ষষ্ঠ বর্ষ / দশম সংখ্যা / ক্রমিক সংখ্যা ৬২

সোমবার, ৭ মে, ২০১৮

নিকোনার পাররা




প্রতিবেশী সাহিত্য


নিকোনার পাররা-এর কবিতা                    

(অনুবাদ : জয়া চৌধুরী) 




  

কবি পরিচিতিঃ

চিলের এই কবি বিশ শতকের অন্যতম প্রভাবশালী কবি বলে সুপরিচিত। ইনি গণিতজ্ঞ ছিলেন। বিখ্যাত পাররা পরিবারের এই সন্তানের পক্ষে অনিবার্য ছিল কবিতা লেখা। তিনি প্রচলিত কবিতার ধরনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে নিজেকে ‘প্রতিকবি’ বলে বর্ণনা দিতেন। স্প্যানিশ ভাষায় তিনিই প্রতি কবিতার জনক। প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পোয়েমাস ই আন্তিপোয়েমাস’ বা ‘কবিতা ও প্রতিকবিতা’ একটি ধ্রুপদী সৃষ্টি। সেরভান্তেস কবিতা পুরস্কার বিজয়ী শতবর্ষজীবী এই কবি বর্তমানে স্বদেশেই থাকেন। 



LA CUECA LARGA (দীর্ঘ কুয়েকা সঙ্গীত)


একটা কুয়েকা গান গাইব
বোধের অতিরিক্ত দীর্ঘ
যাতে আমার ক্রচেট দেখতে পায়
যে ওরা আমায় গল্প বলে না।

নর্তকেরা বলে থাকে
পরনিন্দা পরচর্চা ভালবেসে
ওরা গান গেয়েছিল কি না নেচেছিল কি না
সারারাত

সারারাত, হ্যাঁ
কুমড়ো ফুল
প্রাঙ্গনে যেখানে
মোরগেরা দৃশ্যমান,
মোরগেরা গান গায়, হ্যাঁ 
চলুন যাওয়া যাক একজনে
এটা সান বেনিউনো-র
দীর্ঘ কুয়েকা সঙ্গীত।
সেখানে কোনো নারী নেই যার ওটা নেই
দাদু বলেন
চাঁদের মত কেউ পৃথিবীর ওপরে
এবং অন্যটি আকাশে।

অন্যটি আকাশে, আমার আত্মা
এক নজরে
আমায় ফুঁড়ে গিয়েছিল দুটো গুলি
আর তিনটে গোলা।
আমায় পুরোপুরি অস্ত্রহীন করে ফেলেছিল
চলুন চারজনে যাওয়া যাক
ওরা চল্লিশ দিন লাগাল
যাতে আমি স্টার্টিং পয়েন্টে না দাঁড়াই।

যাতে আমি স্টার্টিং পয়েন্টে না দাঁড়াই, পাঁচ
ছয়, সাত, আট
ঢেকে নিন জঙ্ঘাস্থি
একটা বর্ম দিয়ে।

একটা বর্ম দিয়ে, হ্যাঁ
চলুন যাওয়া যাক নয়ে
বিদ্যুৎ চমকাতে পারে বাজও
তবু বৃষ্টি পড়ে না।

তবু বৃষ্টি পড়ে না, না
দুবার পাঁচ
চোঞ্চি শহর ও কুকাও হ্রদের মাঝখানে
হুইইনকো হ্রদ আছে।

আপনার কি মনে হয়, কোয়ার্টার নোট
চলুন যাওয়া যাক এগারোয়
আপনি যদি আমার সঙ্গে যান...
ব্রোঞ্জের চারপাই!

ব্রোঞ্জের চারপাই, আমার আত্মা
যদি নিশ্চিত হত
আমার শিরাগুলো দিত কেটে
মরে পড়ে যেতাম আমি।

মরে পড়ে যাই আমি, বারো
আর একে হয় তেরো
এটা এক দীর্ঘ কুয়েকা সঙ্গীত
দুজন ফারাও মেনেসের ।

দুজন ফারাও মেনেসের, হ্যাঁ
চোদ্দ, পনের
এইসব থ্যাবড়া নাকী মানুষেরা যারা নাচছে
তারা কিছু বনবেড়াল বিশেষ।

তারা কিছু বনবেড়াল বিশেষ, আমার আত্মা
নাড়ায় হাতদুটো
আর ভাল খচ্চরটার
লাগাম সাদা রঙ করে দেয়।

লাগাম সাদা রঙ করে দেয়, হ্যাঁ
ষোল দিন
দেরী করে হাঁসেরা
বাচ্চা সরিয়ে নিতে।

বাচ্চা সরিয়ে নিতে, আইই হ্যাঁ
এক সামরিক শিক্ষানবিশের জন্য
আত্মহত্যা করে মরে এক বালিকা
বয়স সতের।

বয়স সতের, ইয়ে
আমি নিজের ওপর রাগ করতে পারি না
মুক্তি এখন মুক্ত
আঠারোর জয় হোক!

জল গড়িয়ে পড়ে, পড়েও না
বৃষ্টি ঝরে পড়ে, পড়েও না
এটা এক দীর্ঘ কুয়েকা সঙ্গীত
ঊনিশ বছরের।

(সাপাতেয়াদো নাচ)

ওই ভদ্রমহিলা যিনি নাচছেন
দেখে মনে হয়
যেন শিরীষ কাগজ চলে গেছে
কোমরতট বেয়ে।

কোমরতট বেয়ে, আইই হ্যাঁ
রাতের চাঁদ
কে হবে ঐ নিঃস্ব মানুষ
পালের মাথাটি।

আমি সান্তিয়াগোর লোক নই
লোনকোচে আমার বাড়ি
যেখানে রাত হল দিন
আর দিন হল রাত।

আমি দোন্যিয়া আউরোরার
বাড়িতে কাজ করি
পাঁচশ পেসো দেয়
যেখানে প্রতি ঘন্টায়।

যেখানে প্রতি ঘন্টায়, আইই হ্যাঁ
এটা অনেক না?
যেখানে অনাবিল বালিকারা
নেচে যায় অনাবৃত।

নেচে যায় অনাবৃত, হ্যাঁ
ভাজা মৎস্য
পছন্দের জিনিষ
কিছুর ব্যাপারে লেখা থাকে না।

কিছুর ব্যাপারে লেখা থাকে না, তালকা
প্যারিস ও লন্ডন শহর
চাঁদ যেখানে বেরোয়
আর সূর্য লুকিয়ে পড়ে।

সান পাবলোর রাস্তায়
জিনিষ হুল ফোটায়
সারডিন মাছের মত হাঁটে
প্রজাপতিরা।

ওদের কটা তরমুজ ছিল
আর কিছু খরমুজ
যাদের সাথে রোপন করেছিল
সব কটি মন।

রোসিতা মারতিনেস
বিজোড় সংখ্যা
বের হয়েছিল লুঠতরাজ
থেকেছিলেন প্যান্টির ভেতর।

আর গ্লোরিয়া আস্তুদিও
কম যাবেন না বলে
টেনে বের করেছিলেন আসন
আর দুধ ঢাকার অন্তর্বাস।

দুধ ঢাকার অন্তর্বাস, হ্যাঁ
দোমিঙ্গো পেরেস
টিকটিকির মত
হয়ে যায় নারীরা।

হয়ে যায় নারীরা, হ্যাঁ
পেরেস দোমিঙ্গো
সাফ করুন বগলতলি
নিয়ে সাবান গ্রিঙ্গো।

ফোকলা দাঁত এক বুড়ি
নেমে আসে নিচে
আর চেয়ে চেয়ে দেখে সে
স্কার্টের তলা তক।

এবং অন্য এক বুড়ি বলে তাকে
আপেলরা নাশপাতিরা
বেশ যাই হোক আপনি পাশ কাটিয়ে যান
গোপন আসব পসারিণী।

গোপন আসব পসারিণী, হ্যাঁ
ভাগ্যের বলে ভাঙা
তারা নেচে যেতে পারে দীর্ঘ কুয়েকা নৃত্য
যতক্ষণ না হয় মরা।

(সাপাতেয়াদো আর এসকোবিইয়াদো নাচ)

আমি কোইউয়েকোর বাসিন্দা নই
আমি নিবিলিন্তোর লোক
যেখানে চাষিরা চিবিয়ে খায়
রক্ত রাঙা ওয়াইন আসব।

জন্মেছিলাম পোর্তেসুয়েলো
বড় হয়েছি ন্যিয়ানকোয়
পুলিশ যেখানটায়
চান করে সাদা ওয়াইন সুরায়।

আর মরে যাব সান ভিসেন্ত শহরের
লাস ভেগাসে
যেখানে দুবলারা ভেসে বেড়ায়
জ্বলন্ত জলে।

শুদ্ধ জ্বলন্ত জলে
জল সহযোগে চিচা সোডা
এক বুড়োর জন্য যে মরে যায়
জন্ম নেয় দুইজন খোকা।

জন্ম নেয় দুই খোকারা, হ্যাঁ
তলানিওয়ালা সোডা চিচা
তেমন কোনো নারী নেই যাকে
সে করে সহায়তা।

সান মাউরিসিও-র পথে
সেতু বেয়ে চলে যেতে যেতে
আমি প্রায় তলিয়ে যেতে থাকি
প্রথম অবস্থা থেকে।

আর সান মাতেও র সেতু
অতিক্রম করে যেতে যেতে
গায়ে জড়িয়ে যায় একটা বস্তা
আমায়... কুৎসিত দেখাত।

(মুরগীর ত্রিপা পদের প্রতি)

পাহাড়ের চুড়ায়
হাজার নওলখা হার থেকে
দুই নর্তকী দিয়ে দিতেন
দাঁতের সঙ্গে দাঁত।

দাঁতের সঙ্গে দাঁত, হ্যাঁ
আলু দিয়ে সামুদ্রিক শ্যাওলা
দুইটি পাখি দিত
শস্যের সঙ্গে শস্য মিশিয়ে।

শস্যের সঙ্গে শস্য মিশিয়ে, হ্যাঁ
আলিঙ্গন ও চুম্বন
মৃত্যুর পরোয়ানারা দিত
হাড়ের সঙ্গে হাড়।

হাড়ের সঙ্গে হাড়, ইতিমধ্যেই হ্যাঁ
পাঞ্চো ফ্রান্সিসকো
আপনি তো ভাবছেন না
আমি যে তহবিলের লোক।

আমি যে তহবিলের লোক, হ্যাঁ
নাইটিংগেল পাখিরা
কখনও শ্রান্ত হয় না
ফুল তুলতে তুলতে।

হাঁচি হাসি নয়
হাসি নয় কান্না
পার্সলে পাতা ভাল
তবে ততটাও না।

আসুন, কাঁদতে কাঁদতে হাসুন
শেষ হয়ে যায় সঙ্গীত।

(ত্রিপা একটি মেক্সিকান খাবার পদের নাম)


অনুবাদক পরিচিতি :
  
জয়া চৌধুরী রামকৃষ্ণ মিশন, গোলপার্কে স্প্যানিশ ভাষার শিক্ষক। গত কয়েক বছর ধরে তিনি অনুবাদ চর্চায় রত। মূলত স্প্যানিশ-বাংলা-স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদ করেন তিনি। প্যারাগুয়ে দূতাবাস থেকে ২০১৩ সালে একটি উপন্যাস ও একটি কাব্যগ্রন্থের দুটি অনুবাদ বই প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়াও ছোটগল্প সঙ্কলন ও নাটকের অনূদিত দুটি বই গত বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে। বেশ কিছু  সাময়িকী, সংবাদপত্র আনন্দবাজার পত্রিকা’, ঢাকা থেকে প্রকাশিত ভোরের কাগজইত্যাদিতে তাঁর বেশ কিছু অনুবাদ ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মঞ্চে নিয়মিত নাটক করেন তিনি, বাংলা ও স্প্যানিশ দুই ভাষাতেই।  সম্প্রতি মৌলিক কবিতাও কয়েকটি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে।

0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন