কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / ষষ্ঠ সংখ্যা / ১৪৫

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / ষষ্ঠ সংখ্যা / ১৪৫

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬

গোলাম কিবরিয়া পিনু

 

কবিতার কালিমাটি ১৬০

 

পাতিল

 

পাতিল বাতিল করার সময় হয়েছে এখন

তারপরও বাতিল করছো না কেন?

 

এ পাতিলে তরকারি পুড়ে যায়

                     সিদ্ধ হয় না আলু-

জ্বাল দেওয়া যায় না দুধ

এমন কি পানি ফুটানো যায় না

জল-তেল মিলমেশ করে রাখা যায় না!

 

এর এনামেল নষ্ট হয়ে গেছে-

                        মরচে ধরেছে

সে এখন তাপমাত্রা ধরে রাখতে পারে না!

সে এখন তাপশক্তি সহ্য করতে পারে না!

 

এলুমিনিয়ামের পাতিল

                   লৌহমিশ্রিত পাতিল

ইস্পাতমিশ্রিত পাতিল

                   রূপোর পাতিল

এমন কি সোনার পাতিল

সে-ও বাতিল হয়ে যেতে পারে-

যদি তা দিয়ে তাপানো না যায়

যদি তা দিয়ে তাতানো না যায়

যদি তা দিয়ে ভাপানো না যায়

 

রসুইঘরে এ পাতিল রেখে কার কী লাভ?

 

আমরা জোংরাখোটা

 

শামুক কুড়িয়ে পুড়িয়ে চুন তৈরি করি

                   আমরা জোংরাখোটা

                   আমাদের নখমোটা।

 

আমরা বাদ্য বাজাই নৈবদ্য সাজাই

নদীতে নদীতে যাই

                    সাগরে সাগরে যাই

                   আমাদের পায়ে কাদা।

 

দেউড়ি থেকে দেউটি জ্বালিয়ে ঘুরি

জুটি বেঁধে রুটি খাই

              --দৃষ্টি চলে যায় দূরে

হিমশীতল দিনেও জলে নামি

হৃদয়তাপ দিয়ে ঝাঁপ খুলি,

সাপের ভীতিতে বিহ্বল হই না

মগ্ন হয়ে শামুক কুড়াই

                   আমরা জোংরাখোটা।

 

বুকভাঙা কষ্ট নিয়ে বুকভাঙা জলে নামি

পানিকাক-কাদাখোঁচা-বালিহাঁস দেখে,

আলোআঁধারিতে থাকি--

পান থেকে চুন খসে কিন্তু চুন থেকে

                   আমরা খসি না

                   আমরা জোংরাখোটা।

 

এখন কেন পুড়ে যাচ্ছি

 

এত সহজে পুড়ে যাচ্ছি!

এতটা আজ--দহনযোগ্য?

এত সহজে পুড়ে যাচ্ছি!

এতটা আজ--সহজদাহ্য?

 

আগুনতাপে পুড়ে যাচ্ছি

তুষআগুনে পুড়ে যাচ্ছি

ছাইআগুনে পুড়ে যাচ্ছি

 

বনআগুনে পুড়িনি

বজ্রপাতে পুড়িনি

তড়িৎকোষে পুড়িনি

গ্যাসআগুনে পুড়িনি

কাঠআগুনে পুড়িনি

 

এখন কেন পুড়ে যাচ্ছি?

এখন কেন পুড়ে যাচ্ছি?

 

আগে ছিলাম আলোকশক্তি

আগে ছিলাম সূর্যশক্তি

আগে ছিলাম বিদ্যুৎশক্তি

 

এখন কেন পুড়ে যাচ্ছি?

এখন কেন পুড়ে যাচ্ছি?

 

অধঃপতনে শেষ সীমায়

ছোবড়া  কিবা খড়ের প্রাণ?

পুড়ে যাচ্ছি!

সাহস নেই বুকের মাঝে

তালপাতার রোগা-সেপাই?

পুড়ে যাচ্ছি!

নিজের ভর হারিয়ে ফেলে

শিমুল-তুলো উড়ে বেড়াই?

পুড়ে যাচ্ছি!

উদাসীনতা আপন ভোলা

নাইলনের সুতো কাপড়?

পুড়ে যাচ্ছি!

জোড়াতালিতে পথ পাই না

তুলট কিবা ছেঁড়া কাগজ?

পুড়ে যাচ্ছি!

 

আগে ছিলাম ইউরেনিয়াম

আগে ছিলাম প্লুটোনিয়াম

আগে ছিলাম অনির্বাণ

 

এখন কেন পুড়ে যাচ্ছি?

এখন কেন পুড়ে যাচ্ছি?

 

সুন্দরবনকে একা থাকতে দাও

 

সুন্দরবনকে একা থাকতে দাও

          ওর নিঝুমতা নিয়ে একা থাকতে দাও

               ওর পাখির কিচিরমিচির নিয়ে

                   ওর ডেঁয়োপিঁপড়ে নিয়ে

                      ওর ঝুলনপূর্ণিমা নিয়ে

ওর নদীর জলশব্দ নিয়ে একা থাকতে দাও!

 

ওর গরান-হেতাল

             ওর গোলপাতা

ওর বাঘ-হরিণ নিয়ে একা থাকতে দাও!

              ওর বাওয়ালী-মৌয়ালী নিয়ে

             রৌদ্রতাপে একা থাকতে দাও!

 

ওর কচিপাতা

            পঞ্চমুখী জবা

স্বর্ণলতা নিয়ে একা থাকতে দাও!

 

ও তো কারো অনিষ্ট ডেকে আনেনি

                          মরণকালও না!

তবে কেন তার শবাধার তৈরি করা হচ্ছে!

 

ওর নাভিশ্বাস উঠলে

                তোমারও হবে ওষ্ঠাগত প্রাণ!

ওকে যমে টানলে

        তোমাকেও যেতে হবে লাশকাটা ঘরে!

 

উপকথা

 

যাদেরই মাছি তাড়ানোর কথা

তারা নিজেরাই মাছি হয়ে যায়

যদিও তাদের হাতে মাঝে মাঝে

হাতপাখা শোভা পায়।

 

মাছিরা অগ্নিপরীক্ষায় অগ্নিবর্ণ হতে পারে না

অশ্রুলোচনের ভেতরও মাছিরা অশ্লীল নাচে।

 

ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা খাবার দেখলে

মাছিদের বোঁ-বোঁ শব্দ বাড়ে--

ভাঙা কাঁঠালের গন্ধে মাছিরা উন্মাদ হয়ে যায়।

 

পিকদানি থেকে মাছিরা উড়ে এসে বসে

রোগমুক্তি হবে কীভাবে?

এইখানে মাছিদের দেহচর্চা চলে

মাছিরাই তরতাজা ও স্বচ্ছন্দ--

মাছিদের এঁটো খেয়ে শিশুরা বাঁচবে?

 

মাছিদের কোনো গুপ্ত রহস্য নেই

লোভেই তাদের উপকথা,

ঋণশোধ বলে তাদের কোনো বোধ নেই

তাদের আক্কেল দাঁতও নেই,

উপকন্ঠ থেকে লুপ্ত হতে থাকে দুধে তৈরী খাদ্যের শুদ্ধতা।

 

উপরিতলের যে উপসর্গ নিয়ে আছি

সেখানে আত্মপ্রকৃতি নেই--আছে শুধু মাছি!

 

 

0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন