বড় পর্দায় হিন্দী ছবি (১৯শ পর্বঃ
সেরা তিনটি ছবির দ্বিতীয় ছবি) বজরঙ্গী ভাইজান (২০১৫)
বর্তমান
রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমার দেখা তিনটি ‘সেরা’ হিন্দী ছবির প্রথম দুটি নিয়ে প্রবল বিরূপতাই
প্রত্যাশা করি। দুটিতেই আমাদের পশ্চিমী প্রতিবেশী দেশের মানুষদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি
গ্রহণ করা হয়েছে, এবং তাদের প্রতি ধর্ম এবং জাতিগতভিত্তিতে যে বিদ্বেষ এখন সঙ্গত কারণেই
তুঙ্গে, তার বিরুদ্ধাচরণ করা হয়েছে। কিন্তু এর জন্য ছবি দুটির যে বক্তব্য তার সারবত্তা
বাতিল হয়ে যায় না – মত একান্তই ব্যক্তিগত।
কাহিনিকারদ্বয়
(মূলত ভি বিজয়েন্দ্র প্রসাদ এবং তাঁর সঙ্গে পরিচালক কবীর খান) যেন ইচ্ছাকৃতভাবেই গল্পের
শুরু করেছেন পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের এক প্রত্যন্ত গ্রাম সুলতানপুরে যেখানে একটি
কুটীরে থাকেন এক দম্পতি ও তাঁদের জন্মমূক ছ’বছরের কন্যা শাহিদা (রূপায়ণে হর্ষালি মালহোত্রা)।
একটি দুর্ঘটনা, যা বালিকাটির ক্ষেত্রে হতে পারত প্রাণঘাতী, তার মা রসিয়াকে বাধ্য করে
সমঝোতা এক্সপ্রেসে চেপে তাকে নিয়ে ভারতে আসতে, দিল্লীতে নিজামুদ্দিন আউলিয়ার দরগায়,
যাতে শাহিদা বাকশক্তি লাভ করতে পারে। শাহিদার বাবা ইচ্ছুক হলেও ভারতে প্রবেশের ‘ভিসা’
পাবেন না, তিনি পাকিস্তানী সৈন্যদলে ছিলেন। দরগা হয়ে ফেরার সময় শাহিদা ট্রেন থেকে সাময়িকভাবে
নেমে পড়ে আর ট্রেন তাকে ফেলে চলে যায় পাকিস্তানে। রসিয়া অল্পক্ষণের জন্য ঘুমিয়ে পড়েছিলেন!
তাঁর আকুল আর্তি সত্ত্বেও তাঁকে দেশে ফিরতে হয়, মেয়েকে হারিয়ে। বাবা-মা ঈশ্বরের কাছে
‘দুয়া’ করেন যে কেউ যেন তাঁদের মেয়েকে রক্ষা করে!
তাঁদের
আকুতির উত্তরঃ পবন কুমার চতুর্বেদী (রূপায়ণে সলমন খান), এক অতি-ধর্মপ্রাণ, হনুমান-ভক্ত
হিন্দু ব্রাহ্মণ। শাহিদাকে (সে এক মালগাড়ী চেপে চলে এসেছে হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রে!)
ক্ষুধার্ত দেখে পবন দোকানে তার খাবার ব্যবস্থা করে। শাহিদা ভরপেট খেয়েও পবনের সঙ্গ
ছাড়েনা। যেহেতু সে তার গ্রামের নাম বলতে অক্ষম, পবন তাকে নিয়ে এসে তোলে দিল্লীতে তার
প্রয়াত বাবার বন্ধু পাণ্ডে সাহেবের (রূপায়ণে শরদ সাক্সেনা) বাড়ীতে যেখানে সে আশ্রিত।
গোঁড়া হিন্দু পাণ্ডেকে পবন বলে যে শাহিদা এতই ফর্সা যে সে ব্রাহ্মণকন্যা হতে বাধ্য!
কিন্তু অচিরেই পবন আর পাণ্ডে সাহেবের ইস্কুল-শিক্ষিকা মেয়ে রসিকা (রূপায়ণে করীনা কাপুর
খান) আবিষ্কার করে যে শাহীদা তাদের বাড়ীতে ভালো করে খেতেই পারেনা কারণ সে যে ঘোরতর
আমিষাশী! এক ফাঁকে সে পাশের বাড়ীর মুসলমান দম্পতির ঘরে ঢুকে পরিতৃপ্তির সঙ্গে মুরগীর
ঠ্যাং চিবোচ্ছিল! তাহলে শাহীদা তো ব্রাহ্মণ নয় – নিশ্চয়ই ক্ষত্রিয়! এরপর একদিন শাহীদা
স্থানীয় মসজিদে ঢুকে মনে মনে কোরাণ পাঠ করছে, পবন তা দেখে ফেলে প্রতারিত বোধ করে –
সে কখনোই কোন মুসলমানের সঙ্গে সজ্ঞানে সখ্যতা করত না! এইবার রসিকা পবনকে তিরস্কার করে
মানুষকে মানুষ হিসেবে চিনতে বলে, ধর্মের ভিত্তিতে নয়! হঠাৎ শাহীদা এসে তাকে সজোরে জড়িয়ে
ধরে। পবনের যাবতীয় কুসংস্কার, মৌলবাদ ভেঙে চুরমার হয়ে যায় ঐ দেবতুল্য বালিকার ভালোবাসার
আঘাতে!
এবার
ঘরে টিভিতে ক্রিকেট ম্যাচ দেখার সময় সকলের কাছে রহস্য উন্মোচিত হয়! সবাই যখন ভারতের
পক্ষে গলা ফাটাচ্ছে, শাহীদা (পবন তার নাম রেখেছে ‘মুন্নি’) পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন
করে, পাকিস্তান খেলায় জিতলে টিভির কাছে গিয়ে নিজের দেশের পতাকাকে চুম্বন করে। ক্ষিপ্ত
পাণ্ডে নিদান দেন পবন পরদিনই যেন শাহীদাকে পাকিস্তানী দূতাবাসে নিয়ে গিয়ে তাকে নিজের
দেশে ফেরত পাঠাবার ব্যবস্থা করে।
কিন্তু
বিনা পাসপোর্টে তা’ কী করে সম্ভব? এবার পাণ্ডে পবন আর শাহীদাকে পাঠান এক স্থানীয় ভ্রমণবিক্রেতার
কাছে। কিন্তু সে হতভম্ব হয়ে বলে যে পাকিস্তানের ‘ভিসা’ সে কোনদিন করেনি! তবে দেড় লক্ষ
টাকা দিলে সে ঘুরপথে শাহীদাকে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেবে। রসিকা পবনের সঙ্গে তাদের
বিয়ের জন্য বাঁচানো টাকা নির্দ্বিধায় পবনের হাতে তুলে দেয়। পরদিন টাকা লেনদেনের সময়
শাহীদা সজল চক্ষে প্রবল – এবং নীরব – আপত্তি জানাতে থাকে, কিন্তু পবন জোর করে তাকে
টাকা সমেত ভ্রমণ বিক্রেতার হাতে তুলে দেয়। ঘটনাচক্রে পবন দেখে যে সেই বিক্রেতা আসলে
শাহীদাকে বেচে দিচ্ছে এক বেশ্যালয়ে! ক্রোধে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে বিক্রেতা, বেশ্যালয়ের
একাধিক দালাল ও মাসীকে পিটিয়ে পোস্ত বানিয়ে পবন শাহীদাকে ফিরিয়ে আনে। এবার সে স্থির
করে সে নিজেই তার ‘মুন্নি’-কে তার বাবা-মার কাছে সীমান্ত পার করে ফিরিয়ে দেবে।
সীমান্তে
‘বু-আলি’ নামের এক দালালের সাহায্যে পবন আর শাহীদা/মুন্নি সুড়ঙ্গ দিয়ে কাঁটা তারের
বেড়া পেরোয়। পবন তো বজরংবলীর ভক্ত। ইস্কুলে বারবার ফেল করেও সে কোনদিন পরীক্ষায় টোকেনি!
এখানেও সে পাকিস্তানী সৈন্যাধ্যক্ষের অনুমতি ছাড়া এক পা-ও এগিয়ে যাবে না!! বিমূঢ় সৈন্যাধ্যক্ষ
তাঁর অধীনস্থ সৈন্যদের হাতে পবনকে বেশ কয়েক ঘা খাইয়েও শেষ অবধি মুন্নির সজল চোখ দেখে
দুজনকে ছেড়ে দেন।
সকালে
এক ধাবাখানায় খাবার সময়ে মুন্নি কাছে বসা এক পুলিশ অফিসারের ব্যাগ থেকে হাতকড়া নিয়ে
নেয় – কারণ উক্ত বস্তুটি দেখলেই সে মনে করে ওগুলো হাতে পরার বালা! ফলে দুজনে পাকড়াও
হয়ে থানায় বন্দী হয়। সেই সময়, অফিসারের টেবিল-ক্যালেন্ডারে এক পাহাড়-ঘেরা গ্রামের ছবি
দেখে মুন্নি পবনকে ইশারায় জানায় যে ঐ হলো তার গ্রাম! দিল্লীর বেশ্যালয়ের পুনরাবৃত্তি
ঘটিয়ে, মুন্নিকে হেনস্তা করার অপরাধে পবন সারা থানাকে প্রহার করে মুন্নিকে নিয়ে পালিয়ে
এক বাসে উঠে পড়ে।
বাসের
কন্ডাক্টার পবনের মুখে যাবতীয় ঘটনা শুনে বলে, “আপনার মতো আরও লোক থাকলে দুই দেশেরই
মঙ্গল হবে!” বাসের সমস্ত যাত্রী আর ‘পুলিশের হাতে ধরা পড়া হিন্দুস্তানী গুপ্তচর’-এর
পিছু নেওয়া সাংবাদিক চন্দ নওয়াব পুলিশের হাত থেকে পবন-মুন্নিকে লুকিয়ে রাতে এনে ফেলে
এক মসজিদের বাইরে। মৌলানা সাহেব (রূপায়ণে ওম পুরী) সস্নেহে দুজনকে আশ্রয় দেন এই বলে
যে মসজিদের দরজা সব শরণার্থীর জন্য সব সময়ে উন্মুক্ত। তাঁর বালক ছাত্রদের ইংরেজী-জানা
একজন মুন্নির আনা সেই টেবিল-ক্যলেন্ডারের ছবিটির তলায় Switzerland লেখার দিকে সবার
দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরদিন মৌলানা সাহেব চন্দ আর পবনকে বোরখা পরিয়ে আরও খানিকটা এগিয়ে
দেন। তাদের তিনি বলেন যে ক্যালেন্ডারের ছবির মতো গ্রাম আছে কাশ্মীরে। হতভম্ব পবন প্রশ্ন
করে যে তাহলে কি এবার মুন্নিকে নিয়ে তাকে ভারত ফিরতে হবে? সহাস্যে মৌলানা সাহেব উত্তর
দেন, “আমাদের কাছেও একটু [কাশ্মীর] আছে!”
এবার
পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর থেকে আসা এক বাসচালকের সঙ্গে কথা বলে, বিভিন্ন গ্রামের নাম
তাকে দিয়ে বলিয়ে অবশেষে বেরোয় ‘সুলতানপুরে’র নাম। মুন্নি সজোরে মাথা ঝাঁকিয়ে সম্মতি
জানায়।
বাস
এগোচ্ছে সুলতানপুরের দিকে। ভারতীয় গুপ্তচরের খোঁজে সে বাস আটকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী।
পবন স্বেচ্ছায় তাদের সামনে বেরিয়ে পালাবার ভাণ করে যাতে মুন্নিকে নিয়ে চন্দ গ্রামের
দিকে এগোতে পারে। চন্দ সফল হয় মুন্নিকে রসিয়ার কোলে তুলে দিতে। আর সৈন্যদের ছোঁড়া গুলি
খেয়ে পবন বন্দী হয়। তার ওপর চলে সে যে গুপ্তচর, এই স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য অকথ্য
অত্যাচার।
এর
কিছু আগে থেকেই চন্দ তার ফোন এবং অন্তর্জাল ব্যবহার করে পবনের মুন্নি/শাহীদার প্রতি
নিঃস্বার্থ ভালোবাসার আখ্যান প্রচার করেছে সর্বত্র। পবনের প্রতি জন-সহানুভুতি হু-হু
করে বেড়েছে পাকিস্তানে। এমনকি যে অফিসারের তত্ত্বাবধানে পবনের ওপর ‘থার্ড ডিগ্রি’ প্রয়োগ
চলছিল, তিনিও আপ্লুত হয়ে এই ‘হিন্দুস্তানী’-কে মুক্ত করে নিয়ে এসেছেন সীমান্তে যাতে
সে ভারতে ফিরতে পারে। বিধ্বস্ত, আহত পবন লাঠিতে ভর করে এগিয়ে চলে নিজের দেশের দিকে,
পেছনে উচ্ছ্বসিত জনতার জয়ধ্বনি, “বজরঙ্গী ভাইজান, বজরঙ্গী ভাইজান!” অপর পারে ভারতীয়
জনস্রোতে ভেসে এসেছেন পাণ্ডে সাহেব, তাঁর স্ত্রী, রসিকা, সবাই। পবন প্রায় পৌঁছে গেছে
তার নিজের দেশে, এমন সময় পেছন থেকে সব আওয়াজ ছাপিয়ে শিশুকণ্ঠে ডাক, “মা – মা! জয় শ্রী রাম!” (এই ডাকেই তো সে পবনকে
অভিবাদন জানাতে শুনে এসেছে এদেশে, ওদেশে, সবসময়!) বাবার কোল ছেড়ে নেমে ছুটে এসেছে
ছোট্ট মুন্নি/শাহীদা। প্রথম পরিচয়ের পরেই যে পবন তাকে বলেছিল, “আমায় মামা বলবি!” পেছন
ফিরে লাঠি ফেলে দিয়ে ছুটে যায় পবন, কোলে তুলে নেয় এই দেবদূতটিকে! নেপথ্যে গান বাজতে
থাকে, “তুই হৃদস্পন্দন, আমি হৃদয়!”
কয়েক
সংখ্যা আগে ধুরন্ধর ছবিটির প্রশংসা করেছিলাম।
দুটি বিশেষ মতবাদের প্রবক্তারা ছবিটির ব্যাপারে প্রবল আপত্তি তুলেছিলেন কারণ নাকি ছবিটি
ইসলামবিদ্বেষী। ধুরন্ধর খলনায়ক হিসেবে চিহ্নিত
করেছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আই এস আই-কে এবং করাচির কাছে লিয়ারি অঞ্চলের কুখ্যাত
সমাজবিরোধীদের। ভারতীয় বা পাকিস্তানী সাধারন মুসলমানদের নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারিত হয়নি।
তার
পরের সংখ্যাতেই সম্পূর্ণ বিপরীত মনোভাব নিয়ে তৈরি ইক্কিস ছবির সম্বন্ধে ইতিবাচক কথা বলেছিলাম, যদিও নির্মাতাদের ১৯৭১-যুদ্ধের
সময় পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানী সৈন্যদলের নারকীয় হত্যা ও নির্যাতনলীলা নিয়ে নীরবতা
দৃষ্টিকটূ লেগেছিল।
এই
দুই ছবির প্রায় এক দশক আগে তোলা পিকে, এবং
তার চেয়েও বেশী, বজরঙ্গী ভাইজান-এ, এসেছে
দুই দেশের সাধারণ মানুষের কথা। পাণ্ডে সাহেবের মধ্যে সাধারণ ভারতীয় হিন্দুর গভীর –
এবং দুই দেশের ইতিহাসের প্রেক্ষিতে সঙ্গত – পাকিস্তান-বিদ্বেষ আছে, যা তিনি শেষ অবধি
পবন আর মুন্নি-শাহীদার নিবিড় ভালোবাসার জন্য কাটিয়ে উঠতে পারছেন। সাংবাদিক চন্দের আখ্যান
যখন একের পর এক পাকিস্তানী সংবাদ মাধ্যম প্রচার করতে অস্বীকার করছে, চন্দ তখন আক্ষেপের
সুরে পবনকে বলছে, “ঘৃণা বাজারে বিকোয় ভালো, ভালোবাসা নয়!” কিন্তু অবশেষে পেশাদারী মাধ্যমকে
পাশ কাটিয়ে যখন পবনের নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টার গল্প আপামর জনসাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে,
তখন যা ঘটছে তাকে ভালবাসার গণ-অভ্যুত্থান বললে বোধহয় ভুল হবে না।
১৯৫৯
সালের বিখ্যাত বেন হুর ছবিতে মেসালা বেন
হুরকে বলেছিল, “হয় তুমি আমাদের পক্ষে, নয় আমাদের বিপক্ষে!” এই চারটি ছবি নিয়ে আলোচনা
এই ‘হয় এটা নয় ওটা’ মানসিকতার বিরুদ্ধে। শেষ করব আমার অতি প্রিয় একটি ইংরেজী উদ্ধৃতি
দিয়েঃ
All ideologies are inherently wrong. None [has] worked. None
[has] emerged as dominant to the point of suppressing all others, and if this
is true – if time has not proven a thing irrefutable – then a thing is a
lie. Religion and politics encourage
violence so that the meek will proudly throw away breath and flesh because
their rot fertilizes fat succulent flora. Men thrive in these gardens of
atrocity, proudly tending the blossoms, convinced that the clusters of lovely,
vibrant petals – their gods, their governments, their belief in an
unquestionable right to destroy all that does not resemble them – are worth the
blood and the meat that feed the stalks.
(Lee Thomas, THE GERMAN)
শেষে এই বাক্যটি যোগ হবেঃ
প্রসঙ্গত,
বজরঙ্গী ভাইজান নিয়ে আলোচনা এক পূর্ব পর্বে স্থগিত রেখেছিলাম। এটি একটি ‘সিঙ্গলপ্লেক্স’,
নবীনায় দেখা।

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন