![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৫৮ |
সাংগীতিকী : কবিতা চতুষ্টয়
আনো মল্লার
এ ভরা বাদরে বাঁশিতে মেঘ কেন বাজালে শিল্পী?
মেঘ তো পুঞ্জীভুত হয়ে ওঠা মেঘকে
আবাহনের রাগ –
দিগন্তবিস্তৃত মাঠের উপর দিয়ে বিপুল
মহিমায় ছুটে আসে যে মেঘ –-
আহা, কোন্ স্রষ্টা কোন্ সে আবেগঘন
মুহূর্তে সৃষ্টি করেছিল এই রাগ!
এ যেন কোন আসন্নপ্রসবার অনির্বচনীয়
রূপের বর্ণনা,
এ যেন চরমতম প্রত্যাশার এক মূর্ত
রূপ,
এ যেন প্রাত্যহিকতার ঊর্ধ্বে উঠতে
এক উদাত্ত আহ্বান …
এখন অঝোরে বৃষ্টি;
শিল্পী, বাঁশিতে ফুটিয়ে তোলো দ্বাদশ
মল্লার –-
মিয়া মল্লার, গৌড় মল্লার, সুরদাসী
মল্লার –-
তোমার সঙ্গে আমরাও মিলি নবজাতকের
আবাহনে …
জয়জয়ন্তী
কোন্ জয়ের ঘোষণাকে মূর্ত করে তুলতে
হে স্রষ্টা, সৃষ্টি করেছিলে জয়জয়ন্তী?
সেটা কি ছিল সমর বিজয়ের আনন্দঘন
উল্লাসময় ক্ষণ,
নাকি দুঃখ বিজয়ের আবেগঘন মুহূর্ত?
আপাতত বিসমিল্লা আর ভি জি যোগ তাঁদের
অনবদ্য দ্বৈতে
আমাকে পৌঁছে দিয়েছেন স্বর্গের প্রায়
কাছাকাছি,
অলকানন্দা নন্দনকানন অপ্সরাগণ প্রায়
দৃশ্যমান --
তবু হঠাৎই প্রাণে বাজল বিরহঘন মেঘমেদুর
বরষায় কোথা তুমি,
আর অনন্ত বিরহের বার্তাবাহী ফুলের
দিন হল যে অবসান …
কোন্ জাদুতে, হে স্রষ্টা, মিলিয়ে
দিলে আনন্দ বিষাদ?
আবাহন
বেহাগ, জাগিয়ে তোলো বিরহবেদনা,
ক্ষেত্র প্রস্তুত –
বহু খরা অগ্নিবাণ ঘটে গেছে ইতোমধ্যে,
কেটে গেছে অনেক সময় নিষ্ফল বর্ষণ
প্রার্থনায়,
ঝরে গেছে অস্ফূট কুসুম,
মরে গেছে অতৃপ্ত কামনা …।
বেহাগ, উদ্দীপিত করে তোলো মুমূর্ষু
সত্তাকে,
সে আছে অপেক্ষায়---
সুরের স্বরের মূর্ছনায় উদ্ভাসিত
হও
ব্যপ্ত করি লুপ্ত করি স্তরে স্তরে
স্তবকে স্তবকে,
দুর্মদ আঘাতে তার ভেসে যাক রসের
স্রোতে আজ বিভাবরী …
দেবব্রত বিশ্বাস
তুমি না গাইলে কিছু রবীন্দ্রসঙ্গীতের মাধুরী
অধরাই থেকে যেত আমাদের কাছে;
অপ্রাপণীয় কিছু প্রাপ্তি নাগালে
এনেছ আমাদের --
যেদিন সকল মুকুল গেল ঝরে,
কিংবা আমার সকল দুখের প্রদীপ,
কিংবা হৃদয় ভরে দিয়ে তুমি রবে নীরবে
হৃদয়ে মম,
কিংবা কোন্ দূরান্তরে নিয়ে যেতে
আমি চঞ্চল হে ….
তালিকায় সব ধরবে না,
ধরবে না আমাদের সীমিত গ্রহণযোগ্যতায়,
উপচে উপচে পড়বে --ভেসে যাবে রসের
স্রোতে আজ বিভাবরী …

সংগীতের অধরা মাধুরী ছন্দবন্ধনে সুললিত মূর্চছনায় মন ভরিয়ে দিলো!
উত্তরমুছুন