কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / ষষ্ঠ সংখ্যা / ১৪৫

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / ষষ্ঠ সংখ্যা / ১৪৫

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬

দেবনাথ সুকান্ত

 

 

কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৫০

 

দু-ফোঁটা জল

- তোর কোনো অনুতাপ নেই? নাকি কাকে অনুতাপ বলে তাও ভুলে গেছিস এতদিনে? আমি সাথে করে সেই  যে নিয়ে গেছিলাম, তারপর তো আর কোনোদিন যাসনি। এখানে সারাদিন একভাবে কয়েকটা গাছের গোড়ায় জল দিয়ে নিজেকে কি ভুলিয়ে রাখতে চাস?

- কীই বা হবে? যখন একটা অপরাধবোধ নিয়েই বেঁচে থাকতে হবে?

- ওদের ঘরের ছেলে মারা গেছে। ওরা শোকস্তব্ধ।

- সে সব জানা আছে। কিন্তু এখন জীবন আর সেরকম নেই। কারোর প্রতি কিছু করার ইচ্ছে আর নেই।

- আমি কিন্তু তোকে এভাবে মরে যেতে দেব না!

- আমি মরে যাচ্ছি কে বলল?

- কারোর বলার দরকার নেই। সব দেখা যাচ্ছে।

- দেখ! কে দেখতে বারণ করেছে? আমিও দেখছি। যখনই আকাশের দিকে তাকাই, ওর মুখ ভেসে ওঠে।

- তোরা কি একবারও ওদের পায়ে হাত দিতে গিয়েছিলিস?

- হ্যাঁ, একবার কেন, বার চারেক গিয়েছিলাম। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে চলে এসেছি। দরজা খোলেনি। এখন আর কেঁদে কী হবে?

- তুইও তো কাঁদছিস।

- আমি দুঃখ পেতে ভালোবাসি।

সে এখানেই কথা থামিয়ে শুয়ে পড়ল বিছানায়। যদিও এখন সকাল এগারোটা বাজে। কিছুক্ষণ আগেই সে ঘুম থেকে উঠে এসেছে। কিছুক্ষণ বাইরের দিকে তাকিয়ে থেকেছে। বোন কাছে এসে কিছু একটা খেতে দিয়েছে। বাইরের দিকে তাকিয়ে তাকিয়েই সে খেয়ে নিয়েছে। আকাশের কথা যে সবসময় ভাবে তা নয়। কী যে ভাবে সে নিজেও জানে না। সব জানা বা না জানা তার কাছে অর্থহীন হয়ে গিয়েছে। বোন ফের ঘুরে এসে বলেছে, কী রে বেলা যে অনেক হল, কতক্ষণ এভাবে শুয়ে থাকবি?

-শুয়ে থাকতে ভালো লাগে, তাই শুয়ে থাকি। তুই তো বলেছিলি, যা করতে ভালো লাগে তাই কর!

- তাই বলে শুয়ে থাকা?

- খারাপ কী বল! অন্তত কারোর মন্দ চাওয়ার থেকে তো ভালো!

- আকাশ থাকলে এমনই কি শুয়ে থাকতিস?

- না তা কী করে থাকতাম। ও কথা বলে বলে মাথা খারাপ করে দিত। এত কথা যে বলতে পারত, বাপরে!  কথা যেন থামতেই চাইত না। সব কত সুন্দর ছিল। আমি আকাশকে খেয়েনিলাম।

- আরে ধুর কী সব বলিস! ওদের কথার কোনো দাম আছে নাকি? ওরা যা পারে বলুক গে। যখন বুকে টেনে নেওয়ার সময় ছিল তখন দরজা খোলেনি। এখন দোষ দিলে চলবে?

- দোষ কারোর থাক বা না থাক, দোষী একমাত্র আমি। ওর মা অসুস্থ ছিল। বৃষ্টি পড়ছিল। আমিই বলে ছিলাম যেভাবেই হোক দেখতে যাও। রাস্তায় অ্যাকসিডেন্ট হয়ে যাবে, কী করে জানব? তাও আমি তো বলে ছিলাম যেতে। বল?

দু-ফোঁটা জল নেমে এল চোখ দিয়ে, সে জানালার দিকে ফিরে তাকাল। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঘুরে দেখল, বোনের চোখেও তেমনই জল রয়েছে।

 

 

0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন