![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৬০ |
শেষ ভ্রমর
(৭)
ভ্রমর : প্রতিযোগিতা থামাতে প্রতিযোগীকেই হরণ করেছিল অ্যামপুট করা পা নিয়ে দৌড়তে চাওয়া লোকটি!
হা-ক্লান্ত মানুষ : আধ্যাত্মিক আকাঙ্ক্ষায় কি অদ্ভুত মিশিয়ে দিয়েছে শ্লাঘা আর ক্ষমতার রস। সে এখন বাইরের উপাদানে নির্ভরশীল।
ভ্রমর : অসংখ্য বিকল্পে বিভ্রান্ত, উদ্বিগ্ন, অসন্তুষ্ট। নির্বিচারে খেয়েছি মুঠো মুঠো হজমের গুলি। জাহাজের ইঁদুর তবুও ভরসা রেখেছে, তবে বেশিদিন নয়।
হা-ক্লান্ত মানুষ : বুড়ো মানুষের লম্বা হয়ে যাওয়া দিনের মতো ইতিহাস দিয়ে তৈরি আমাদের দুর্গ কি তবে আলোকিত ভুলভুলাইয়া?
ভ্রমর : ইতিহাস একেই নাম দেয় মানসপাখিদের ঠোঁটে ঠোঁটে খেলা।
(৮)
ভ্রমর : ব্লাইন্ড লেনের ভিতর থেকে একে একে বেরিয়ে আসে ভাঙা তানপুরা, পুরনো ড্রেসিং টেবিল।
মানসপাখি : পাঁচালির পাতা ওল্টানো আঙুল জাঁতি থেকে ছিটকে বেরিয়ে যাওয়া সুপুরির মতো ঘুরেছে ফিরেছে বিফল আয়নায়, আয়নার ভিতরে ফুটে ওঠা মুখে, কণ্ঠে, উরুতে, স্তনে।
ভ্রমর : প্রকৃতি আর দীক্ষাগুরু দেখা দিয়েছিল নিঃসঙ্গ ছাদে।
মানসপাখি : যৌনগন্ধী শব্দকে ঘষে ঘষে ভোঁতা করে ভোঁতা দৃশ্যকে পেন্সিল ছোলার মতো ছুলে ছুলে ধারালো করা। বিছুটি মাখানো ভালোবাসার তীরে বিদ্ধ করে চেখে দেখার স্বপ্ন।
ভ্রমর : কথা জমতে জমতে পাহাড় হয়ে গেলে হাল্কা হওয়ার জন্য তোমার দরকার মিতবাক বন্ধু কিংবা সাদা দেয়াল।
(৯)
ভ্রমর : বেকার দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে বিশাল শোকেসগুলোর পা কি বেঁকে যাচ্ছে?
সাদা দেয়াল : শুনে রাখো, অভ্যন্তরের মমি সর্বদাই নিশ্চুপ।
ভ্রমর : তার এই 'ডোন্ট কেয়ার' ভঙ্গিটি সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরেছে কেউ। শুয়ে আছে তিন বাই ছয় সিঙ্গল খাটে। যেটা মাঝে মাঝে মচমচ শব্দে বিরক্তি জানায়।
সাদা দেয়াল : ভালোবাসার ঘরে বীরপুরুষ বীরাঙ্গনা বেমানান। অথচ ওরা উধাও হতেই তো ভেঙে গেছে ঘর।
ভ্রমর : সময় হলে উঁকি দিয়ে দেখো মাথার জট ছাড়াতে গিয়ে একজন গলদঘর্ম লোক কীভাবে ছুটে ছুটে বেড়ায়। কিছু বলব না বলব না করেও সে মিশিয়ে ফেলে প্রলাপের ভিতর পান সুপুরি জর্দার সুবাস। গা-জ্বলানো মশকরা অর্থবহ হয়ে লেখায় আনে সহাস্য পদচারণার আরাম।
সাদা দেয়াল : এসো, প্রলাপ থেকে সম্বিতে ফিরে তৎক্ষণাৎ চলে যাই উড়ানে, অনন্তে। এভাবেই এসো বেঁচে থাকি।

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন