ষষ্ঠ বর্ষ / সপ্তম সংখ্যা / ক্রমিক সংখ্যা ৫৯

সোমবার, ৭ মে, ২০১৮

সোনালি বেগম




পথ বদলে যায়


জটিলতাহীন সহজ জীবনযাপনেই অভ্যস্ত চন্দ্রা। জীবনস্রোতের গোলকধাঁধায় কত যে পথ বদলে বদলে যায়, সে ভেসে যেতে থাকে। কীভাবে এবং কতদূর পর্যন্ত নিস্পৃহ থাকবে, বুঝতে পারে না সে। প্রবল ব্যক্তিত্ব হয়ত তার নেই, দীর্ঘ বটবৃক্ষের ছায়ায় হারিয়ে যেতেই সে আত্মমগ্ন। খবরের কাগজে একের পর এক নারীনিগ্রহ দেখতে পাচ্ছে সে, যেমন টিভির পর্দাও কেঁপে উঠছে। উত্তাল জনতা। সমাজে রেপ কেস এত বেড়ে যাচ্ছে! বাচ্চা মেয়েরাও রেহাই পাচ্ছে না। বেশ গুরুতর চিন্তার  বিষয়। বাবা, দাদাদের মতো মানুষজন, যাদের উপর ভরসা থাকার কথা। যদিও সকলে এইরকম প্রকৃতির নয়। কিন্তু অপরাধ যে করে সে তো অপরাধী।

সেই ঘৃণ্য হত্যার কথা মনে পড়ছে তার। একের পর এক হত্যা। সামান্য চকলেটের লোভ দেখিয়ে গরীব মেয়েদের, ঘরে ডেকে আনতো সেই চাকরলোকটি। চকলেটে মেশানো ঘুমের ওষুধ ক্রিয়াশীল হলে, সে আপন খেয়ালের পশুটিকে জাগ্রত করে তুলত। নিজের কামনাবাসনা চরিতার্থের আগেই মনিবের আত্মতুষ্টির ব্যবস্থা করতো সে।
চন্দ্রা আর ভাবতে পারে না। কেন যে সে এত কষ্ট পাচ্ছে! তার স্বামী অনিমেষ  তাচ্ছিল্যের সুরে বলে, ‘আরে বাবা, মেয়ে পটাবার তারিকা জানতে হয়। নিজের পছন্দের মেয়েদের মানে সেই টাইপের মেয়েদের নানানরকম দামি গিফট দিতে হয়। এরপর আরামসে তাদের সঙ্গে শোয়া-বসা করো। কোথাও কোনো অসুবিধে নেই। হাজারটা রেপ করেও ধরা পড়বে না। সমাজ, পাড়াপড়শি সেকথা জানতেও পারবে না কখনো।’ একটি বেসরকারি কম্পানির সি.এ. অনিমেষ হা-হা করে হাসতে থাকে।
চন্দ্রা কষ্ট পায় ভীষণ। একটা অশ্রুত সুরের মূর্ছনায় জীবনের স্পন্দন খুঁজে নিতে থাকে সে।


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন