![]() |
| কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৫০ |
সময়
একসাথে অনেকটা জমি। একটা ছোটখাটো মাঠের মতো। তবে সেই মাঠ আগাছায় ভর্তি। শেষ বিকেলের নিভে আসা আলোতেও দেখা যাচ্ছিল একসময় নিকানো থাকলেও এখন ফুটিফাটা। মাঝে মাঝেই গর্ত। সুভদ্রা আঙুল তুলে বলল - এই পুরো জায়গাটা ছিল আমাদের খামার। ফসল কাটার পর এখানেই ঝাড়াই বাছাই করা হতো। ওই দিকে ছিল পরপর কয়েকটা ধানের গোলা। তার পেছনে খড়ের পালা।
সাগ্নিক ক্যামেরা তাক করছিল। আলো কম। তাই সাটার স্পিড কমিয়ে দিতে হলো কিছুটা। এর আগে সুভদ্রা দেখিয়ে এনেছে চাষের জমি। সে এক বিশাল এলাকা। সেই এলাকার মধ্যে তিনটে পুকুর। বেশ কিছু মানুষ পাকাবাড়িও তুলেছে। সেখান থেকে ভেসে আসছে টিভির সিরিয়াল বা হিন্দি গানের সুর।
- আমি ঠিক জানি না। আমার দাদুর বাবা এদের মধ্যে বেশ কিছু লোকজনকে জায়গা দিয়ে বসতি তৈরি করে দিয়েছিল। এরা তাদের-ই বংশধর। কেউ কেউ জমি বিক্রি করে দিতেও পারে অবশ্য। জমিদারি উঠে যাওয়ার সময় এদের নামে নামে সব পরচা তৈরি করা হয়েছিল।
পায়ের পাতায় চুমু খেয়ে একটা ধেড়ে ইঁদুর ঢুকে গেল একটা গর্তে। বাড়ির ছাদে পায়চারি করতে করতে রাঙা দিদিমা ওদেরকে বলল - ওখানে থাকিস না, কিছু বেরোতে পারে।
- কী বেরিয়ে আসতে পারে, সুভদ্রা? ক্যামেরা আনলক করতে করতে জানতে চাইল সাগ্নিক।
- এখানেই থাকে সেটা। বিরাট সাইজের। সে কিন্তু ঠিক আছে। কোনো ক্ষতি করে না। গতবছরেও দেখেছি। কোনো পরিবর্তন নেই। এঁকেবেঁকে চলে। সন্ধ্যাবেলায় তার নাম আর নিলাম না।
- সেটাই তো স্বাভাবিক। একটা জমিদার বাড়িতে এইটুকু জেল্লা থাকবে না? অন্য কিছু নামে ডাকো না।
- আর ওপাশে? ইস্ কেমন যেন নোংরা।
- ওপাশে একটা বড় গর্ত খুঁড়ে রাখা হয়েছে। যত আবর্জনা, সব ওখানে ফেলা হয়। সব কিছু পচে গিয়ে সার হবে। আমরা বলি সারগাদা।
- আজকে যেগুলো ছিল টাটকা, নধর -
- বুঝতে পারছি কী বলতে চাও। তবে জেনো, এটাই জীবনের সার-সত্য।
- এইরকম আরও কতো সত্য লুকিয়ে আছে এই জমিদার বাড়িতে?
- অনেক, অগনন। আমাদের এই ছোট্ট জীবনেই ভাবো না, কতো কিছুই দেখলাম!

গল্পটি পড়ে খুব ভালো লাগলো।
উত্তরমুছুনএর নাম গল্প। না বলা কথা রহস্য সৃষ্টি করে। অনবদ্য
উত্তরমুছুনবেশ লাগলো। একটা নির্বাক চলচ্চিত্র যেন অথবা স্বল্পবাক ডকুমেন্টারি
উত্তরমুছুন