![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৬০ |
ঈর্ষাবন
এসব কথাকে আমি ঘেঁটেছি দু'হাতে,
তারপর বুঝে গেছি বিষ। অহর্নিশ
জ্বালাবে তোমাকে। যন্ত্রণার ফাঁকে ফাঁকে
লবণের কণা দেবে ঢেলে। দরকারে
নিয়ে যাবে খাদের কিনার। ঠেলে দেবে
আরও আরও দুরূহ দহনে। অভিমানে
ভেঙে যাবে ভাসা মেঘ। হলুদ আবেগ
থেকে জন্ম নেবে দিকে দিকে ছানিপড়া
চোখ, নষ্টলোক আর ভুঁইফোঁড় ভাগ্যলিপি।
পাতার আড়াল ডেকে বলেছি গোপনে
জটিল মনের ঈর্ষাবনে রেখো না আমাকে।
পারম্পর্য নেড়ে দেখি শূন্য শূন্য আর
পথের পাথেয় নির্বিচারে শেষ করে
ডেকে আনে অনুতাপ, বিষাদবালক।
নীল ছবির তুলি
তোমাকে আবার আমি ডেকে নেব ফ্যানসি ভিলায়,
কসমস ফুলগুলি উঁকি দেবে ভোরের বেলায়।
বাংলো হাতার কাছে কচি ঘাস খেয়ে যাবে হরিণের দল,
পাতার আড়াল থেকে শিস দেবে জমে থাকা বিন্দু বিন্দু জল।
নুনের পাহাড় তুমি দেখেছ কি? রামগুয়া গাছ?
ঘাসবন শয্যা দেবে, নেচে যাবে নদীয়ালি মাছ।
মুনিয়া পাখির ডাকে দূরে যাবে একরাশ চোখের আকাশ,
হঠাৎ ঝিলিক দেবে রাভাদের বনবস্তি, বাঘরঙা বাঁশ।
তোমাকে আবার আমি ঝোরা ও নদীর চোখে রেখে যেতে চাই,
সবুজের কোল ঘেঁষে সহস্র পদ্মের মতো বাড়ো বনসাই।
পানিসাজ গাছে বাঁধা জঙ্গলের টংঘর আশ্চর্য মায়াবী,
তোমার শাড়ির ফাঁকে হয়তো-বা উঁকি দেবে সামুদ্রিক নাভি।
গাছঘরে থাকবে কি! রাত নিয়ে মুখোমুখি নারী ও প্রকৃতি,
আমার রঙের তুলি এঁকে যাবে নীল ছবি, টানবে না যতি।
কক্ষনও
অনেক কথার ধুলোবালি ওড়ে ঘরে, অনেক কথারা প্রতিদিন বাঁচে মরে টানাপোড়েনের জোড়াতালি সংসারে।
অনেক কথারা আগুনের সহোদর, অনেক কথায় ভেঙে যায় প্রিয়ঘর ধূসর সময়ে বিষাদের রেখা টেনে।
অনেক কথার লিপিকার জানা নেই, অনেক কথার ঢেউ ওঠে সাগরেই পিরামিড যেন, চৌকোণা বা গোলাকার।
অনেক কথার ফানুসেরা কাছাকাছি, অনেক কথার বেপরোয়া মশামাছি ঠেলে দেয় খাদে, তবুও তো বেঁচে আছি।
এই থাকা ঠিক না-থাকার মতো যেন, সাদা আলো এসে জাগাবে না কক্ষনও!

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন