ধারাবাহিক উপন্যাস
দ্য ক্লাউড
(২৪)
সকালের আলোটা আজ যেন কারও অনুমতি নিয়ে পৃথিবীতে নামলো। বাতাসে কাঁচা ধানের গন্ধ নেই। কাশফুলেরও নয়। অথচ অদ্ভুত এক প্রস্তুতির শব্দ চারদিকে। মনে হচ্ছে, আকাশের অনেক ওপরে কেউ যেন আসর সাজাচ্ছে।
উৎপল চিত্রকর আজ আবার স্কুলের মাঠে এলো। পতাকাটা আছে। পতাকার নীচে ভাঙা টিনের সাইনবোর্ডটাও। বহুদিনের বৃষ্টি, রোদ, ধুলো তার গায়ের বিজ্ঞাপন মুছে দিয়েছে। শুধু এক কোণে দাঁত বের করা এক বৃদ্ধের হাসি। আনন্দ। উৎপল কিছু বলার আগেই আনন্দ হেসে উঠলো।
— এতদিনে বুঝলে চিত্রকর? বিজ্ঞাপন আগে মুছে যায়। হাসি পরে।
পতাকাটা একটু নড়লো। উৎপল উপরে তাকিয়ে দেখলো— নিমচাঁদ দাগা নেই। আবার ভালো করে তাকিয়ে বুঝলো— নেই মানে নেই নয়। সুতোটা আজ অনেক মোটা। মনে হচ্ছে, একা কোনো আত্মা আর ওখানে ঝুলছে না। অনেক অদৃশ্য নিশ্বাস এসে জড়ো হয়েছে।
আনন্দ বললো— ওকে খুঁজছো?
— হ্যাঁ।
— আজ আর কাউকে একা পাবে না। আজ থেকে সবাই দলে দলে আসবে।
উৎপল চুপ। মেঘের ভেতর খুব আস্তে একটা ঢাকের মতো শব্দ হলো। ডুগ... ডুগ... ডুগ...
উৎপল আকাশের দিকে তাকালো। মেঘগুলো আর ভেসে যাচ্ছে না। ওরা গোল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ঠিক যেন গ্রামের উঠোনে বিয়ের আগে মহিলারা গোল হয়ে বসে। বিদ্যুৎ একবার চমকে উঠলো। মনে হলো, কে যেন আলপনা আঁকল আকাশের গায়ে। বজ্রপাত হলো না। বরং দূর থেকে এক গভীর কণ্ঠ ভেসে এলো। কথা বোঝা গেল না। শুধু আহ্বান। আনন্দ মাথা নুইয়ে বললো—
— শুনতে পাচ্ছো?
— কী?
— ডাকা হচ্ছে।
— কাকে?
আনন্দ এবার আর হাসলো না। খুব শান্ত গলায় বললো— যারা পৃথিবীতে একসঙ্গে থাকতে পারেনি। আজ তাদের জন্য মেঘ মণ্ডপ বাঁধছে।
উৎপল অবাক হয়ে রইলো। ডেটা-ডায়েরি নিজে থেকেই খুলে গেল। আজ কোনো নাম নেই। কোনো ফাইল নেই। শুধু একটিমাত্র বাক্য— "নাগরিকদের উপস্থিতি প্রার্থনীয়।"
ঠিক তখনই একঝাঁক ফটিকজল পাখি পতাকার চারদিকে একবার প্রদক্ষিণ করে উত্তর আকাশের দিকে উড়ে গেল। আনন্দ ফিসফিস করে বললো— চিত্রকর!
— বলো।
— আজ ছবি আঁকবে না। আজ শুধু সাক্ষী থাকবে।
(ক্রমশ)

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন