পাইনি এ জীবনে। হাসিমুখে দুজনে হাত ধরাধরি করে, লাইট পোস্টের মৃদু আলোর পথ চিরে হেঁটে যেতে থাকি দূরে, বহুদূরে, যেখান থেকে আর ফিরে আসা যায় না কখনও!

0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন