![]() |
| কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৪৭ |
কথা
“যে কথা সকল মানুষের মঙ্গল সাধন করে, সেই কথাই জিজ্ঞাসা করা উচিত! হে পার্বতী..."
নেতাজি-ইন্ডোর স্টেডিয়ামের সামনে বাসটা থামতেই নেমে পড়ল রঞ্জনা।একটু আগেও তার গন্তব্য ছিল গড়িয়াহাট। মাইকে ছুটে আসা শব্দগুলো তাকে প্রায় সম্মোহন করল। প্ল্যাকার্ডে এক বৃদ্ধের ছবি। চোখদুটি করুণাপূর্ণ। লেখা আছে, শিবপুরাণ-কথা। গেটের সামনে একজন লোক চেয়ারে বসে। রঞ্জনা জিজ্ঞেস করল, 'এখানে কি টিকিট কাটতে হয়?' ভদ্রলোক স্মিতহেসে বললেন, 'নিশুল্ক্! অন্দর যাইয়ে’।
সাধু কম্বুকন্ঠে বলে চলেছেন, 'কথা
আমাদের শুদ্ধ করে। সন্দেহ দূর করে! ভ্রান্তি ও বিভ্রান্তি মুছে দেয় এবং আসক্তি কমায়!'
কথা? অনিকেতের সঙ্গে আর কোনো কথা
হতে পারে? ভেতরের দহনটা আবার টের পেল রঞ্জনা। ভ্রান্তি, বিভ্রান্তি, আসক্তি... শব্দগুলো
তার চেতনায় ধাক্কা মারছে।
প্রায় বছরখানেক হল অনিকেত নর্থবেঙ্গলে
বদলি হয়েছে। শুরুতে রঞ্জনা গিয়ে তার কোয়ার্টার সাজিয়ে দিয়ে এসেছিল। পরেও কয়েবার গেছে।
তার নিজের চাকরি কলকাতায়। সেটা ছেড়ে স্বামী-অনুগামিনী হওয়া সম্ভব ছিল না।
ইতিমধ্যে ধীরে ধীরে ফোনকলের সংখ্যা
কমতে লাগল। দরকারি মেসেজও আর রিড হয় না তেমন। রঞ্জনা দিন পাঁচেকের ছুটি নিয়ে সোজা নর্থবেঙ্গল
রওয়ানা দিল।
অনিকেতের একার সংসারে এবং মনের
ঘরে অন্য কোনো নারীর গন্ধ স্পর্শ রঞ্জনার নজর এড়ায়নি। তিনদিনের মাথায় সে ফিরে আসে।
রঞ্জনা জানে, দুদিকে সমানভাবে ধরে
না রাখলে সম্পর্কের ইলাস্টিসিটি নষ্ট হয়। সম্পর্ক ভাঙেও একদিক থেকেই। কারণ মানুষ বদলে
যায়। তার চাওয়াগুলোও বদলে যায়। অনুভূতিগুলো দিশা বদলায়। এসবের মধ্যে ভুল নেই কোথাও।
তবু মেনে নিতে বড় কষ্ট হয়! তাই এই শূন্যতার সঙ্গে কিছুদিন একলা থাকবে রঞ্জনা। হয়ত
আজকের এই 'কথা' তাকে আশ্রয় দেবে। নতুন কথার পথ খুলে দেবে। হয়ত দেবে না!

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন