কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / চতুর্থ সংখ্যা / ১৪৩

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / চতুর্থ সংখ্যা / ১৪৩

শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

ঊষা রায়-এর কবিতা

 


প্রতিবেশী সাহিত্য   

ঊষা রায়-এর কবিতা   

(অনুবাদ : মিতা দাশ)




 

কবি পরিচিতিঃ ঊষা রায় কবি এবং ছোটগল্পকার। জন্ম ২২ নভেম্বর, গাজীপুর (উত্তরপ্রদেশ)। শিক্ষা: এম. এ (হিন্দি, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়), পি-এইচ-ডি (জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি)। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে 'সমসাময়িক হিন্দি কবিতা: ব্যঙ্গ ও শিল্পকৌশল' - সমালোচনা (সুলভ পাবলিকেশন্স ২০১৩) 'সুহাইল, ‘আমার বন্ধু' - কবিতা সংকলন (বোধি পাবলিকেশন্স ২০১৮), 'হাভেলি' - গল্প সংকলন (বোধি  পাবলিকেশন্স ২০২১) 'ভীমা কোরেগাঁও ও অন্যান্য কবিতা' (নিউ ওয়ার্ল্ড পাবলিকেশন্স ২০২৩) সমালোচনার দ্বিতীয় বই, 'কবিতা: পরিবর্তনের সৌন্দর্য ও আদর্শ' ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

 

নরখাদক

উপচে পড়া দুধকে যত্নে রাখো,

পশুদের খাওয়াও আর জল যত্নে রাখো

দুধ খাওয়া বাচ্চাদের কোলে তুলে নাও

নরখাদক আসছে।

লালায় ভেজা দাঁত আর জ্বলজ্বলে চোখ নিয়ে

সে শিকারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে,

সে রক্ত আর মাংসের প্রতিটি ফোঁটা খেয়ে নেবে-- 

নরখাদক সব খায়।

 

মিষ্টি কথায় বোকা হয়ো না,

আপনজন বা অন্যের দ্বারা প্রতারিত হয়ো না,

তোমাদের মাঝেই কোথাও বসে আছে

সেই নরখাদক, সে হাসে।

 

প্রান্ত থেকে উঠে দাঁড়াও,

শহরের বুকে রাজপথে এগিয়ে চলো,

চিৎকার করে বলো,

আমরা এক, এক আমরা...

নরখাদক ভয় পাবে, সে ভয় পায়।

 

ভয় 

ভয় মানুষকে বাঁচায় না,

বরং ভোগায়।

কখনও কখনও বড় ভয় হয়

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভয় দেখায়।

যেমন প্রদীপ নিভে যাওয়ার ভয়

অথবা রাজ ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়।

তেমনি সারাজীবন ব্ল্যাকমেইলের শিকার হওয়ার চেয়ে

একবার অপবাদ-নিন্দা সহ্য করে নেওয়াই ভালো।

চরিত্র এর প্রমাণপত্র

আসল বিপদে নয়,

হলফনামা কাজে লাগে।

ভয় মানুষকে এমন কাজ করিয়ে দেয়

যা তার করা উচিত নয়।

ভীত শিশু দুলতে দুলতে

হঠাৎ স্কুল থেকে লাফিয়ে পড়ে যায়।

কাঁদতে থাকা মেয়ে বিষ খেয়ে ফেলে,

আধো-অন্ধকারে শিশুকে ফেলে রেখে যায়।

ভয় মানুষকে বাঁচায় না,

বরং দাস বানিয়ে ফেলে।

দাসদের মতো

বেঁচে থাকার অর্থ যদি হয়

ধীরে ধীরে মারা যাওয়া।

 


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন