কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / ষষ্ঠ সংখ্যা / ১৪৫

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / ষষ্ঠ সংখ্যা / ১৪৫

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬

সুকান্ত পাল

 

কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৫০

 

যন্ত্রণার জাল

একই সঙ্গে সুমনা যে দু'জন ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে তা তার বাবা মা দুজনেই জানেনিয়মিত গ্যাপিং দিয়ে দুজনের সঙ্গেই সে ডেটিং করেবাবা আজকাল এতো গম্ভীর হয়ে গেছে যে কথা বলতেই ভয় করেহয়তো বাবাই তার সঙ্গে কথা বলাটা পছন্দ করে না আরকিন্তু তার দোষটা যে কোথায় তা সুমনা বুঝে উঠতে পারে নাআসলে সে নিজেই তো এখনো বুঝে উঠতে পারেনি ভালোবাসা কাকে বলে!
কী ভয়ঙ্করযে এই শব্দটা! উফ্ মানুষ কী করে যে ভালোবাসাকে এতো এতো মহীয়ান করে ব্যাখ্যা করে তা সুমনা বুঝে উঠতেই পারে না
সুমনা খুব ভালো করে ভেবে দেখেছে এই ভালোবাসাটা পৃথিবীর এবং জীবনের সব যন্ত্রণার কারণই শুধু  নয়, সবকিছু নষ্ট করে দেয়এক অদৃশ্য ঘূণপোকাভিতরে ভিতরে কুরে কুরে খায় 
গত সপ্তাহে কলেজে তাদের ডিপার্টমেন্টেই একজন ঝকঝকে তরুণ অধ্যাপক জয়েন করেছেদুদিন তার ক্লাস করার পরই সে তার অন্য দুই বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে তুলনা করে বিচার করার চেষ্টা করে যাচ্ছে, এখন‌‌‌ এই তিনজনের মধ্যে তার কাছে কে বেশি এগিয়ে?
সুমনা হঠাৎ করেই এমন ভাবনার সমুদ্রে খাবি খাচ্ছে নাযথেষ্ট কারণ আছেসুমনা লক্ষ্য করেছে নতুন অধ্যাপক যখন ক্লাসে লেকচার দেয় ক্লাসের পুরো সময়ের মধ্যে অন্তত আশি ভাগ সময়ই তার দিকে  তাকিয়ে পড়ায়ফলত চোখের উপর থেকে চোখ সরিয়ে নিতে তো পারেই না, উল্টে সে অধ্যাপকের লেকচারের বিষয় থেকে সরে গিয়ে এক অদ্ভুত অজানা, অচেনা জগতে ভাসতে ভাসতে কোথায় যে হারিয়ে যায় তার হদিস সে করতে পারে না
--
সুমনা তুই কিন্তু ভুল পথে হাঁটছিস!  
সুমনার মা হঠাৎই রাতে খাবার পর তার ঘরে এসে কথাগুলো বলল
--
ঠিক বুঝলাম না, তুমি কী বলতে চাইছ?  
---
জীবনটা কিন্তু খুব সহজ নামানুষ তো একজনকেই ভালোবাসে!
--
ভালোবাসা কী, তাই তো বুঝে উঠতে পারলাম না
--
বেলেল্লাপনা করলে ভালোবাসা বুঝবি কী করে?  
--
আমি শুধু সুখী হতে চাইসুখ, আর সুখ, চরম সুখ
--
তোকে তো কেউ বারণ করেনিতার জন্য সঠিক ছেলেকে বেছে নে
--
ধ্যুস্ কী যে বলো না মা! শরীরে এবং মনে যুগপৎ সুখী হতে চাই 
--
তাহলে দুজনের মধ্যে একজনকে বেছে নেঅসুবিধা কোথায়?
মায়ের এই কথায় সুমনা কিছুক্ষণ থম মেরে থাকেতারপর বলে,
---
তুমি সুখী? সবদিক দিয়ে, মানে শরীরের চাহিদা আর মনের চাহিদা সবদিক থেকে সুখী?
বেমক্কা নিজের মেয়ের মুখে এই প্রশ্ন শুনে সুমনার মা আরাধনার মুখে এক গভীর কালো ছায়া নেমে আসেমায়ের এই অবস্থা দেখে সুমনা হেসে গড়িয়ে পড়ে
সে হাসতে হাসতে বলে,
--
যার কাছ থেকে শরীরের আনন্দ পাচ্ছি তার হৃদয় পাচ্ছি না, আবার যার হৃদয় পেয়েছি সে শরীরের উৎসবটাই বোঝে না...

0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন