কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / চতুর্থ সংখ্যা / ১৪৩

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / চতুর্থ সংখ্যা / ১৪৩

শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

কানাডীয় কবি জর্জ এলিয়ট ক্লার্কের কবিতা

 

প্রতিবেশী সাহিত্য

কানাডীয় কবি জর্জ এলিয়ট ক্লার্কের কবিতা

(ভূমিকা ও ভাষান্তর: গৌরাঙ্গ মোহান্ত)



 

কবি পরিচিতিঃ জর্জ এলিয়ট ক্লার্ক (জ. ১৯৬০) সমকালীন কানাডীয় সাহিত্যের স্বনামধন্য কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, সমালোচক ও গবেষক। কানাডার নোভা স্কোশিয়ার উইন্ডসর শহরে জন্মগ্রহণকারী ক্লার্ক আফ্রিকান-কানাডীয় জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, সংস্কৃতিকে তাঁর সাহিত্যকর্মে ভাস্বর করে তুলেছেন। তিনি “Africadia” (আফ্রিকাডিয়া) ধারণার প্রবর্তক; এর মাধ্যমে তিনি আটলান্টিক কানাডার কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ভূগোলকে চিহ্নিত করেছেন।

ক্লার্ক ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলু, ডালহৌসি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন এবং পরবর্তী সময়ে টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে কানাডীয় সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১২২০১৫ কালপরিসরে Poet Laureate of Toronto এবং ২০১৬২০১৭ সালে Canadian Parliamentary Poet Laureate হিসেবে কর্মব্যাপৃত থাকেন।

তাঁর কাব্যগ্রন্থের ভেতর Whylah Falls, Execution Poems, Blues and Bliss এবং Illicit Sonnets উল্লেখযোগ্য। বিশেষত Execution Poems গ্রন্থের জন্য তিনি কানাডার মর্যাদাপূর্ণ Governor General’s Literary Award লাভ করেন। তাঁর কবিতায় ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রেম, সংগীত, আধ্যাত্মিকতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন অনন্য কাব্যভাষায় ব্যঞ্জিত হয়েছে।

জর্জ এলিয়ট ক্লার্কের কবিতা ইতিহাসের ক্ষতচিহ্ন ও মানবিক সম্ভাবনার এক নান্দনিক পাঠ। তাঁর কাব্যে ব্যক্তিগত স্মৃতি, কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর সংগ্রাম, সংগীতের ছন্দ, প্রেমের উচ্ছ্বাস এবং ভাষার দীপ্তির মিশ্রণে এক স্বতন্ত্র শিল্পভুবন নির্মিত হয়েছে। সমকালীন কানাডীয় সাহিত্যে তাঁর অবদান শুধু বিষয়বস্তুগত বৈচিত্র্যে সীমিত নয়; কাব্যভাষার অভিনবত্ব ও সাংস্কৃতিক স্মৃতিকে শিল্পে রূপায়ণের ক্ষমতায়ও বিস্তৃত।

 

বিশুদ্ধ গুণের ওপর বক্তৃতা

গীতাকে

বাদামি কন্যাটি, স্বর্ণোজ্জ্বল, কৃষ্ণচক্ষু,

প্রস্ফুটিত হলুদ জবা

উচ্ছ্বসিত, মহিমান্বিত পদক্ষেপে

প্রবেশ করে অগাস্টে—

সমৃদ্ধ কারুকাজে বোনা তার সোনালি রেশমি শাড়ি,

তার তামাটে পদতলে অঢেল মধুরঙা আলো,

স্যান্ডেলপরা, দেবদারু সৌরভে মণ্ডিত,

তাকে ঘিরে থাকে চন্দনকাঠের সুগন্ধমাখা জ্যোতিশ্চক্র;

তার স্বতন্ত্র, উষ্ণ, শ্যামোজ্জ্বল শরীর,

তার প্রতিটি দৃষ্টি বাতাসের গতিপথ,

দুরন্ত তার মুখাবয়ব—

এমনকি ঝাঁঝালো—মাধুর্য....

ওহ, তার কি...?

সে এসেছে

সকালের হালকা শারদ শীত পেরিয়ে,

তার পা হীরকদ্যুতিময়

শিশিরে সিক্ত—

কীভাবে সমুদ্র ঘাসের ভেতর গ্রীষ্ম কাটায়

(সেই একই ঘাস যা সূর্যের দিকে মাথা তোলে,

যখন প্রজাপতিরা ফ্রানজিপানিকে ঘিরে ধরে...)।

দেখো, তার হাসি ঘোষণা করছে

রৌদ্ররঞ্জিত উষ্ণ টেরাকোটা ঠোঁট—

আকস্মিক সৌভাগ্য ফিরে এসেছে ঘরে—

আর আমি বলি,

“তুমি সেই আলো, যে উত্তোলন করে,

আমাকে মুক্তি দেয় অন্ধকার থেকে,

মলিনতার অগ্নিনরক থেকে।”

ওহ! থাক রাম আর গুড়,

ভাত আর ম্যাকারেল মাছ, হে কাব্যদেবী,

ভারত মহাসাগর কোমল ও মধুর করে তুলছে আটলান্টিককে,

এই মহিমান্বিত শরতে।

আমরা অনুভব করব এই সমস্ত আনন্দ:

পদ্মতুল্য ধীরগতির বিদ্যুৎচমক

মৃত্তিকা থেকে উৎসারিত

হাতির দাঁতের সোনালি ফোয়ারা,

তোমার মতোই—পৃথিবী থেকে উদ্ভাসিত সতেজ আলো।

 

শূন্য সনেট

বাতাসে রুবার্বের গন্ধ, কোথাও কোথাও

গোলাপের, অথবা ফুলের প্রথম জন্মের,

এক সতেজ, উত্তরঙ্গ আঘাত; ফলত শরীর ভেঙে যায়, কুঁকড়ে ওঠে

ফুলের মতো। আমি পাণ্ডুলিপির মতো পাতলা তুষারে পদসঞ্চালন করি।

দেখি শুভ্র নক্ষত্রগুলো মাতালের মতো ঘুরপাক খাচ্ছে, আর আমার ইচ্ছে করে

রামের জোড়াতালি-দেওয়া লেপের নিচে ঘুমিয়ে পড়তে।

আমি চাই ভাষার সেই ধীর, নিশ্চিত সন্নিপাত,

যা অ্যালকোহলে ধুয়ে মুছে যায়।অনিন্দ্য শেলি,

তুমি যদি না পড়ো, তবে আমার

পরিমিত, ছন্দবদ্ধ কবিতার কোনো প্রয়োজন নেই। ইকারাসসদৃশ আমি ঝরে পড়ব

এই তুষারের পৃষ্ঠায়, অন্ধকারের মতো গড়িয়ে যাব

দৃষ্টির ওপর দিয়ে, ডুবে যাব সেই শুভ্র সমুদ্রে

যা প্রতিটি কবিতাকে সমাপ্ত করে—সেই শুভ্র উল্টোপিঠ

যা প্রতিটি চিত্রকল্পের কৃষ্ণতাকে মুছে দেয়।

 

 

 


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন